শেষ আপডেট: 16 April 2026 20:20
নববর্ষে মিষ্টিমুখ সমর্থকদের
সেই কবে থেকে প্রথা চালু, বাংলা নব বর্ষের দিন ময়দানে বার পুজো ও মিষ্টি বিতরনের উৎসব। এবারও তার অন্যথা হয়নি।
শত্রুও আজ মিত্র!
বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা ময়দানে ছোট বড় মেজ ক্লাবের কর্তাদের মুখে নির্মল হাসি। এদিন আর কোনও মলিনতা নেই, নেই কোনও বিভেদ। বরং শত্রুও আজ মিত্র! ময়দানে এমন কিছু ক্লাব আছে যাদের অস্তিত্ব কোনও রকমে টিকে আছে। সেই ক্লাবের কর্তারাও আজ কোনও হিসেব নয়, বরং যারাই তাঁদের ক্লাবে এসেছে সকলকে মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। এটাই সার্থকতা খেলার।
প্রবল তাপপ্রবাহেও তুমুল আবেগ
বাংলায় এবার ভোটের উত্তাপ রয়েছে। আর কিছুদিন পরেই বিধানসভা নির্বাচন হবে। কিন্তু এপ্রিলের শুরু থেকেই যেভাবে তাপ প্রবাহ বৃদ্ধি হচ্ছে সেটাও চিন্তার কারণ। কিন্তু সেই গরমকে উপেক্ষা করে সাত সকালেই মাঠে হাজির ফুটবল সমর্থকরা। মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলে উৎসাহ উদ্দীপনা বেশি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সুপার ডিভিশনের অন্য ক্লাবগুলিতেও আবেগের অন্ত নেই। মোহনবাগান ক্লাবে সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বসু পুজোর পরে নারকেল ফাটিয়ে নতুন মরশুম শুরুর ডাক দিয়েছেন। সৃঞ্জয় বসু জানিয়েছেন, আইএসএল খেতাব জয় এবারও আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু চাই সার্বিকভাবে বাংলার ফুটবল এগিয়ে যেতে পারে। মোহনবাগান ক্লাবে এসেছিলেন বউবাজার এলাকার কাউন্সিলর এবং বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থার সহ সভাপতি বিশ্বরূপ দে।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে কল্যাণ
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে হাজির ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। একদা তিনি লাল হলুদ জার্সি গায়ে গোলপোস্টের নিচে দুর্ভেদ্য ছিলেন। সেই মাঠে প্রবেশ করে আবেগ বিহ্বল কল্যাণ। তাঁকে দেখা গিয়েছে ক্লাবের নামী কর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে সারা মাঠ প্রদক্ষিণ করছেন। লাল হলুদ ক্লাবেও ভালবাসার চাদরে ঢেকে দিয়েছেন সমর্থকরা। আইএসএল ম্যাচে আবারও ছন্দে ফেরার চেষ্টায় ইস্টবেঙ্গল। বার পুজো শেষে কর্তা থেকে সমর্থকদের ফুটবল দেবতার কাছে প্রার্থনা, এবার অন্তত ট্রফি আসুক আমাদের ক্লাবে।
মোহনবাগানের সৃঞ্জয় আবার ভবানীপুর ক্লাবেরও শীর্ষ কর্তা। তিনি নিজের পারিবারিক ক্লাবেও এসে পুজোর তদারকি করেছেন। ছিলেন তাঁর ছায়া সঙ্গী বাপ্পা ঘোষ। সেখানেও দেদার মিষ্টি দই খাওয়ানো হয়েছে সবাইকে।

ছোট ক্লাবেও দেদার উৎসব
পিছিয়ে নেই ময়দানের অন্য দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হাওড়া ইউনিয়ন এবং জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবও। তাদের ক্লাবে সকালে বারপুজো শেষে সবাই মিলে দেদার আড্ডা এবং আগামী মরশুমে আরও কী করলে ভাল করা যায় সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের দুই নামী কর্তা অনির্বাণ দে এবং দেবরাজ দে জানিয়েছেন, এইদিন আমরা ক্লাবের সবাই মিলে বসে খাওয়া দাওয়া করে ফুটবল নিয়ে আলোচনায় মাতি। এই উৎসব আমাদের মাঠের কর্তাদের কাছে পরম পাওয়া। এই উৎসব চিরন্তন হয়ে থাকবে। পাশাপাশি জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাবের কর্তা তথা আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত এবং অধিরাজ দত্তরা হাজির থেকে ক্লাবের এই বিশেষ আবহের দিনে বাংলা ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।