The Fourth Axis

মহব্বতনামা: হসরত জয়পুরির বর্ণময় জীবনের যাত্রাপথ (পর্ব ২)

hasrat-jaipuri-episode2

মহব্বতনামা: হসরত জয়পুরির বর্ণময় জীবনের যাত্রাপথ (পর্ব ২)

শেষ আপডেট: 19 April 2026 11:00

বেশ কিছুদিন বাদের কথা, ঠিক এরকমই এক মুশায়েরাতে হসরত দৃপ্ত কণ্ঠে পড়ছিলেন তাঁর নিজের লেখা কবিতা – ‘এক মজদুর কি মৌত’। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিখ্যাত অভিনেতা ও প্রযোজক পৃথ্বীরাজ কাপুর। হসরতের লেখা পৃথ্বীরাজকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। পৃথ্বীরাজ তাঁকে তাঁর পুত্র রাজ কাপুরের কাছে নিয়ে যান, রাজ কাপুর সে সময় সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর-জয়কিষণ-এর সঙ্গে ‘বরসাত’ (১৯৪৯) চলচ্চিত্রের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তাঁর প্রয়োজন একজন যোগ্য গীতিকারের। বাবার সুপারিশে রাজ কাপুর তাঁর এই ছবিতে সুযোগ দিলেন জয়পুরিকে, আর জয়পুরি লিখলেন হিন্দি সিনেমার জন্য প্রথম গান – ‘জিয়া বেকরার হ্যায়’ আর ওই ছবির জন্যই আর একটি গান – ‘ছোড় গয়ে বালম’। সিনেমার সাথেই সুপারহিট হলো এই দুটি গান। এরই সাথে গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন হসরত জয়পুরি। শুধু তাই নয়, রাজ কাপুর, শঙ্কর-জয়কিষণ আর হসরত জয়পুরির মিলিত সত্তায় রচিত হলো হিন্দি রোম্যান্টিক সিনেমার এক অনন্য জয়যাত্রার,যাকে অনেকেই হিন্দি সিনেমার সোনালি যুগ বলে অবিহিত করেন। এরপর জয়পুরিকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি, আরো এক গীতিকার শৈলেন্দ্রর সাথে জয়পুরী ১৯৭১ পর্যন্ত রাজ কাপুরের সমস্ত চলচ্চিত্রের জন্য গান লেখেন। তাঁর কলম হয়ে ওঠে ভালোবাসা ও জীবন দর্শনের জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।

জয়কিষণের মৃত্যুর পরে ও মেরা নাম জোকার (১৯৭০) এবং কাল আজ অউর কাল  (১৯৭১)-এর পরে, রাজ কাপুরের সাথে জয়পুরির জুটি ভেঙে যায়। হসরত স্বাধীন গীতিকার হিসেবে একাধিক গান রচনা শুরু করলেন। তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী গীতিকার শৈলেন্দ্র যখন ‘তিসরি কসম’ -এর প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তখন শৈলেন্দ্র’র অনুরোধে জয়পুরি সেই ছবির জন্য বেশ কয়েকটি গান রচনা করলেন। ১৯৮৫ সালে ‘রাম তেরি গঙ্গা ম্যাইলি’  ছবির সুত্র ধরে রাজ কাপুর  এবং জয়পুরি জুটি বাঁধলেন ফের । জয়পুরির কলম থেকে উঠে এল কালজয়ী হিন্দি গান – ‘সুন সাহেবা সুন’, যা স্পর্শ করে জনপ্রিয়তার অন্যতম মাইলস্টোন।

গীতিকার হিসাবে তার শেষ কাজহত্যা: দ্য মার্ডার, ছবিটি তাঁর মৃত্যুর পর  ২০০৪ সালে মুক্তি পায়।

(আগামীকাল তৃতীয় ও শেষ পর্ব)