শেষ আপডেট: 18 April 2026 09:00
পর্ব ১
শুরুয়াৎ
“জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা…” –
আজ এই স্বার্থসর্বস্ব দুনিয়াদারির মাঝে রিল ও রিয়্যালের গুলিয়ে যাওয়া সময়ে কখনো যদি ভীষণ ক্লান্ত কিংবা একা লাগে তখন আমাদের জন্য দুহাত বাড়িয়ে ভালোবাসার ডানায় ভর করে জীবনকে বুঝতে চাওয়ার রাস্তা খুলে দেন তিনি। মনখারাপের রাতে প্রিয়তমার জন্য লিখে দিতে পারেন প্রেমপত্র। তিনি ভারতীয় উর্দু কবি তথা হিন্দি চলচ্চিত্রের অসাধারণ গীতিকার – হসরত জয়পুরি। গত ১৫ এপ্রিল নীরবে চলে গেল তাঁর ১০৪-তম জন্মদিন।
নাম ছিল ইকবাল হুসেন। ১৫ই এপ্রিল, ১৯২২ সালে ব্রিটিশ অধীনস্থ ভারতের রাজপুতানার জয়পুরে জন্মগ্রহন করেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। শৈশব থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। মামাবাড়িতে কবিতা তথা শায়েরির গভীর চর্চার সাহচর্যে উর্দু ভাষার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। আর মাতামহ কবি ফিদা হুসেন ‘ফিদা’’র কাছে চলতে থাকল উর্দু ও ফারসি ভাষার তালিম। গোলাপি শহরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর জীবনবোধ অল্প অল্প করে দানা বাঁধছিল ইকবালের কৈশোর যাপনে আর এই সব কিছুর মাঝেই বয়সের ধর্ম মেনে শহুরে হাওয়া ছুঁয়ে গেলো তাঁর শরীর আর মনে রঙ ধরলো গোলাপি।
বয়স তখন আঠারো কি বিশ, হৃদয়ে তাঁর উথাল পাতাল ঝড় তুললো পড়শির এক মেয়ে – ‘রাধা’। মুহূর্তে ঘটে গেলো বিপর্যয়, মহব্বতের হসরত নিয়ে রাধাভাবে মন মজলো। জীবন বইলো অন্য খাতে। ইজহার করতে না পারার বিরহগাথা জন্ম দিলো মায়ানগরীর মায়াশব্দকর – হসরত জয়পুরি-র। প্রথমবারের জন্য নিজের অব্যক্ত অনুভুতিকে শব্দে লিপিবদ্ধ করলেন, লিখলেন প্রেমপত্র। কিন্তু এই চিঠি কখনও পেরোতে পারল না প্রেয়সীর চৌকাঠ। বাধ সাধল দুটি মানুষের ধর্মের ভিন্নতা কিংবা দেশের তৎকালীন সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি অথবা গুমনামী প্রেমিকের চিরকালীন নীরবতা।
সাল ১৯৪০, মাতামহের অনুপ্রেরণায় আর ডাকবাক্সে না ফেলা এক আকাশ প্রেমপত্রকে সম্বল করে ইকবাল পৌঁছলেন মায়ানগরী তখনকার ‘বম্বে’-তে (Bombay),অধুনা ‘মুম্বই’ (Mumbai)। মাসিক এগারো টাকার বিনিময়ে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে শুরু করলেন জীবন-জীবিকা। অসংখ্য উদ্বাস্তু শ্রমিকদের সাথেই থাকতে শুরু করলেন ফুটপাতে। কিন্তু অন্তরে কবি ও প্রেমিক হসরত সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যাবেলায় অংশ নিতে শুরু করলেন বিভিন্ন মুশায়রায়, যেখানে তিনি ইকবাল নন, এক স্বতন্ত্র প্রেমিকসত্তা ও নিজের শহুরে গরিমার জীবন্ত প্রতিনিধি – হসরত জয়পুরি। জীবনের তাগিদে আরও বহুদূর যাবেন হসরত। এক বর্ণময় পথ রাখা আছে তাঁর সামনে, তখনও তা অজানা হসরতের কাছে…
(আগামীকাল পর্ব ২)