The Fourth Axis

মহব্বতনামা – হসরত জয়পুরির জীবনের যাত্রাপথ (শেষ পর্ব)

hasrat jaipuri

মহব্বতনামা – হসরত জয়পুরির জীবনের যাত্রাপথ (শেষ পর্ব)

শেষ আপডেট: 20 April 2026 12:45

“এবারে বিদায় নিথর বুকে…”

১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ সাল। দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে অসুস্থতার পর ভালোবাসার বারান্দা শূন্য করে চলে গেলেন হসরত জয়পুরি।

তাঁর জীবদ্দশায় শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে অর্জন করেছেন দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। উর্দু সম্মেলন থেকে সম্মানিত হয়েছেন জোশ মালিহাবাদি সম্মানে। ব্রজভাষায় ‘ঝনক ঝনক তোরি বাজে পায়ালিয়া ‘ লেখার জন্য পেয়েছেন ডঃ আম্বেদকর পুরস্কার।  ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি রাউন্ড টেবিল তাঁকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে সম্মানিত করেছে।

তাঁর জীবনে আরেকজন মানুষের প্রভাব এবং অনুপ্রেরণা অনস্বীকার্য – তিনি হলেন জয়পুরির সহধর্মিণী, রাধা। যার পরিণত সিদ্ধান্তের ফলে জয়পুরিকে কখনো অভাব কিংবা আর্থিক কষ্ট অনুভব করতে হয়নি এবং তিনি সারাজীবন তাঁর কাজ ও শিল্পচর্চায় মনোনিবেশ করতে পেরেছেন। আসলে বোধহয় হৃদয়ে এতখানি মহব্বত থাকলে হয়তো চরম প্রেমময় এমনই জীবনসাথী উপহার দেন, যে সামলে নেয় সবকিছু এবং যার সাহচর্যে বিকশিত হয় মহব্বতনামা।

বাঁদিকে: ধর্মেন্দ্র, জয়পুরি ও রাজ কাপুর। ডানদিকে: পুরস্কার হাতে হসরত জয়পুরি। ছবি: Google

সাইওনারা সাইওনারা, বদন পে সিতারে লাপেটে হুয়ে, তেরী প্যারি প্যারি সুরত কো, এহসান তেরা হোগা মুঝ পর, ইয়ে মেরা প্রেম পত্র পড় কর, দুনিয়া বানানেওয়ালে – বোম্বের (অধুনা মম্বই) হিন্দি চলচিত্রের একাধিক অপূর্ব প্রেমময়  গীত রচনা করে হসরত আমাদের নিয়ে যান এক মায়াবী দুনিয়ায়। তাঁর লেখনী মেইনস্ট্রিম শিল্পের আঙ্গিনায় যেমন চরম জনপ্রিয়তা অর্জন করে ঠিক তেমনিই অন্তরে অন্দরে জারণ করে ভালবাসার সুতীব্র দার্শনিক জিঞ্জাসা, যা প্রসারিত করে আমার-আপনার মতো অতি সাধারণের হৃদয়ভূমি আর চেতনার যাত্রাপথ।

তাইতো হসরত জয়পুরি চোখে চোখ রেখে দৃপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন – “প্রেম কোন ধর্মই জানে না। প্রেমের একমাত্র ধর্ম – প্রেম!”

(শেষ)