শেষ আপডেট: 16 April 2026 21:24
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি নতুন বিল ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। মোদী সরকারের প্রস্তাবিত ‘মাদার বিল’ অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৮১৫। কিন্তু বির্তকের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—এই আসন বিন্যাসের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে ২০১১ সালের পুরনো আদমশুমারির তথ্যকে।
কেন এই ক্ষোভ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলোতে (যেমন উত্তরপ্রদেশ, বিহার) জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। যদি নতুন আসন সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারিত হয়, তবে হিন্দি বলয়ের ৬টি রাজ্যের আসন সংখ্যা ১৯৫ থেকে বেড়ে ৩২৮ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্টোদিকে, দক্ষিণের ৫টি রাজ্যের আসন বাড়বে সামান্যই। এর ফলে লোকসভায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, সংসদের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভা আসন পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) যে প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে, তা আসলে দেশকে বিভক্ত করার জন্য আরএসএস-চালিত বিজেপি সরকারের আরও একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। উন্নত মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) এবং ফলস্বরূপ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এই ডিলিমিটেশনের আড়ালে হিন্দুত্ববাদের প্রভাবে থাকা উত্তর ভারতের এলাকাগুলোতে লোকসভা আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া হবে।
বিরোধীদের অবস্থান
তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবকে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত’ বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভালো জনতাত্ত্বিক পারফরম্যান্সের জন্য দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে পুরস্কৃত করার বদলে উল্টে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো যদি একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করে, তবেই এই পরিবর্তন আটকানো সম্ভব। কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। একদিকে মহিলাদের আসন সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে সংসদের আকার বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।