The Fourth Axis

মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন: আজ, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, শুক্রবার, বিকেল ৪টেয় লোকসভায় তিনটি বিলের ওপর ভোটাভুটি

মহিলা বিল পাস করাবার পর মহিলা সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন: আজ, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, শুক্রবার, বিকেল ৪টেয় লোকসভায় তিনটি বিলের ওপর ভোটাভুটি

শেষ আপডেট: 17 April 2026 14:00

মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন সংশোধন এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে আনা তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আজ, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠতে পারে লোকসভা। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বিতর্ক শেষে আজ বিকেল ৪টেয় এই বিলগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এই বিলগুলির মধ্যে রয়েছে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল ২০২৬ এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬।

বিলের মূল লক্ষ্য ও মহিলা আসন সংরক্ষণ

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বৃহস্পতিবার এই বিলগুলি পেশ করেন। প্রস্তাবিত এই আইন পাস হলে লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি বাস্তবায়িত করার পথ প্রশস্ত হবে। যদিও বিরোধী পক্ষ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল, তবে ভোটাভুটির পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলগুলি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা ও কেন্দ্রের আশ্বাস

বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ। ডিএমকে নেতা এ রাজা এবং কংগ্রেস সাংসদ মানিকাম টেগোরের মতো বিরোধী নেতাদের দাবি, বর্তমান আকারে এই বিল পাস হলে উত্তর ভারতের তুলনায় তামিলনাড়ু, কেরালা বা তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলি আনুপাতিকভাবে লোকসভায় তাদের প্রভাব হারাবে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বস্ত করে বলেছেন, আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়লেও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অংশীদারিত্ব আনুপাতিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিরোধী শিবিরের তোপ ও জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবি

অন্যদিকে, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং অখিলেশ যাদবের মতো নেতারাও সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মিম প্রধান ওয়াইসির মতে, এই আইন পাস হলে সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাবে। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির নারী ক্ষমতায়নের সদিচ্ছা নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নারীদের শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতিভিত্তিক জনগণনা কেন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আর্জি ও সংসদীয় রাজনীতির মোড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য সব বিরোধী দলকে এই বিল সমর্থনের আর্জি জানিয়েছেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, বিরোধীরা এই বিলের বিরোধিতা করলে আসলে তাঁরই রাজনৈতিক লাভ হবে। সব মিলিয়ে, ১২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ বিতর্কের পর আজকের ভোটাভুটি ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।