শেষ আপডেট: 15 April 2026 10:47
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে জীবনযাত্রা। দ্রুততার এই যুগে রান্নাঘরেও এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময় শিল-নোড়ায় মশলা বাটার যে পরিচিত শব্দ ছিল, তা এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। তার জায়গা দখল করেছে বাজারচলতি প্যাকেটের গুঁড়ো মশলা। সহজলভ্যতা ও সময় বাঁচানোর সুবিধায় এই মশলার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি?
বাজারে বিক্রি হওয়া বহু গুঁড়ো মশলায় সংরক্ষণ ও রং বজায় রাখতে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য ইথিলিন অক্সাইডের মতো পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।
এছাড়াও, ওজন ও রং বাড়াতে চকের গুঁড়ো, কৃত্রিম রং, এমনকি ইটের গুঁড়ো পর্যন্ত মেশানোর নজির পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষায়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, কিছু ক্ষেত্রে ক্যাডমিয়াম বা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও ধরা পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত গুঁড়ো মশলায় প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ কমে যায়, ফলে তার পুষ্টিগুণ ও গন্ধ—দুটোই হ্রাস পায়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে ই. কোলাই বা টাইফয়েডের জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের মশলা খেলে বদহজম, পেটের গোলমাল, গলা ও বুক জ্বালা, এমনকি জ্বর বা পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, গোটা মশলার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এতে ভেজালের সম্ভাবনা কম থাকে এবং রান্নায় ধীরে ধীরে সুগন্ধ ছড়িয়ে খাবারের স্বাদ বাড়ায়। হলুদ, দারুচিনি, এলাচ বা গোলমরিচ—প্রতিটি মশলার নিজস্ব ভেষজ গুণও বজায় থাকে বেশি।
তাহলে উপায়?
সম্ভব হলে গোটা মশলা কিনে বাড়িতেই গুঁড়ো করে ব্যবহার করা উচিত। বাজারচলতি গুঁড়ো মশলা কিনতে হলে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা বিক্রেতা বেছে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে তৈরি, FSSAI অনুমোদিত পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা। সুবিধার সঙ্গে সচেতনতার ভারসাম্য বজায় রাখলেই রান্নাঘর যেমন থাকবে সহজ, তেমনই সুরক্ষিত থাকবে স্বাস্থ্যও।