

১৯৭৫-এর ঐতিহাসিক ডার্বির ৫১ বছর। ছবি - Google
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল একপ্রকার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মোহনবাগানকে। খেলার তিনদিন পরেও সবুজ মেরুন ফুটবলাররা বাড়িতে নিজের পাড়ায় ফিরতে পারেননি। এমন লজ্জা তাঁদের ফুটবল জীবনে আর ঘটেনি।
গতবছরই গোল্ডেন জুবিলি বর্ষ ছিল ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের। এবার সেই সময় বেড়ে পা দিল ৫১ বছরে। তারপরেও ময়দানে শোনা যায় ওই ডার্বি ম্যাচের কথা, যেখানে ইস্টবেঙ্গল ৫-০ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগানকে। আজও সেই রেকর্ড অক্ষত রেখেছে লাল হলুদ দল।
৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল একপ্রকার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মোহনবাগানকে। খেলার তিনদিন পরেও সবুজ মেরুন ফুটবলাররা বাড়িতে, নিজের পাড়ায় ফিরতে পারেননি। এমন লজ্জা তাঁদের ফুটবলজীবনে আর ঘটেনি। ওই ম্যাচে মোহনবাগানের গোলের নিচে ছিলেন ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি চারটি গোল খেয়েছিলেন, তারপর তাঁকে তুলে নেন মোহনবাগানের কোচ অরুণ ঘোষ, পরে নামেন প্রশান্ত মিত্র, তিনিও একটি গোল শেষে হজম করেছিলেন।
সেই ম্যাচের কথা বলতে গেলে এখনও শিউরে ওঠেন ভাস্কর। তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওটা আমাদের জীবনে খারাপ দিন ছিল একটা, তারপর আমরা পরের সাক্ষাতে ইস্টবেঙ্গলকে দুই গোলে হারিয়েছিলাম। আর আমরা সেই ম্যাচে স্নায়ু হারিয়েছিলাম। তবে ভাস্কর এও জানাতে ভোলেননি, তিনি তারপর ওই ফর্ম থেকে প্রত্যাবর্তন করে ভারতীয় দলের একনম্বর গোলরক্ষক হয়েছিলেন, এবং দলের অধিনায়কও হন। ভাস্কর আরও বলেছেন, "সবথেকে বড় কথা, আমি নিজেকে প্রমাণ করেছিলাম বলেই ইস্টবেঙ্গলও আমাকে পরেরবছর নেয়, আর আমি দেশের সেরা গোলরক্ষকও হই। তাই আমি জানাতে চাই, কোনও ঘোর ব্যর্থতার পরেও ভেঙে পড়ো না, উঠে দাঁড়াও। আমি স্বামীজির এই কথাকে এখনও মানি।"
সেদিন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলের খাতা খুলেছিলেন শ্যাম থাপা। তাঁর পা থেকেই এসেছিল জোড়া গোল। এরপর একে একে জালে বল জড়ান সুরজিৎ সেনগুপ্ত, রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় এবং শুভঙ্কর সান্যাল। ওই ম্যাচের অন্যতম নায়ক রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় সোদপুর পানিহাটির বাড়ি থেকে জানিয়েছেন, ওই ম্যাচের স্মৃতিকে কী ভোলা যায়! যতদিন বাঁচব, ওই সোনালি স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকব।
রঞ্জিতের আরও বক্তব্য, "ওই ম্যাচের আগে আমাদের দলের ফুটবলারদের ভোকাল টনিক দিয়েছিলেন কোচ প্রয়াত পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আমাদের বলেছিলেন, আজ মাঠে নেমে স্মরণীয় করে রাখ তোরা। ওই ম্যাচে শ্যাম (থাপা) দুরন্ত ফর্মে ছিল, ও একাই শেষ করে দিয়েছে মোহনবাগানকে, আমি ওর পাশে খেলেছিলাম। আমার দৌড় থামাতেও মোহনবাগান ডিফেন্সের ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছিল।"
কলকাতা ডার্বিতে জয়-পরাজয়ের হিসেব সময়ের সঙ্গে বদলেও যায়। বদলায় প্রজন্ম, পরিবর্তন হয় ফুটবলার, বদলায় মাঠের ছবিও। কিন্তু কিছু স্কোরলাইন সময়কে হার মানায়। ওই স্কোরলাইন একটা সময়কে এখনও গর্বিত করে। মোহনবাগান তারপর ইস্টবেঙ্গলকে পাঁচ গোল দিলেও গোলও হজম করেছে পালটা। কিন্তু লাল হলুদের ওই ক্লিন-শিট জয় ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। ওই ম্যাচ নিয়ে লাল হলুদের এই মুহূর্তের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, "ওই ম্যাচ আমাদের ইস্টবেঙ্গল প্রেমীদের জন্য মহাদলিল হয়ে রয়েছে। যতদিন না আরও একটা পাঁচ গোলের ব্যবধানে জয় পাব, ততদিন ওই ম্যাচের স্কোর অমর হয়ে থাকবে। আমাদের পরিকল্পনাও রয়েছে ওই ম্যাচের জীবিত ফুটবলারদের আগামী দিনে সংবর্ধিত করার। এর আগে আমরা গতবছরই ক্লাব দিবসে সম্মান জানিয়েছিলাম, আবারও সেরকম একটা ভাবনা রয়েছে।"
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
