

এশিয়ান গেমসে মার্শাল আর্টসে ব্রোঞ্জ জিতলেন সূচিকা তারিয়াল। ছবি - Google
২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মার্শাল আর্টের ‘ব্রেক টাই বাই ওয়েট’ নিয়মে ফাইনালে যাওয়ার ছাড়পত্র পান সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগী। ফলে ইতিহাস গড়েও ব্রোঞ্জেই খুশি থাকতে হল সূচিকা তারিয়ালকে।
জাপানে ফিরল ভিনেশ ফোগতের আক্ষেপের স্মৃতি। অলিম্পিকে তাঁর শরীরের ওজন বেড়ে গিয়েছিল, যে কারণে তিনি সোনা পাননি। শুধু তাই নয়, এর জন্য নিশ্চিত হওয়া রুপোও হাতছাড়া হয়। এই নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সেই কষ্ট ও আক্ষেপের স্মৃতি সূচিকা তারিয়ালের হাত ধরে ফিরল এশিয়ান গেমসে।
ভিনেশ ফোগতের জায়গায় এবার ভারতের মার্শাল আর্টস ফাইটার সূচিকা তারিয়াল। তাঁর সমস্যা আবার ৭০০ গ্রাম ওজন কমে গিয়েছিল, যে কারণে তিনি ওই ক্যাটাগরিতে সোনা পেলেন না, বেশি যোগ্যতা দেখিয়েও ব্রোঞ্জ জিতে সন্তুষ্ট থেকেছেন। যা কিছুটা হলেও সান্ত্বনার কাজ করেছে।
মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল ৬০ কেজি বিভাগের মার্শাল আর্টস সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তে-এর মুখোমুখি হন ৩৬ বছরের সূচিকা তারিয়াল। শুরু থেকেই সেয়ানে সেয়ানে লড়াই চলছিল। যদিও প্রথম রাউন্ডে নিখুঁত বক্সিং পাঞ্চে লিড নিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের ফাইটার। দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে ম্যাচে ফিরেছিলেন সূচিকা। গ্র্যাপলিং ও টেকডাউনে দুরন্ত ছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময় শেষে লড়াই গড়ায় এক মিনিটের ওভারটাইমে। সেখানেও কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি। কিন্তু শেষপর্যন্ত রেফারি সিঙ্গাপুরের ফাইটারকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। সবাই অবাক হয়ে যান, এমনকী সূচিকাও। ভেবেছিলেন ফাইনালে তিনিই পৌঁছলেন। পরে জানা যায়, তিনি ওই ক্যাটাগরিতে নেমেছিলেন ৭০০ গ্রাম ওজন কম নিয়েই। সেই কারণে তিনি ফাইনালে উঠতে পারেননি। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোচ তাঁকে সান্ত্বনা দিলেও তিনি পোডিয়ামে উঠে পদক নিতেও চাননি!
রেফারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানায় ভারতের কুস্তি ও মার্শাল আর্টস ফেডারেশন। নির্ধারিত ১,০০০ মার্কিন ডলার ফি জমা দিয়ে রিভিউয়ের আবেদন করে ভারতের এমএমএ ফেডারেশন। তিন বিচারকের পরিবর্তে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় ১০ জনের বিশেষ প্যানেলকে। দীর্ঘ পর্যালোচনার পরে বদলে যায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। বিশেষ প্যানেল জানায়, নির্ধারিত সময়ের লড়াইটি ড্র হয়েছিল। বাতিল করা হয় আগের ফলাফল। ম্যাচকে ঘোষণা করা হয় অমীমাংসিত।
এখানেই নাটকের শেষ হয়নি। কী করে ড্র ম্যাচে একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল, সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্যানেলের সদস্যরা দেখেন ওয়ার্নিং কে কতবার পেয়েছেন, আর শেষে দেখা হয় ওজন। সেখানে ৭০০ গ্রাম কম ছিল সূচিকার। তাঁর এই ঘটনার সঙ্গে অলিম্পিকে ভিনেশের ঘটনার মিল রয়েছে।
সকালে ফাইটে নামার আগে সরকারীভাবে যে ওজন নেওয়া হয়েছিল, সেখানে দেখা যায়, সূচিকার ওজন কম রয়েছে বিপক্ষের থেকে। ফলে ‘ব্রেক টাই বাই ওয়েট’ নিয়মে ফাইনালে যাওয়ার ছাড়পত্র পান সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগী। ইতিহাস গড়েও ব্রোঞ্জেই খুশি থাকতে হয়েছে আমাদের মেয়েকে।
এর আগে ভিনেশের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর ওজন বেশি হয়ে গিয়েছিল। সেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে গিয়েছিল। সেখানেও হারতে হয় ভিনেশকে, ফলে কোনও পদকই পাননি ভারতীয় নামী কুস্তিগির। কিন্তু সূচিকা পদক পেলেও ফাইনালে গেলে হয়তো তিনি সোনার জন্য লড়তে পারতেন, এটাই যা হতাশার।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
