৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ: কারা রাখে নাম, কেনই বা এই ব্যবস্থা?

নতুন নতুন নামকরণ ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আদৌ প্রয়োজনীয়? ছবি - Google

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ: কারা রাখে নাম, কেনই বা এই ব্যবস্থা?

calender icon 2 ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?

একের পর এক ঘূর্ণিঝড় আসে আর তার নতুন নতুন নাম দেখতে পাই আমরা। কোনটার নাম আমাদের পরিচিত শব্দগুলোর মধ্যে থেকেই থাকে, আবার কোনটা বেশ অপরিচিত। আমাদের জানার বাইরে। যত্ন করে ঘূর্ণিঝড়ের করে এমন নামকরণ কারা করে? যে দেশে ঘূর্ণিঝড়টা আছড়ে পড়ে, তারাই কি এই নাম দেয়? নাকি এটা নিয়েও রয়েছে জটিল কোন‌ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি?

এই উত্তরের সলুক সন্ধানের পাশাপাশি থাকল ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' নিয়ে সর্বশেষ আপডেট।

মূল বিষয়

আমফান, ইয়াস, সিত্রাং কিংবা হালের রিমাল- নামগুলো আমাদের সবার চেনা। বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরে যখনই কোনও নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, তখন তার নতুন একটা নাম সামনে চলে আসে। এটা শুধু এখানকার ঘটনা নয়, গোটা পৃথিবীজুড়েই তাই হয়ে চলেছে। কিন্তু এই অদ্ভুত নামগুলো কোথা থেকে আসে? কে ঠিক করে দেয় কোন সাইক্লোনের কী নাম হবে?

বিষয়টা কিন্তু মোটেও কোন‌ও দেশ বা সংস্থার ব্যক্তি ব্যক্তিগত মর্জিমাফিক হয় না। এর পেছনে লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক স্তরের এক নিখুঁত ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।

এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় আছে, প্রতিবছর বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগরে অসংখ্য নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। গভীর নিম্নচাপ মানেই সেটা ঘূর্ণিঝড় তেমন নয়। যখন কোন‌ও গভীর নিম্নচাপের ফলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার বা ৩৪ নটের বেশি হয়, কেবল তখনই সেটিকে ঘূর্ণিঝড়ের তকমা দেওয়া যায়। উল্লেখ্য পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে ৮০টির মতো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। যদিও তার বেশিরভাগই স্থলভাগ স্পর্শ করার আগে জলসীমাতেই শেষ হয়ে যায়। না হলে পৃথিবীতে ক্ষয়ক্ষতি বা ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেশি হত।

WMO এবং আঞ্চলিক বিভাজন

সারা পৃথিবীতে আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO)। বিশ্বজুড়ে মহাসাগরগুলোতে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর গতিবিধি নজরদারি করা এবং সতর্কতা জারির সুবিধার্থে এই ডব্লিউএমও (WMO) পৃথিবীর বিভিন্ন মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কয়েকটি বেসিন বা অববাহিকায় ভাগ করেছে।

এই বেসিন বা অঞ্চলগুলোর দায়িত্বভার পরিচালনার জন্য বিশ্বজুড়ে মোট ৬টি 'রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার' (RSMC) এবং ৫টি 'ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার' (TCWC) রয়েছে। এইগুলো সবই আবার WMO-এর ছাতার তলাতেই কাজ করে। প্রতিটি সমুদ্র অববাহিকা নির্দিষ্ট একটি RSMC বা TCWC-এর অধীনে থাকে এবং তারাই সেই অঞ্চলে উৎপন্ন ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের দায়িত্ব পালন করে।

গোটা পৃথিবীর মহাসাগরগুলোকে এরা আবার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করেছে। একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকে নির্দিষ্ট 'রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার' এবং 'ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার'। এই কেন্দ্রগুলো মূলত নিজের নিজের এলাকার ঝড়ের গতিবিধির উপর নজর রাখে। নামের বিষয়টি চূড়ান্ত করার দায়িত্বও তাদের‌ই থাকে।

ভারতের অবস্থান এবং সদস্য দেশ

ভারত আর তার আশেপাশের এলাকাগুলো এই বিভাজন অনুযায়ী উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আওতায় পড়ে। বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর দুটোই এর অংশ। এই এলাকার দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে নয়াদিল্লির 'ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট' বা IMD।

২০০০ সালে এই অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়গুলোর নাম দেওয়ার জন্য প্রথম একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি হয়। ২০০৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ভারতের প্রতিবেশী ৮টি দেশ এই প্যানেলের সদস্য ছিল- বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড ছিল প্রথম দিকের সদস্য। অনেক পরে ২০১৮ সালে আরব সাগর ও পারস্য উপসাগর লাগোয়া আরও ৫টি দেশকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এই জোনে যুক্ত হওয়া নতুন দেশগুলো হল- ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইয়েমেন। সব মিলিয়ে এখন সদস্য সংখ্যা ১৩।

কীভাবে ঠিক হয় নামের তালিকা?

এই ১৩টি দেশ মিলেই যৌথভাবে ঝড়ের নামগুলো ঠিক করে। পদ্ধতিটা বেশ মজার। প্রতিটি দেশ নিজেদের পছন্দমতো ১৩টি করে নামের প্রস্তাব জমা দেয়। ২০২০ সালে ভারতের আবহাওয়া দফতর এমন একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানে তেরোটি দেশের দেওয়া তেরোটি করে নাম ছিল। সব মিলিয়ে মোট ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের একটি লম্বা তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে কোনও নতুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেই ওই তালিকা থেকে পরপর নাম দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কোন ক্রমে নাম দেওয়া হয়?

কোন দেশের দেওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম আগে আসবে সেই নিয়েও একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। এই ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির ইংরেজি বর্ণমালার ক্রম বা অ্যালফাবেটিকাল অর্ডার মেনে চলা হয়। বর্ণমালা অনুযায়ী সবার প্রথমে বাংলাদেশের নাম আসে। তারপর ভারত, এরপর ইরান, মালদ্বীপ এইভাবে চলতে চলতে সবার শেষে আসে ইয়েমেন।

ধরা যাক এবারের ঝড়ের নাম ভারতের দেওয়া তালিকা থেকে নেওয়া হল। তাহলে ঠিক পরের ঝড়ের নামটি বাছা হবে ইরানের দেওয়া নামের তালিকা থেকে। এভাবেই চক্রাকারে গোটা প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ১৬৯টি নাম ফুরিয়ে গেলে আবার নতুন তালিকা তৈরি হবে। একটা কথা মাথায় রাখা হয়, একবার ব্যবহার করা নাম কখন‌ওই দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যায় না।

আরও পড়ুন
সেলেব নয়, হোর্ডিংয়ে বিজ্ঞানী: চিনের দৃষ্টান্ত ও ভারতের আত্মবিশ্লেষণ
নাৎসিদের পর আবার, জার্মানিতে ক্ষমতার দোরগোড়ায় উগ্র দক্ষিণপন্থীরা
প্রথম দু’জন জানতেনই না যে তাঁরা ‘দলাই লামা’!

এই নিয়মের কারণ হল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ট্র্যাকিং রাখার সুবিধা করে দেওয়া। যাতে একই নামের কারণে দুটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ে ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

কেমন নাম দেওয়া যায়, আর কেমন নয়?

এক্ষেত্রে কোন‌ও সদস্য দেশে ইচ্ছে হল আর যাইহোক একটা নাম দিয়ে দিল, বিষয়টা মোটেও এতটা সহজ নয়। নাম প্রস্তাব করার সময় দেশগুলোকে বেশ কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হয়।

নামগুলোকে হতে হবে একেবারে নিরপেক্ষ। রাজনীতি, ধর্ম বা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এমন কোনও শব্দ ব্যবহার করা চলবে না। নামগুলোকে অবশ্য করে লিঙ্গ নিরপেক্ষ হতে হবে। বিশ্বের কোনও জনগোষ্ঠীর ভাবাবেগে আঘাত লাগে বা নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয়, এমন নাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নামগুলো ছোট এবং সহজে উচ্চারণ করার মতো হতে হবে। কোন‌ওমতেই নামের দৈর্ঘ্য আটটি অক্ষরের বেশি হওয়া যাবে না। তাছাড়া কোনও জীবিত বা মৃত রাজনৈতিক নেতার নামেও ঝড়ের নাম রাখা যায় না। নামের সঠিক উচ্চারণ বোঝানোর জন্য একটি অডিও রেকর্ডিং জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

নামকরণের কারণ ও সুবিধা

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ঝড়ের আবার নাম দেওয়ার কী দরকার! আবহাওয়াবিদরা তো চাইলেই অক্ষাংশ বা দ্রাঘিমাংশের হিসেব কষে এগুলো চিহ্নিত করতে পারেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকে সেটা সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সেই খটমটে বৈজ্ঞানিক ভাষা পৌঁছানো বেশ কঠিন।

ঠিক কী কী কারনে প্রতিটা ঘূর্ণিঝড়কে আলাদা আলাদা নামে চিহ্নিত করা হয়, তা নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল-

সাধারণ মানুষের কাছে সহজে বার্তা পৌঁছানো: আবহাওয়া বিজ্ঞানের খটমটে প্রযুক্তিগত শব্দ, নম্বর বা সংকেতের (যেমন- Cyclone 01B বা T-04) চেয়ে মানুষের স্মৃতিতে একটি সাধারণ নাম অনেক সহজে গেঁথে যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় বা প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের হিসাব দিয়ে সতর্কবার্তা পাঠালে তা বুঝতে অসুবিধা হতে পারে। এর বদলে একটি নির্দিষ্ট নাম ব্যবহার করলে তারা বিপদের মাত্রাটি সহজে বুঝতে পারেন এবং দ্রুত সতর্ক হতে পারেন।

বিভ্রান্তি দূর করা: অনেক সময় একই মহাসাগরীয় অঞ্চলে বা পাশাপাশি দুটি সাগরে (যেমন বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে) প্রায় একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। তখন যদি তাদের সুনির্দিষ্ট কোনও নাম না থাকে, তবে কোন ঝড়টি কোথায় আঘাত হানবে, কোনটার তীব্রতা কত বা কোনটার অভিমুখ কোন দিকে তা নিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি উদ্ধারকারী দল এবং প্রশাসনের মধ্যেও চরম বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আলাদা নাম থাকলে প্রতিটি ঝড়ের গতিবিধি আলাদাভাবে এবং নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়।

গণমাধ্যম ও প্রচারের সুবিধা: সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন, রেডিও বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে নামকরণের সুবিধা অপরিসীম। যেমন ধরুন, "আগামীকাল একটি অতি গভীর নিম্নচাপ ১৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে আছড়ে পড়বে"। এমন খবরের চেয়ে "আগামীকাল ঘূর্ণিঝড় 'আমফান' বা 'রিমাল' আছড়ে পড়বে"- এই খবরটি মানুষের মনোযোগ অনেক দ্রুত আকর্ষণ করে। একটি নির্দিষ্ট নাম হেডলাইন বা শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হয়, যা দ্রুত সচেতনতা গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়: সরকারি দফতর, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (যেমন- NDRF বা SDRF), সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধনের জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম থাকা অপরিহার্য। "ইয়াস-এর জন্য ত্রাণ পাঠাতে হবে" বা "ফণী-র কারণে রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে", এই ধরনের সুনির্দিষ্ট বার্তা প্রশাসনিক কাজ, উদ্ধারকার্য এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপকে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও দ্রুতগতি সম্পন্ন করে তোলে।

ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা: ভবিষ্যতে আবহাওয়াবিদদের কোনও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে গবেষণা বা বিশ্লেষণ করতে হলে ঝড়ের একটি সুনির্দিষ্ট নাম থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। আজ থেকে ৫০ বছর পর যদি কোনও নির্দিষ্ট ঝড়ের তীব্রতা বা ক্ষয়ক্ষতির ডেটাবেস খুঁজতে হয়, তবে নাম দিয়ে তা সহজেই বের করা সম্ভব হবে।

আইনি ও অফিসিয়াল নথিপত্র: শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণাই নয়, ঝড়ের পরবর্তী সময়ে সরকারি ত্রাণ বণ্টন, ক্ষতিপূরণ দাবি করা বা বিমার টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নাম আইনি ও অফিসিয়াল নথিপত্র সংরক্ষণে বিরাট সাহায্য করে। 'আয়লা' বা 'আমফান'-এর কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নথিবদ্ধ রাখা প্রশাসনিকভাবে অনেক সহজ সুবিধাজনক।

ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'-এর সর্বশেষ আপডেট

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আছড়ে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাতে পারে বলে সপ্তাহখানেক ধরে ব্যাপক খবর হচ্ছিল। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস সকলকে আশ্বস্ত করে অন্য কথা বলছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) এর সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' আসছে না। অর্থাৎ এটি অতি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে, শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। উল্লেখ্য এটি যদি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পেত, তাহলে বাংলাদেশের দেওয়া 'অর্ণব' নামটি বেছে নেওয়া হত।

এই অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) মধ্যরাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ভোরের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। সম্ভবত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম এবং ওড়িশার গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূলরেখা দিয়ে এটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। তবেই অতি গভীর নিম্নচাপের জেরে অন্ধপ্রদেশ, ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুর জেলায় কমলা সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এখানে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
কৌস্তভ ভৌমিক
কৌস্তভ ভৌমিক

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য