

কুমকুম মোহোদ। ছবি - Google
৩রা অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের দীপিকা কুমারী, অঙ্কিতা ভগতরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন মুম্বইয়ের ১৭ বছরের কুমকুম মোহোদ। প্রথম ভারতীয় হিসাবে এশিয়ান গেমসে মহিলা সিঙ্গেলস রিকার্ভ আর্চারিতে সোনা জিতলেন। চূর্ণ করলেন দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনের আধিপত্য।
মাত্র ১৭ বছরেই তিনি বিরল নজির। ভারতের দীপিকা কুমারী, অঙ্কিতা ভগতরা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন মুম্বইয়ের এই কিশোরী তীরন্দাজ। তিনি এর আগে বিশ্ব তীরন্দাজ আসরে চিনের প্রতিযোগীকে হারিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। সবে মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা এই ছাত্রী এবার এশিয়ান গেমসে রিকার্ভ ইভেন্টে সোনা জিতে প্রমাণ করলেন বয়স কোনও বিষয় নয়। বড় মঞ্চে সাফল্যের জন্য বুকের কলজে থাকাটা দরকার।
১৭ বছরের কুমকুম মোহোদ অনিল বিপক্ষ কাং চেয়ংকে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার ওহ ইয়েজিনকে হারিয়ে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম মহিলা হিসাবে সিঙ্গেলস রিকার্ভে সোনা জিতেছেন।
১৭ বছরের কুমকুম গোটা নকআউট পর্ব জুড়েই দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। শুধু তাই নয়, সোনা জেতার পথে তিনি যাদের হারালেন তারা সব অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। যদিও ম্যাচের আগে কুমকুমকে দেখে বোঝাই যায়নি তিনি কাদের বিরুদ্ধে লড়তে নামছেন। এটা বোঝায় তাঁর মানসিক দৃঢ়তা কতটা। অবশ্য এর আগে বিশ্ব তীরন্দাজি চ্যাম্পিয়নশিপে চিনের প্রতিযোগীকে হারানোর অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব ও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কাং চেয়ংকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালেই কুমকুম ইতিহাস রচনা করেছিলেন। প্রচণ্ড চাপ ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেও স্নায়ুচাপ ধরে রেখে টুর্নামেন্টের প্রবল ফেভারিটের বিপক্ষে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই মানসিক দৃঢ়তা দেখে প্রাক্তনরা অনেকেই অবাক।
শনিবার সকালেও সেমিফাইনালে তিনি সেই ফর্ম বজায় রাখেন। প্রতিপক্ষ ছিলেন চিনের অপর প্রতিযোগী ঝু জিংয়ি। ইনি আবার বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ী। কিন্তু এতটুকু ঘাবড়ে না গিয়ে কুমকুম আক্রমণাত্মকভাবে শুরু করেন এবং ঝু-এর ২৭-এর বিপরীতে ২৮ পয়েন্ট করে প্রথম সেটটি জিতে নেন ও শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান।
দ্বিতীয় সেটে দুজনেই বিশ্বমানের লক্ষ্যভেদ করেন এবং প্রত্যেকেই ৩০-এর নিখুঁত স্কোর করেন। পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় স্কোর কুমকুমের পক্ষে ৩-১ হয়। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত কুমকুম ৬-২ এর বিশাল ব্যবধানে সেমিফাইনাল জিতে সোনার লড়াইয়ে নামার ছাড়পত্র করে নেন।
ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক হেভিওয়েট ওহ ইয়েজিনের মুখোমুখি হয়েও কুমকুম চাপের মুখে অসাধারণ নির্ভুলতা বজায় রেখে তির ছোড়েন। শেষপর্যন্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ইতিহাস গড়েন ১৭-এর কুমকুম।
এই জয়ের ফলে কুমকুম এশিয়ান গেমসে মেয়েদের সিঙ্গেলস রিকার্ভ ইভেন্টে সোনার পদক জয়ী প্রথম ভারতীয় তীরন্দাজ হিসেবে ইতিহাস গড়লেন, যা ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য একটি বিরল মাইলফলক।
কুমকুমের বাবা অনিল তাঁর প্রথম শিক্ষাগুরু। বাড়িতে তিনি মেয়ের জন্য ট্রেনিং সেন্টার খুলে দিয়েছেন। এমন বিরল প্রতিভার মেয়ে যে সকলের কাছেই প্রিয় হবেন তা বলাই বাহুল্য।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
