৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
মার্কিন বিচারবিভাগের ‘হল অফ ফেম’-এ ১৯ বছরের বঙ্গসন্তান!

মার্কিন হল অফ ফেমে ১৯ বছরের নিসর্গ অধিকারী! ছবি - Google

মার্কিন বিচারবিভাগের ‘হল অফ ফেম’-এ ১৯ বছরের বঙ্গসন্তান!

calender icon 2 ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

১৯ বছরের বঙ্গসন্তান নিসর্গের সাইবার দক্ষতায় বুঁদ বিশ্ব

বিশ্বের সাইবার সিকিউরিটিতে নতুন ঝড়ের নাম মাত্র ১৯ বছরের বঙ্গ সন্তান নিসর্গ অধিকারী। শিলিগুড়ির এই তরুণ মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে দুনিয়া কাঁপানো মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, অর্থাৎ পেন্টাগনের ওয়েবসাইট, সর্বত্র এথিক্যাল হ্যাকিং করে তাদের ত্রুটি, নিরাপত্তার ফাঁক দেখিয়ে চলেছে। সিবিএসসি-এর পোর্টালের গলদ সামনে এনে প্রথম দেশের নজরে এসেছিল এই তরুণ। এমন অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মার্কিন বিচার বিভাগ নিসর্গের নাম হল অফ ফেমে স্থান দিল।

মূল বিষয়

বয়স সবে ১৯। এই বয়সে যখন আর পাঁচটা ছেলে কেরিয়ার নিয়ে সবে ভাবতে শুরু করে, তখন এই বঙ্গ সন্তান রীতিমতো বিশ্বের সাইবার দুনিয়া কাঁপাচ্ছে। শিলিগুড়ির ছেলে নিসর্গ অধিকারী প্রযুক্তির দুনিয়ায়, বিশেষ করে সাইবার সিকিউরিটির ক্ষেত্রে টিনেজার বয়সেই এখন বিশ্বের অন্যতম চর্চিত নাম হয়ে উঠেছেন।

এই দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি নিসর্গ অধিকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (US DOJ) সাইবার সিকিউরিটি 'হল অফ ফেম' তালিকায় সগৌরবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ল এনফোর্সমেন্ট সিস্টেমে বড়সড় গলদ ধরে তাক লাগিয়ে দেন খোদ মার্কিন প্রশাসনকে। তারই পুরস্কার হিসাবে এমন বিরল স্বীকৃতি।

কীভাবে এল এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি?

নিসর্গ পেশায় একজন এথিক্যাল হ্যাকার। অন্যের ক্ষতি করা নয়, বরং ডিজিটাল দুনিয়ার নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করাই তার আসল কাজ। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের একটি সিস্টেমে নিজের তৈরি কিছু কাস্টম স্ক্রিপ্ট চালিয়ে সে পরীক্ষা করছিল। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি। দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো সে দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। মার্কিন প্রশাসনও বিন্দুমাত্র দেরি করেনি। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সেই ত্রুটি শুধরে নেয়। এই অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে হল অফ ফেম তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু মার্কিন বিচার বিভাগই নয়, খোদ পেন্টাগন অর্থাৎ দুনিয়া কাঁপানো মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সিস্টেমেও গলদ খুঁজে পেয়েছিল এই বাঙালি তরুণ। তারা সেটা স্বীকারও করে নিয়েছে এবং মেরামতির কাজ চলছে জোরকদমে।

শিরোনামে আসে CBSE পোর্টালে হ্যাকিং করে

তবে নিসর্গের নাম প্রথমবার জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়ে মাস কয়েক আগে। তখন সে সদ্য দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে। সময়টা ২০২৬ সালের মে মাস। সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের 'অনলাইন সাবমিশন অফ মার্কস' (OSM) সিস্টেমে একটি বড়সড় লিক বা ত্রুটি খুঁজে পায় সে। এদিকে এই পোর্টালটির গুরুত্ব যথেষ্ট। এটি ব্যবহার করে স্কুলগুলো ছাত্রছাত্রীদের নম্বর আপলোড করে থাকে। নিসর্গ প্রমাণ করে দেয়, সঠিক ভেরিফিকেশন ছাড়াই অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যে অনায়াসে ঢোকা যাচ্ছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল দেশে জুড়ে।

আরও পড়ুন
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ: কারা রাখে নাম, কেনই বা এই ব্যবস্থা?
যুবরাজকে বিয়ের জন্য স্টেরিলাইজেশন করতে বাধ্য হয়েছিলেন রত্না!
নাৎসিদের পর আবার, জার্মানিতে ক্ষমতার দোরগোড়ায় উগ্র দক্ষিণপন্থীরা

IIT থেকে ডাক

সিবিএসই পোর্টালের নিরাপত্তার ত্রুটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে নিসর্গ অধিকারীর এই অসামান্য দক্ষতার খবর পৌঁছায় আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর মণীন্দ্র আগরওয়ালের কানে। তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে নিসর্গকে চাকরির প্রস্তাব দেন। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি শিলিগুড়ির এই তরুণকে। গত জুন মাসে আইআইটি কানপুরের সাইবার সিকিউরিটি ইনোভেশন হাব 'C3iHub' টিমে সে যোগ দিয়েছে। ওখানে নিসর্গ বর্তমানে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পুরোদমে কাজ করছেন।

ছয় বছরে কোডিং আর তেরোতেই হ্যাকিং

উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে নিসর্গ অধিকারীর আদি বাড়ি। বাবা এবং মা দুজনেই অর্থ দফতরের কাজের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও রয়েছে এক বোন। এদিকে ছোটবেলা থেকেই নিসর্গের ধ্যানজ্ঞান ছিল শুধুই কম্পিউটার। বয়স যখন মাত্র ছয়, তখন‌ই সে নিজের চেষ্টাতেই কোডিং শিখতে শুরু করে দেয়। আর সাইবার সিকিউরিটি বা হ্যাকিংয়ের দুনিয়ায় তার হাতেখড়ি হয় ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়। বয়স তখন মাত্র ১৩!

দেশের সাইবার সুরক্ষায় একশো কদম এগিয়ে

শুধু বিদেশের সাইট নয়। দেশের সাইবার নিরাপত্তাতেও এই বয়সেই নিসর্গ অধিকারীর অবদান চমকে দেওয়ার মতো। চলতি বছরের মে থেকে অগস্ট মাসের মধ্যে সে বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট এবং স্টার্টআপের আড়াইশোর বেশি নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করেছে। সেগুলো রিপোর্ট করেছে ভারতের সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি 'CERT-In' কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি নিসর্গ তৈরি করেছে 'Sightline' নামের একটি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স সার্চ ইঞ্জিন। ইন্টারনেট বা মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই ব্লুটুথের মাধ্যমে কাজ করতে পারে এমন একটি অফলাইন মেসেজিং প্রজেক্ট 'প্রোটেস্টচ্যাট' (ProtestChat) বানিয়েছে। এর আগে 'স্ক্যান' (Skann) নামের একটি স্টার্টআপে ফাউন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্ত ছিল সিঙ্গাপুরের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা 'সাইফারক' (Cypherock)-এর সঙ্গেও।

প্রযুক্তির দুনিয়ায় বয়স যে কেবল একটা সংখ্যা, নিসর্গ সেটাই বারবার প্রমাণ করে চলেছে। হ্যাকিং শব্দটা শুনলেই যেখানে সাধারণ মানুষের মনে একটা ভয়ের উদ্রেক হয়, সেখানে এই বাঙালি তরুণ কাজ করে চলেছেন ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ রাখার জন্য। আগামী দিনে ভারতের সাইবার প্রতিরক্ষায় নিসর্গ যে অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠতে চলেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
কৌস্তভ ভৌমিক
কৌস্তভ ভৌমিক

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য