

সাওয়ান বারওয়াল। ছবি - Google
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাওয়ানের বাবা ছিলেন দেরাদুনের এক ট্রাক ড্রাইভার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমনই অবস্থা, সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি সেনাবাহিনীতে নাম লেখান। তাঁকে কাশ্মীরেও পোস্টিংয়ে পাঠানো হয়েছিল। দিল্লি রেজিমেন্টেও বহুদিন ছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান এশিয়ান গেমসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন। তিনি দেখালেন সীমান্তে শুধুমাত্র দেশকে রক্ষা করাই নয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে পারেন।
সাওয়ান বারওয়াল। ৩৫ বছরের এই ম্যারাথন রানার এশিয়ান গেমসে ভারতকে পদক এনে দিলেন প্রায় চার দশকের বেশি সময় পরে। এর আগে ১৯৮২ সালে দিল্লি এশিয়ান গেমসে ভারতকে ম্যারাথন দৌড়ে কে সীতারাম ব্রোঞ্জ পদক এনে দিয়েছিলেন। তারপর দীর্ঘ খরা কাটালেন এমন একজন অ্যাথলিট, যিনি কোনওদিন রানার হতে পারবেন ঠিকই ছিল না।
সাওয়ানের বাবা ছিলেন দেরাদুনের এক ট্রাক ড্রাইভার। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় এমনই অবস্থা, সেই পরিস্থিতি থেকে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি সেনাবাহিনীতে নাম লেখান। তাঁকে কাশ্মীরেও পোস্টিংয়ে পাঠানো হয়েছিল। তিনি দিল্লি রেজিমেন্টেও বহুদিন ছিলেন। সেই সেনাবাহিনীর জওয়ান দেশের পতাকা হাতে যখন নাগোয়া লাল ট্রাকে প্রদক্ষিণ করছিলেন, সেইসময় অনেকের চোখের কোণ চিকচিক করছিল।
লড়াই, প্রত্যয় থাকলে এভারেস্টও জয় করা যায়, সেটাই প্রমাণ করলেন এই মধ্যবয়সী অ্যাথলিট। এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ম্যারাথনে ইতিহাস গড়ল ভারত। শনিবার জাপানের নাগোয়ায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে রুপোর পদক জিতলেন সাওয়ান। ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্যক্তিগত সেরা সময়ও করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় নয়া নজিরও গড়লেন। এই সময়ের মধ্যে এর আগে ভারতের কোনও রানার ম্যারাথন শেষ করতে পারেননি।
শেষবার ১৯৮২ সালে দিল্লি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ম্যারাথনে পদক পেয়েছিল ভারত। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করলেন বারওয়াল। শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিট। একসময় প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানও দখল করেন তিনি। হাফওয়ে মার্কে ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বারওয়াল। তিনি এশিয়ান গেমসের ম্যারাথন ইভেন্টে পদকজয়ী চতুর্থ ভারতীয় পুরুষ। প্রসঙ্গত, এর আগে ছোটা সিং (সোনা, ১৯৫১ নয়াদিল্লি), সুরত মাথুর (ব্রোঞ্জ, ১৯৫১ নয়াদিল্লি) এবং এইচ কে সীতারাম (ব্রোঞ্জ, ১৯৮২ নয়াদিল্লি)-এর পর এই বিভাগে এশিয়ান গেমসে পদক জয়ী ইতিহাসের চতুর্থ ভারতীয় পুরুষ হিসেবে নাম লেখান সাওয়ান।
এশিয়ান গেমসের এই সাফল্যের আগে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে রটারডাম ম্যারাথনেও তিনি শিবনাথ সিং-এর প্রায় ৪৮ বছরের পুরনো জাতীয় ম্যারাথন রেকর্ডটি ভেঙে নজর কেড়েছিলেন। 'আর্মি স্পোর্টস ইনস্টিটিউট' তাঁর দেখভাল করেন, সেখানেই ট্রেনিং নেন সারা বছরই।
শেষ পর্যন্ত জাপানের ইচিতাকা ইয়ামাশিতার থেকে ৪৮ সেকেন্ড পিছিয়ে থেকে রুপো পান তিনি। দৌড়ের পরে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান বারওয়াল। তাঁর লক্ষ্য ছিল ৩৯-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রথম সারির দৌড়বিদদের সঙ্গে থাকা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত সামনের গ্রুপেই ছিলেন তিনি। প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত তিনজন পাশাপাশি দৌড়চ্ছিলেন। এরপর তৃতীয় স্থানে থাকা প্রতিযোগী কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। সেই সুযোগ নেওয়াতেই রুপো জিতে ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ পান সাওয়ান।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
