৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
স্মৃতিতে অম্লান সুদীপ, টুলু ছিলেন ভারতের ‘মিডফিল্ড জেনারেল’

ভারতীয় ফুটবলের 'মিডফিল্ড জেনারেল' সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। ছবি - Google

স্মৃতিতে অম্লান সুদীপ, টুলু ছিলেন ভারতের ‘মিডফিল্ড জেনারেল’

calender icon 2 ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

tfa logo icon

সংক্ষিপ্তসার

কিংবদন্তি ফুটবলার সুদীপ চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় ফুটবলের 'মিডফিল্ড জেনারেল'

ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার ও প্রাক্তন অধিনায়ক সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ও ফুটবলীয় সফর। জেনে নিন কীভাবে চিরিচ মিলোভানের এই 'মিডফিল্ড জেনারেল' কলকাতা ময়দান ও ভারতীয় ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

মূল বিষয়

তিনি বল নিয়ে দৌড়লে মনে হত কোনও বিদেশী তারকা। ঝাঁকড়া চুলের সৌম্য দর্শন ওই মিডফিল্ডার ভারতীয় কোচদের তখনকার সময়ে রত্ন ছিলেন। কোচ চিরিচ মিলোভান তাঁকে বলতেন, ভারতীয় দলের মিডফিল্ড জেনারেল। সেই সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে আজ ২০ বছর কেটে গেল। ১৮ সেপ্টেম্বর দিনটি কলকাতা ময়দানের কাছে খুব বিষাদের দিন হিসেবে পরিচিত। 

শোনা যায়, একটি পেয়ারার টুকরো শ্বাসনালীতে আটকে শেষ করে দিয়েছিল তাঁর জীবন। কিন্তু অশেষ হয়ে রয়ে গেছে তাঁর ফুটবলীয় সৃষ্টি, আপামর ভারতীয় ফুটবলরসিকের হৃদয়ে, যা ইতিহাসের মতই থেকে যাবে ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে।

অল্প বয়সেই নজরে পড়েছিলেন সুদীপ

হাওড়ার মন্দিরতলার অধিবাসী সুদীপ প্রথম  অরুণ ঘোষের নজরে পড়েছিলেন অল্পবয়সেই। তিনি হাওড়ার সহযাত্রী ক্লাবে ফুটবলে শুরু করার পরে ১ বছর বি এন আরে (১৯৮০), ৭ বছর মোহনবাগানে (১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯২) আর ৫ বছর ইস্টবেঙ্গলে (১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৯০) - এই ১৩ বছরেই নিজের জন্য স্থায়ী আসন সংরক্ষিত করে গেছেন ভারতীয় ফুটবলের চিরকালীন আর্কাইভে। 

আরও পড়ুন
মহামেডানে খেলেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ! এমেকাকে ভোলেনি ময়দান
ফেসবুক গ্রুপের বিপ্লব ও ডায়াসপোরার হাত ধরে বাংলাদেশের উত্থান
দুটি হাতই নেই, পা দিয়ে তীর ছুঁড়েই দৃষ্টান্ত! প্রেরণার নাম শীতল দেবী

দেশের হয়েও সফল

২৩ থেকে ৩৩ বছর, ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ ছিল তাঁর দেশের হয়ে খেলার পরিধি - এশিয়ান গেমস, এশিয়ান কাপ, প্রি ওয়ার্ল্ড কাপ, প্রি অলিম্পিক, মারডেকা কাপ, সাফ গেমস, নেহরু গোল্ড কাপ, এই সব টুর্ণামেন্টেই তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৮৫র সাফ গেমস, ১৯৮৬র প্রি ওয়ার্ল্ড কাপ, এশিয়ান গেমস, মারডেকা কাপ, ১৯৮৫ এবং ১৯৮৮ সালের নেহরু গোল্ড কাপ ও ১৯৮৮র এশিয়ান কাপে। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালের সাফ গেমসে তাঁর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ১৯৯২র এশিয়ান কাপ ছিল দেশের হয়ে তাঁর শেষ টুর্ণামেন্ট।

ওই সময়ে সুদীপের মত সফল ভারতের হয়ে খেলা ফুটবলার খুব কমই ছিল। এ আই এফ এফ-এর দ্বারা নির্বাচিত ১৯৮৬ সালের বর্ষসেরা ফুটবলার এবং ১৯৯৪র দশকসেরা ফুটবলার ছিলেন তিনিই। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮, টানা ৩ বছর সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার কোচ ছিলেন তিনিই। ১৯৯৭ সালে মহমেডান স্পোর্টিংয়েরও কোচ ছিলেন তিনি।

ওই গ্রীক দেবতার মত গ্রাউন্ড প্রেজেন্স! ওই ঐশ্বরিক স্ট্রাইড! ওই লম্বা নিখুঁত পাসিং! ওই অনিন্দ্যসুন্দর ট্যাকলিং! ওই দৃষ্টিনন্দন মাঠজুড়ে খেলা! ওই দলের প্রয়োজনে যে কোন পজিসনে খেলা! ওই গোলার মত ফ্রি কিকগুলো এখনও মাঠের ফুটবল সমর্থকদের মনে বিরাজ করছে। সুদীপের সঙ্গে খেলা অলোক মুখোপাধ্যায় বলেছেন, "সুদীপ যদি ভারতের বাইরে জন্মাত তাহলে ও একদিন সেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলত। ওর বল ধরা ও ছাড়ার মধ্যে যে পরিমিতিবোধ দেখেছি তা ছিল অতুলনীয়। জীবনের শেষ দিকে ওকে দেখে কষ্ট হতো। এত অকালে প্রাণ ঝরে যাবে আমরা ভাবিনি।"

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
কৌস্তভ ভৌমিক
কৌস্তভ ভৌমিক

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলি বজবজে জন্ম, সেখানকার নদীর জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা। পড়াশোনা অর্থনীতি ও ইতিহাস নিয়ে। দীর্ঘদিন নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ নাট্য যাপনে গড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অর্থসামাজিক বিষয় নিয়ে চর্চা এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করেন। অবসরে চুটিয়ে আড্ডা, ভ্রমণ, অজানা-অচেনা খাবারের স্বাদ চেখে দেখা।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য