

মাইকেল এমবোলাডিঙ্গা. ছবি - Social Media.
২৩শে জুন, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
মিশেল এমবোলাডিঙ্গার এই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিটি নিছক কোনও পাগলামি বা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা নয়। এটি মূলত কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং প্রথম স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার একটি বিখ্যাত মূর্তির হুবহু অনুকরণ। লুমুম্বা শুধু কঙ্গোর নন, গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে এক চিরন্তন প্রেরণার নাম। মিশেল যখন গ্যালারিতে এই ভঙ্গিতে দাঁড়ান, তখন তিনি যেন লুমুম্বাকেই আবার ফিরিয়ে আনেন তাঁর প্রিয় দেশের মানুষের মাঝে। মিশেলের এই নীরব উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় যে, আজ কঙ্গো যে স্বাধীন দেশের মর্যাদায় বিশ্বমঞ্চে খেলছে, তার পিছনে রয়েছে কত মানুষের আত্মত্যাগ। পরবর্তী ম্যাচে যখন তারা মাঠে নামবে, তখন মিশেলের উপস্থিতি দলের জন্য এক অন্যরকম মানসিক শক্তির জোগান দেবে। তিনি শুধু একজন সমর্থক নন, তিনি কঙ্গোর জীবন্ত ইতিহাস।
এই গল্পের শেকড় খুঁজতে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৬০ সালের জুন মাসে। দীর্ঘ লড়াই আর রক্তক্ষয়ের পর অবশেষে বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয় কঙ্গো। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্যাট্রিস লুমুম্বা। তাঁর চোখে ছিল এক নতুন, স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল কঙ্গোর স্বপ্ন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে লুমুম্বার এই স্পর্ধা সহ্য হয়নি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই নেমে আসে ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়া।
১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি। কঙ্গো সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে, লুমুম্বাকে বন্দী করা হয়। তাঁকে মধ্য কঙ্গো থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজ্য কাটাঙ্গায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সরাসরি মদত ছিল বেলজিয়ামের অফিসার এবং আধিকারিকদের। লুমুম্বাকে কেবল মেরেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যাতে তাঁর কোনও চিহ্ন না থাকে, সেই আক্রোশে তাঁর মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘাতকেরা জানত না, মানুষের শরীরকে অ্যাসিডে গলানো গেলেও, তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। লুমুম্বার এই মর্মান্তিক পরিণতি এবং তাঁর অদম্য সাহসের কথা জানতে হলে ফরাসি নাট্যকার এমে সেজ়েয়ারের বিখ্যাত নাটক 'ইউন সেজ়ঁ অও কঙ্গো' (কঙ্গোয় এক ঋতু) পড়াটা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে তাঁর জীবন ও লড়াইয়ের মর্মস্পর্শী বিবরণ দেওয়া রয়েছে।
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।