২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

ইবোলার অজুহাত ও এক অদম্য উড়ান (শেষ পর্ব)

ইবোলার অজুহাত ও এক অদম্য উড়ান (শেষ পর্ব)

মিশেল এমবোলাডিঙ্গা। ছবি -Google.

ইবোলার অজুহাত ও এক অদম্য উড়ান (শেষ পর্ব)

calender icon 2 ২৩শে জুন, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে কঙ্গো যখন একের পর এক বাধা পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিল, তখন মিশেল এমবোলাডিঙ্গা সারা দেশে এক জীবন্ত প্রতীকে পরিণত হন। দেশের প্রতিটি কোণায় তাঁকে নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর জনপ্রিয়তাকে সম্মান জানিয়ে এবং দলের প্রতি তাঁর অবদানের কথা মাথায় রেখে, কঙ্গো দল তাঁকে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর যাতায়াত এবং থাকার সমস্ত খরচ দল নিজেই বহন করে। তিনি হয়ে ওঠেন দলের এক সম্মানসূচক সদস্য।

কিন্তু এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কঙ্গো থেকে আসা এই পরম ভক্তকে ভিসা দিতে অস্বীকার করে আমেরিকা। অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে। ইউরোপে কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নেতিবাচক আসার পরেও তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। পশ্চিমা বিশ্বের এই অবহেলা ও বৈষম্য যেন সেই পুরোনো ঔপনিবেশিক মানসিকতারই এক আধুনিক রূপ। ভিসা জটিলতার কারণে কঙ্গোর সব ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারা মিশেলকে হয়তো কিছু বাধা পার হতে হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সব প্রতিবন্ধকতা। দলের সাথে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দেওয়ার পর, এখন মিশেলের উপস্থিতি দলের ফুটবলারদের বুকে লুমুম্বার সেই না-ছোড়বান্দা জেদকেই যেন আরও একবার প্রজ্বলিত করবে।

ফুটবল: স্মৃতির এক চিরন্তন সেতু

ফুটবল কখনও কখনও একটা দেশের ক্ষত সারানোর মলম হয়ে ওঠে। মিশেল এমবোলাডিঙ্গা প্রমাণ করেছেন যে, দর্শকাসনে বসেও একজন মানুষ কীভাবে তাঁর দেশের শেকড়ের সাথে গোটা বিশ্বকে যুক্ত করতে পারেন। তাঁর এই স্থির ভঙ্গি আসলে সেই অগণিত কঙ্গোবাসীর নীরব কান্না ও প্রতিরোধের প্রতীক, যাঁরা দশকের পর দশক ধরে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

আজ যখন কঙ্গোর খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের মাঠে বল পায়ে দৌড়ান, তখন তাঁরা শুধু একটি ট্রফির জন্য লড়েন না। তাঁরা লড়েন প্যাট্রিস লুমুম্বার সেই অসমাপ্ত স্বপ্নের জন্য। তাঁরা লড়েন ১৯৭৪ সালের সেই অপমান মুছে ফেলার জন্য। আর গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মিশেল যেন লুমুম্বার চোখ দিয়েই দেখেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমির এই পুনরুত্থান। ফুটবল এখানে কেবল একটি খেলা নয়, ফুটবল এখানে স্মৃতির এক চিরন্তন সেতু—যা বর্তমানের কঙ্গোকে তার রক্তঝরা অতীত, আত্মত্যাগ এবং এক সোনালি ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত করে রেখেছে। বিশ্বকাপের ময়দানে কঙ্গোর এই লড়াই তাই শুধুই এগারো জনের নয়, এ লড়াই এক গোটা জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আর গ্যালারির সেই লুমুম্বা, সেই স্থির ভাস্কর্য, চিরকাল মনে করিয়ে দেবে—যাঁরা দেশের জন্য জীবন দেন, তাঁরা কখনও হারিয়ে যান না; তাঁরা ফিরে আসেন, কখনও বিপ্লবী হয়ে, কখনও বা গ্যালারির এক নীরব, অটল ফুটবল সমর্থক হয়ে।

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য