

কঙ্গোর স্বৈরাচারী শাসক মোবুতু সেসে সেকো। ছবি - Google
২৩শে জুন, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
স্বৈরাচারী মোবুতু দলের প্রতিটি পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেন। যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক ও একইসঙ্গে লজ্জাজনক ম্যাচে তিনি খেলোয়াড়দের ভয় দেখিয়েছিলেন, এমনকি কে মাঠে নামবে আর কে নামবে না, তা-ও তিনি ঠিক করে দিচ্ছিলেন। ফলস্বরূপ, চরম মানসিক চাপ ও ভীতির মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয় জাইরকে। ফুটবলের সেই মঞ্চ সেদিন কোনো আনন্দের জায়গা ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল এক স্বৈরাচারীর অহংকার এবং একটি জাতির অপমানের সাক্ষী। ১৯৯৭ সালে মোবুতুর পতন না হওয়া পর্যন্ত কঙ্গোর মানুষকে এই স্বৈরাচারের বোঝা বইতে হয়েছিল। তাই, দীর্ঘ কয়েক দশক পর কঙ্গোর এই পুনরায় বিশ্বকাপে ফিরে আসা শুধু ফুটবলের জয় নয়, এটি স্বৈরাচারের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এক নতুন স্বাধীন সূর্যোদয়েরও জয়।
ফুটবলের মাঠে মিশেলের এই লুমুম্বা-বন্দনা প্রথম বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস বা 'আফকন'-এর মঞ্চে। কঙ্গো সেই টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফর্ম করেছিল। শক্তিশালী সেনেগালের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা বীরত্বের সঙ্গে ড্র করে এবং শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আলজেরিয়ার কাছে মাত্র ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে আসল চমক মাঠে ছিল না, ছিল গ্যালারিতে। পুরো ম্যাচ জুড়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে মিশেল যেন দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন।
আলজেরিয়ার কাছে হেরে কঙ্গো বিদায় নিলেও, দেশের মানুষ মিশেলকে জাতীয় বীরের সম্মান দিয়ে গ্যালারি থেকে কাঁধে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। আলজেরিয়ার খেলোয়াড় মহম্মদ আমিন আমোউরা মিশেলের এই লুমুম্বা-ভঙ্গিমার পেছনের গভীর আবেগ না বুঝেই তাঁকে উপহাস করেন এবং ম্যাচ শেষে মাঠে শুয়ে পড়ে ব্যঙ্গ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। কঙ্গোর মানুষের আবেগে আঘাত লাগায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে, ভুল বুঝতে পেরে আমোউরা পরবর্তীতে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। শুধু তাই নয়, সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধার এক অনন্য নজির গড়ে আলজেরিয়া দল মিশেলকে তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে তাঁরা মিশেলের হাতে তুলে দেন একটি বিশেষ জার্সি, যার পেছনে বড় বড় করে লেখা ছিল স্বাধীনতাসংগ্রামী 'লুমুম্বা'-র নাম। উপহাস সেদিন রূপান্তরিত হয়েছিল এক গভীর শ্রদ্ধায়।
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।