

চেকোস্লোভাকিয়া এগিয়ে গেল। প্রতীকী ছবি -দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।
৫ই জুলাই, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
১৬টি দেশের এই টুর্নামেন্টে ইতালির প্রতিটি ম্যাচই ছিল একেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির মুখোমুখি হল স্পেন। সেই ম্যাচটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর এবং সহিংস ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইতালির খেলোয়াড়রা মাঠে ফুটবল খেলার চেয়ে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের লাথি-কনুই মারতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। রেফারি যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন। স্পেনের কিংবদন্তি গোলরক্ষক রিকার্দো জামোরা সহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইতালীয়দের পৈশাচিক ফাউলের শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন।
প্রথম দিনের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলে, তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী পরের দিনই আবার ম্যাচ বা 'রিপ্লে' খেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে স্পেনের মূল দলের সাতজন খেলোয়াড় হাসপাতালের শয্যায়। ভাঙা দল নিয়ে স্পেন যখন মাঠে নামল, তখন সুইজারল্যান্ডের রেফারি ইতালির ফাউলগুলোকে তো দেখলেনই না, উল্টো স্পেনের দুটি বৈধ গোল বাতিল করে দিলেন। ইতালি ১-০ গোলে ম্যাচটি জিতে সেমিফাইনালে উঠল বটে, কিন্তু বিশ্বফুটবলের বিবেক সেদিন রোমের মাঠে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিল।
সেমিফাইনালে ইতালির সামনে এসে দাঁড়াল সেই যুগের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল এবং নান্দনিক ফুটবল খেলা দল—অস্ট্রিয়ার 'ওয়ান্ডারটিম' (Wunderteam)। মাত্তিয়াস সিন্দেলার-এর মতো জাদুকরী ফুটবলারের পায়ে ভর করে অস্ট্রিয়া তখন অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু মুসোলিনি জানতেন, কেবল মাঠের শক্তিতে অস্ট্রিয়াকে হারানো কঠিন হতে পারে। তাই তিনি খেলার আগের রাতে ম্যাচের রেফারি, সুইডেনের ইভান একলিন্ডকে নিজের ব্যক্তিগত বক্সে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান।
একজন রাষ্ট্রপ্রধান ম্যাচের আগের রাতে রেফারির সাথে কী কথা বলতে পারেন, তা বুঝতে কোনো রকেট সায়েন্সের প্রয়োজন হয় না। পরের দিন মাঠের চিত্রনাট্য ছিল অবিশ্বাস্য। খেলার এক পর্যায়ে যখন অস্ট্রিয়ার একজন ফরোয়ার্ড চমৎকার একটি পাস বাড়ালেন উইঙ্গারের উদ্দেশ্যে, তখন রেফারি ইভান একলিন্ড নিজেই মাঝপথে এসে নিজের মাথা দিয়ে বলটি ঠেকিয়ে দিলেন! হ্যাঁ, একজন রেফারি নিজেই ডিফেন্ডার সেজে ইতালির হয়ে খেললেন। ইতালি ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ফাইনালে পৌঁছাল, আর পুরস্কারস্বরূপ সেই ইভান একলিন্ডকেই ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হল।
১০ই জুন, ১৯৩৪। রোমের 'স্তাদিও নাজিওনালে পিএনএফ' স্টেডিয়ামে তিল ধারণের জায়গা নেই। ৫৫,০০০ দর্শকের চিৎকারে আকাশ-বাতাস কাঁপছে। ভিআইপি বক্সে বসে আছেন স্বয়ং বেনিতো মুসোলিনি, তাঁর পরনে সামরিক ইউনিফর্ম, চোখে এক ক্রূর আত্মবিশ্বাস। মাঠে ইতালির প্রতিপক্ষ চেকোস্লোভাকিয়া।
খেলার প্রথমার্ধ শেষ হল গোলশূন্যভাবে। ইতালির খেলোয়াড়দের কপালে তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম। সেই ঘাম কেবল ক্লান্তির ছিল না, ছিল এক অজানা আতঙ্কের। চেকোস্লোভাকিয়ার চমৎকার পাসিং ফুটবলের সামনে ইতালির আক্রমণগুলো বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে চেকোস্লোভাকিয়ার গোলরক্ষক ফ্রান্তিসেক প্লানিচকা একের পর এক অসাধারণ সেভ করছিলেন। খেলার বয়স যখন দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি, তখনই ঘটল সেই অঘটন। চেকোস্লোভাকিয়ার উইঙ্গার আন্তোনিন পুচ বল নিয়ে ইতালির বক্সে ঢুকে পড়লেন এবং এক জোরালো শটে ইতালির জাল কাঁপিয়ে দিলেন!
১-০! চেকোস্লোভাকিয়া এগিয়ে গেল।
(চলবে)
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।