অনীক দত্ত। (ব্যাকগ্রাউন্ডে সত্যজিত রায় ও ঋতুপর্ণ ঘোষ)। ছবি - Google, গ্রাফিক্স - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস
২৯শে মে, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
জীবনের হাত শেষ অবধি ছেড়ে দিলেন অনীক দত্ত নিজেই। তাঁর এই প্রস্থান অবিশ্বাস্য, অপ্রত্যাশিত আমাদের কাছে।
সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবনের পথপ্রদর্শক। তাঁকে আদর্শ মেনেই জীবনে বাঁকবদল ঘটে তাঁর। আর যখন বাংলা চলচ্চিত্রে ঋতুপর্ণ ঘোষ মধ্যগগনে ঠিক সেই সময় নবাগত হিসেবে টালিগঞ্জ পাড়ায় পা রাখা। প্রথম ছবি 'ভূতের ভবিষ্যৎ'-এর হাত ধরে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন অনীক দত্ত। যে ছবি আজও তাঁর পরিচয়।
কেমন ছিল অনীক দত্তের যাত্রাপথ? নানা অজানা কথা নিয়ে অনীক উপাখ্যানের প্রথম পর্বে সেই গল্প।
'ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া'র প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্রচন্দ্র দত্তের নাতি অনীক দত্ত-র জন্ম ১৯৬০ সালে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী 'পাঠ ভবন' স্কুলে পড়াশোনা করেছেন অনীক। এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সভ্য ছিলেন সত্যজিৎ রায়। এই স্কুল থেকেই অনীকের মধ্যে সৃজনশীল মনন ও চলচ্চিত্র ভাবনার বীজ বপন হয়েছিল। এরপর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা লাভ।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের কাছে থাকার সময় শুরু হল তাঁর 'স্ট্রাগল পিরিয়ড'। সম্ভ্রান্ত উচ্চবিত্ত বাবার সন্তান হয়েও জীবন হয়ে যায় নিম্নবিত্ত, অনিশ্চিত। আঁকার হাত ভাল বলেই চলে আসা কর্পোরেট দুনিয়ায় বিজ্ঞাপনের চাকরি নিয়ে। আর সেখানেই শুরু হয় তাঁর পেশাদার জীবনের যাত্রা। একের পর এক টিভি বিজ্ঞাপন করে চমকে দিতে থাকলেন অনীক।
বহু টলিউড অভিনেতা তাঁদের কেরিয়ারের শুরুতেই কাজ করেছেন অনীক দত্তের বিজ্ঞাপনে।
অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, 'অনীক দত্তের সঙ্গে আলাপ ১৯৯৯ বা ২০০০ সালে। আমি একেবারেই নতুন। আনমোল বিস্কুটের বিজ্ঞাপনের জন্য আমায় বাছলেন, আমার বিপরীতে সিনেমার নায়িকা অর্পিতা চ্যাটার্জী। তখন তিনি অর্পিতা পাল ইন্দ্রপুরীতে শ্যুট। আমি অফিস ফাঁকি মেরে পৌঁছলাম। জীবনের প্রথম অ্যাড শ্যুট,খুব টেন্সড। অনীক দা বুঝিয়ে দিলেন কি করতে হবে। করলাম। হল না। কয়েকটা এন জির পর বললেন বিজ্ঞাপনের কাজে সবটাই চট জলদি করতে হয়। বিস্কুটে কামড় দিয়েই এক্সপ্রেশন চেঞ্জ করতে হবে। বার পাঁচেকের চেষ্টায় হল আর নতুন টেকনিকটাও শিখে নিলাম'।

ভাস্বরের কথায়, '২০২০-তে সানরাইজ গুঁড়ো মশলার বিজ্ঞাপনে কাজ করার সময় দেখলাম খুব রেস্টলেস অনীকদা। সাধারণ ব্যাপার নিয়ে এত প্যানিক করছেন যে সেটে সবাই ভয়ে অস্থির। আমি কাজ করলাম চলে গেলাম,সারাদিন বিশেষ কথা হয়নি। মনে হচ্ছিল ভেতরে ভেতরে খুব অস্থির কিছু নিয়ে'।

'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবির 'দেবো না দেবো না' বায়োস্কোপের গানের আদলেই অনীক করেন 'বিস্কফার্ম টপ' বিস্কুটের বিজ্ঞাপন। দেবদূত ঘোষ ও পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়ের হিট বিজ্ঞাপন। সাদা-কালোতে শট নিয়েছিলেন অনীক। গান গেয়েছিলেন পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক বছর পরেই অনীক 'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবিতেই এমন গান এমন প্লট আনলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের লিপে পরমাকে দিয়ে গাইয়েই।
তবে বিজ্ঞাপন জগতে একাধিক হিট বিজ্ঞাপন উপহার দিলেও দর্শক ব্যাপকভাবে অনীক দত্ত নামটা জেনেছিল তিনি চলচ্চিত্রে আসার পর। সে গল্প আগামী পর্বে।
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কৈশোর থেকেই বাংলা ক্লাসিক ছবির প্রতি বিশেষ আগ্রহ। লেখার সূচনা প্রিন্ট থেকে ডিজিটালে। বায়োস্কোপের গবেষণাধর্মী লেখালেখি চলছে বহু বছর ধরেই। 'সুরের জাদুকর হেমন্ত', 'স্মৃতিটুকু থাক', 'গানে গল্পে বাঙালির লতা' এবং ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রথম জীবনী 'ঋ-তে ঋতু', ছেলেবেলা থেকে মেয়েবেলার লেখক।