২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

পজিশনের সাবলীলতা: রিলেশনিজম (পর্ব ২)

পজিশনের সাবলীলতা: রিলেশনিজম (পর্ব ২)

রিলেশনিজম (Relationism)। প্রতীকী ছভি- দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।

পজিশনের সাবলীলতা: রিলেশনিজম (পর্ব ২)

calender icon 2 ২৫শে জুন, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

অন্যদিকে, টোটাল ফুটবলের দ্বিতীয় মূলনীতি, অর্থাৎ 'পজিশনের সাবলীলতা', দীর্ঘকাল ধরে অভিজাত ফুটবল দুনিয়ায় সেভাবে পাত্তা পায়নি এবং মূলধারার আধুনিক ফুটবলেও সেভাবে বিকশিত হয়নি। কিন্তু মাত্র গত কয়েক বছরে এটি হঠাৎ করেই ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন ফেলতে শুরু করেছে, যা 'রিলেশনিজম' বা 'অ্যাপজিশনাল প্লে' নামেও পরিচিত।

যেহেতু এই ধারণাটি তুলনামূলকভাবে নতুন, তাই গল্পটা আরেকটু ভেঙে বলা যাক। ফাংশনাল প্লে বা রিলেশনিজমে আপনি কোন পজিশনে আছেন বা কোন স্পেসে আক্রমণ করবেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় আপনি কী করছেন, কীভাবে নড়াচড়া করছেন এবং সতীর্থদের সাথে আপনার মিথস্ক্রিয়া বা বোঝাপড়া কেমন, তার ওপর। সহজ কথায়, এখানে দলের সামগ্রিক কাঠামোর চেয়ে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা এবং গতিশীলতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।

দক্ষিণ আমেরিকার 'সাম্বা' ফ্লেয়ার এবং 'লা নুয়েস্ত্রা'

ব্রাজিল বা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের দর্শকদের কাছে ব্যাপারটা খুব চেনা মনে হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলের এই ট্যাকটিক্স প্রয়োগের চেষ্টা করছে, তবে একে আগে কখনও 'রিলেশনিজম' নাম দেওয়া হয়নি। এই স্বাধীনতাই খেলোয়াড়দের বিপক্ষের অর্ধে ঝুঁকি নিয়ে খেলতে সাহায্য করে, যা থেকে জন্ম নেয় বিখ্যাত 'সাম্বা' ফ্লেয়ার।

আর্জেন্টিনারও নিজস্ব রিলেশনিজমের একটি ভার্সন রয়েছে, যা "লা নুয়েস্ত্রা" নামে পরিচিত। ১৯৭৮ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ সিজার লুইস মেনোত্তির হাত ধরে এটি জনপ্রিয় হয়েছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে এই আসল আর্জেন্টাইন ফুটবল ডিএনএ-কে আত্মস্থ করার জন্য লিওনেল স্কালোনিও আর্জেন্টাইন সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছেন। স্কালোনি দলের সামগ্রিক কাঠামোর দিকে খুব বেশি নজর না দিয়ে বরং লিওনেল মেসির মুভমেন্ট ও স্কিলকে সাহায্য করার জন্য একটি সাপোর্ট কাস্ট তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

ফার্নান্দো দিনিজ এবং ফ্লুমিনেন্সের ট্যাকটিক্যাল বিপ্লব

ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে ফ্লুমিনেন্সের ম্যানেজার ফার্নান্দো দিনিজ তাঁর রিলেশনিজম ট্যাকটিক্স দিয়ে একটি বিশাল বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দল কোনো নির্দিষ্ট আক্রমণাত্মক বা রক্ষণাত্মক কাঠামো মেনে চলে না। ভুল বুঝবেন না, তাদের দলেও ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার আর স্ট্রাইকার নিয়ে দল সাজানো হয়, কিন্তু খেলা বিল্ড-আপের সময় তাদের কোনো নির্দিষ্ট পজিশন থাকে না। বরং যার পায়ে বল থাকে, তাকে কেন্দ্র করেই তারা আক্রমণের ছক কষে।

এই পদ্ধতিতে ফ্লুমিনেন্স দলের পাসিং এবং ড্রিবলিংয়ে এক অন্যরকম জাদু দেখা যায়। তারা মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খেলা শিফট না করে বরং যেদিকে ভিড় বেশি, সেখানেই বল দেওয়া-নেওয়া করে, কারণ তারা পিচটিকে এক প্রান্তে সংকুচিত করতে চায়। সবাই বলের কাছাকাছি চলে আসায় প্লেয়াররা আক্রমণ তৈরির অনেক বেশি অপশন পায়। আর বল হারালেও আশেপাশে প্রচুর খেলোয়াড় থাকায় সহজেই তা পুনরুদ্ধার করার সুযোগ থাকে। ডামি, ওয়ান-টু-ওয়ান বা ড্রিবলিংয়ের মতো কৌশলী খেলার দাবি রাখে এই স্টাইলটি। এটি এককথায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল, এবং অদ্ভুত সুন্দর!

ইউরোপেও নাপোলির লুসিয়ানো স্পালেত্তি এবং রিয়াল মাদ্রিদের কার্লো আনচেলত্তির মতো কিছু ম্যানেজার এই ধারণাকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া মালমোর কোচ জন ডাল টমাসন (বর্তমানে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের ম্যানেজার) এবং বেনফিকার রজার শ্মিটের মতো কোচেরা ইউরোপে রিলেশনিজমের সফল প্রয়োগ করে নজর কেড়েছেন।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য