৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad
গারিঞ্চা শুধু আবেগ নন, তিনি ছিলেন ‘ফুটবলের পিকাসো’ (শেষ পর্ব)

গারিঞ্চা। ছবি - Google

গারিঞ্চা শুধু আবেগ নন, তিনি ছিলেন ‘ফুটবলের পিকাসো’ (শেষ পর্ব)

অন্যান্য চ্যাপ্টার

স্বপ্নের অভিষেক

গারিঞ্চার অভিষেক ছিল স্বপ্নের মতো। ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচে যখন কোচ তাঁকে মাঠে নামালেন, তখন তাঁর দল পিছিয়ে ২-১ গোলে। মাঠে নামার পর দর্শকরা তাঁকে খোঁড়া-খোঁড়া বলে চিৎকার করতে লাগলো। মাঠে নেমেই শুরু করলেন ড্রিবলিং, বল নিয়ে ডুকে পড়লেন ডি বক্সে। ফাউল করল প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টি পেলেন গারিঞ্চা। গোল করে সমতায় ফেরালেন দলকে। নান্দনিক ছন্দে প্রতিপক্ষকে বাকি সময়ে কাবু করে দিলেন। অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক পেলেন গারিঞ্চা। মাঠের সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখল বাঁকা পায়ের এক ফুটবলারের জাদু।

জোগো বোনিতোর চিত্রকর

মারাকানা ট্র্যাজিডির পরে ব্রাজিল ফুটবলে গতি এলো। এতদিন তারা শৈল্পিক ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত ছিল। গ্যারিঞ্চা কিন্তু সেই একই ধারার ফুটবল খেলতেন। তিনি ছিলেন ব্রাজিলের সুন্দর ফুটবল জোগো বোনিতোর সফল চিত্রকর। তিনি তার পরের মরশুমে একাই করলেন ২৬টি গোল।

ব্রাজিলের ফুটবল লিগে সেবার তাঁদের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্লুমিনেন্স। ফ্লুমিনেন্সও গারিঞ্চাকে তাদের দলে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঁকা পায়ের কথা শুনে তারা ফুটবল জাদুকরকে অবহেলা করে। ফাইনাল ম্যাচেও যথারীতি গারিঞ্চা ম্যাজিক। চ্যাম্পিয়ন হল বোতাফোগো। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন গারিঞ্চা। ১৯৫৪ সালের ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে তাঁকে সবাই প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু কোচ তাকে দলে নিলেন না। তাঁর পজিশনে দলে স্থান পান আরও এক বড় তারকা জুনিনহো। এই ঘটনায় চরমভাবে মনঃক্ষুণ্ণ হন গারিঞ্চা। ক্লাব ক্যারিয়ারের পুরোটা জুড়ে ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও তিনি যেতে চাননি। তার প্রথম কারণ অবশ্যই তাঁর উদ্দাম জীবন। দ্বিতীয়টি ব্রাজিলের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা।

ড্রেসিংরুমের জোকার

শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরে ড্রেসিংরুমেও ছিল গ্যারিঞ্চার সরব উপস্থিতি। ড্রেসিংরুমেও তিনি সহ যোদ্ধাদের হাসিখুশিতে রাখতেন। বিখ্যাত উরুগুয়ের লেখক গ্যালিয়ানোর বই “Football in the sun and shadow” তে গ্রেট গারিঞ্চা সম্পর্কে লিখেছিলেন, ড্রেসিংরুমে তাঁর মতো মজাদার মানুষ আর কেউ ছিলেন না। তিনি যেন ড্রেসিংরুমের একজন জোকার ছিলেন।

হৃদয় জেতেন সমর্থকদের

একজন অস্বাভাবিক শারীরিক আকৃতি নিয়েও জয় করেছেন কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়। দেশের হয়ে জিতেছেন সর্বোচ্চ সম্মান, বিশ্বকাপ। হয়েছেন, সেরা খেলোয়াড় ও গোলদাতা। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় কেমন খেলোয়াড় ছিলেন গ্যারিঞ্চা?

পেলের মতে, গারিঞ্চা তাঁর পজিশনে আমার দেখা সেরা ফুটবলার। সত্যিকার অর্থেই উইঙ্গার পজিশনকে নতুন ভাবে চিনিয়েছেন গারিঞ্চা। তাঁর পায়ের ড্রিবলিং সর্বকালের সর্বসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর পায়ে বল মানেই সব খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে গোল দেওয়া। তাঁর অনিয়ন্ত্রিত জীবন শেষ করে দিয়েছিল মাত্র ৫০ বছর বয়সেই।

শান্তিতে ঘুমোচ্ছেন রাজা

গারিঞ্চার এপিটাফে খোদাই করা ছিল একটি কথা - এখানে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন সেই জন, যিনি ছিলেন মানুষের আনন্দ, JOY OF THE PEOPLE গারিঞ্চা। বলা হয়ে থাকে “ব্রাজিলের মানুষ শ্রদ্ধা করে পেলেকে আর ভালোবাসে গারিঞ্চাকে। তিনি ছিলেন ব্রাজিলের ফুটবলের পিকাসো, যিনি মাঠের শিল্পের জাল বুনতেন।

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

অন্যান্য