৮ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad
ব্রাজিলে পেলের পরেই গারিঞ্চা,  ছিলেন ফুটবলের ‘দেবদূত’ (পর্ব ১)

ফুটবলের দেবদূত ব্রাজিলের গারিঞ্চা। ছবি - Google

ব্রাজিলে পেলের পরেই গারিঞ্চা, ছিলেন ফুটবলের ‘দেবদূত’ (পর্ব ১)

অন্যান্য চ্যাপ্টার

ফুটবলের ঈশ্বর 

তাঁর পুরো নাম, নুয়েল ফ্রান্সিসকো দস সান্তোস। যাকে আমরা চিনি বিখ্যাত ফুটবলার গারিঞ্চা নামে। তিনি ছিলেন ফুটবলের দেবদূত। গারিঞ্চা মানে বিতর্ক পাশাপাশি হাঁটা। তিনি ছিলেন বোহেমিয়ান জীবনে বিশ্বাসী। মাঠের বাইরে একরকম, আর মাঠে নামলেই তিনি বদলে যেতেন। তখন তাঁকে ফুটবলার নয়, ঈশ্বরের সন্তান মনে হতো। 

দারিদ্র্যের সঙ্গে সহবাস

ব্রাজিলের পাউ গ্রান্দে শহরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের নাতি। তিনি নামমাত্রই পড়াশোনা করেছিলেন এবং এরপর এক বিপর্যয়কর জীবনযাপন করেন; পঞ্চাশতম জন্মদিনের আগেই মদ্যপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি একটি কাজই করতে পারতেন, আর তা হলো ফুটবল খেলা। ড্রিবলিং, কর্নার, ফ্রি-কিক—তাঁর দক্ষতা দেখে লোকে জিজ্ঞেস করত তিনি অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছেন কি না। খাটো হওয়া সত্ত্বেও তিনি হেডও করতে পারতেন। তাঁর ক্যারিয়ারে চারবার তিনি সরাসরি কর্নার থেকে গোল করেছিলেন। 

 পেলের সঙ্গে তুলনা

ব্রাজিলে গিয়ে দেখেছি পেলের সঙ্গে এখনও গারিঞ্চার তুলনা করা হয়। বলা হয়, গারিঞ্চা উম, দইস পেলে। মানে গারিঞ্চা একনম্বর, দুইয়ে পেলে। 

পেলের সাথে তিনিও সম্ভবত ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং তাঁর নামে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামও রয়েছে। আর তিনি জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী ছিলেন। পেলে একটা সময় সমসাময়িক অনেক দক্ষ সেরা ফুটবলার পেয়েছিলেন পাশে, কিন্তু গারিঞ্চা তা পাননি। তিনি একা দলকে টানতেন। যে কারণে তাঁকে বেশি বিখ্যাত মনে করা হয়। গারিঞ্চা নিয়ে আবেগও ব্রাজিলে অনেক বেশি। পেলেকে অনেকেই স্বার্থপর মানুষ বলে মনে করেন, গারিঞ্চা তাঁদের কাছে অনেক উদার। তিনি নিজের ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন। যে কারণে শেষ জীবন তাঁর অনেক কষ্টে কেটেছে। 

বোনের দেওয়া নামেই বিখ্যাত

তাঁর বোনই তার নাম রেখেছিল গারিঞ্চা। কারণ সে জন্ম থেকেই বিকৃত মেরুদণ্ড এবং ডান পায়ের চেয়ে ছয় সেন্টিমিটার ছোট একটি পা নিয়ে জন্মেছিল। সে তার বয়সের তুলনায় বরাবরই ছোট ছিল, এবং তার ডান পা বাইরের দিকে ও বাম পা ভেতরের দিকে বেঁকে যেত। ভক্তদের কাছে সে ‘আলেগ্রিয়া দো পোভো’ , অর্থাৎ ‘জনগণের আনন্দ’ অথবা ‘আঞ্জো দে পেরনাস তোরতাস ’, অর্থাৎ ‘বাঁকা পায়ের দেবদূত’ নামে পরিচিত ছিল। আর গারিনচাকে দেখেই ভক্তরা প্রথম ‘ওলে’, অর্থাৎ ষাঁড়ের লড়াইয়ের সেই পরিচিত চিৎকারটি করতে শুরু করে, যখন সে তার সেই অসাধারণ ও অপ্রত্যাশিত পা দিয়ে রক্ষীদের বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিত।

বোটাফোগো দিয়ে শুরু

২০ বছর বয়সে তিনি বোটাফোগোতে যোগ দেন এবং প্রথম দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেন। এর আগে তিনি তার কারখানার দলের হয়ে খেলতেন। ক্লাবটির হয়ে খেলা বারো বছরে তিনি ৫৮১ ম্যাচে ২৩২টি গোল করেন। তারপর ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যান। তিনি দলে যোগ দিতেই বাকিরা বুঝে গিয়েছিলেন কোনও এক ফুটবল ঈশ্বরের সন্তান তাঁদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন।

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

অন্যান্য