২০শে জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad
বইয়ের পাতায় দ্বৈত সত্ত্বা: যখন এক নিয়ম দু’রকম কথা বলে (পর্ব ২)

NCERT পাঠ্য বইতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে মূর্তির দেহের অনাবৃত অংশ। প্রতীকী ছবি। মূল ছবি - Google, গ্রাফিক্স - দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।

বইয়ের পাতায় দ্বৈত সত্ত্বা: যখন এক নিয়ম দু’রকম কথা বলে (পর্ব ২)

calender icon 2 ২০শে জুন, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

এই পুরো ঘটনার মধ্যে এক অদ্ভুত প্রহসন বা ইনকনসিসটেন্সি লুকিয়ে আছে। এনসিইআরটি-র নবম শ্রেণীর বইতে যখন এই ভাস্কর্যের গায়ে কাল্পনিক বস্ত্র চড়ানো হচ্ছে, ঠিক একই সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর সমাজবিজ্ঞান বইতে কিন্তু তার আসল, অনাবৃত ছবিটিই রাখা হয়েছে। এই দ্বিমুখী নীতি আসলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে থাকা এক ধরণের দ্বিধাদ্বন্দ্বকে প্রকাশ করে।

ষষ্ঠ শ্রেণীর একটি এগারো বছরের বাচ্চার জন্য যে ইতিহাস স্বাভাবিক এবং অবিকৃত, নবম শ্রেণীর চৌদ্দ-পনেরো বছরের এক কিশোরের জন্য তা কীভাবে ‘অনুপযুক্ত’ হয়ে যেতে পারে? এই স্ববিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, এই সিদ্ধান্ত কোনো বৈজ্ঞানিক বা শিক্ষাগত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি, বরং এর পেছনে কাজ করেছে কোনো এক অদৃশ্য রক্ষণশীল মানসিকতার চাপ। ইতিহাস যখন নিজেই নিজের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায়, তখন শিক্ষার্থীদের মনে সত্যের প্রতি বিশ্বাসটাই টলে যায়।

নকল ইতিহাস ও একটি কৃত্রিম প্রজন্ম তৈরির ঝুঁকি

ইতিহাসবিদদের সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গাটা এখানেই। আজ যদি আমরা একটি ভাস্কর্যকে আমাদের আধুনিক নৈতিকতার ছাঁচে ফেলে বদলে দিই, তবে কাল হয়তো অন্য কোনো ঐতিহাসিক সত্যকেও আমরা আমাদের সুবিধামতো পরিবর্তন করে ফেলব। প্রাচীন গ্রিক বা রোমান ভাস্কর্যগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানেও নগ্নতাকে মানবদেহের এক পরম সুন্দর রূপ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো ইউরোপীয় দেশ তাদের পাঠ্যবইয়ে মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর ‘ডেভিড’ বা ‘ভেনাস ডি মাইলো’-র মূর্তিকে কাপড় পরানোর কথা ভাবেনি। কারণ তারা জানে, আর্ট বা শিল্পের নিজস্ব একটা ভাষা থাকে, তাকে আধুনিক সেন্সরশিপের কাঁচি দিয়ে কাটা যায় না।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য