শেষ আপডেট: 15 April 2026 21:41
নাকতলার খোলা আকাশের নিচে সিনেমার উৎসব। গত কয়েক বছর ধরে ঠিক এটাই যেন কলকাতার এক অন্যরকম বসন্তের গল্প। ২০২০ সালে যখন চারপাশটা সবেমাত্র লকডাউনের জড়তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল, সেই সময়েই একদল চলচ্চিত্র প্রেমী সিনেমাকে চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের একদম সামনে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখেন। এভাবেই ‘ব্লু চক স্টুডিও’-র হাত ধরে শুরু হয় ‘কলকাতা ওপেন এয়ার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’।
কোথায় হয় এই ফিল্ম ফেস্ট?
নাকতলার গীতাঞ্জলি মেট্রো স্টেশনের কাছেই সেকেন্ড স্কিম বা দ্বিতীয় পল্লীর খেলার মাঠ, এখানেই প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের সময় সিনেমার আসর বসে। গাড়িতে এলে গড়িয়া-টালিগঞ্জ রুটের ‘আনন্দ আশ্রম বিদ্যাপীঠ’ স্টপে নেমেই দ্বিতীয় পল্লীর মাঠ।
কবে এবং কীভাবে শুরু?
এই ফিল্ম ফেস্টের সেই অর্থে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের ব্যাপার নেই। প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে চালু হয়ে যায় সিনেমা দেখানো। উৎসবের প্রথম বছর থেকে একটি বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তা হল, উদ্যোক্তারা চেয়েছিলেন দর্শকদের সামনে বিকল্প পথ খুলে দিতে— চাইলে হলের ভেতরে সিনেমা দেখুন, অথবা খোলা মাঠের খোলা স্ক্রিনে চোখ রেখে খোলা বাতাসে গা ভাসিয়ে দিন।
তিন বন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই সফর এখন বেশ বড় এক দলের প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। শমীক দাস,ঋতম, অরিত্র, প্রলয়, অবনীশ, বিশ্বজিৎ, চিরশ্রী, পারমিতা, প্রিয়াঙ্কা এবং প্লাবন ভট্টাচার্যের মতো বিভিন্ন পেশার মানুষ আজ শুধুই সিনেমার প্রতি ভালোবাসায় একজোট হয়েছেন।

এবারে যে ফিল্মগুলো দেখান হবে
সিনেমার তালিকায়ও থাকে চমক, আর্ট ফিল্ম থেকে কমার্শিয়াল, ভারতীয় থেকে আন্তর্জাতিক, সব ঘরানার স্বাদই এখানে পাওয়া যায়। চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। নাকতলার এই চলচ্চিত্র উৎসবে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এক ঝাঁক কালজয়ী সিনেমার সমাহার থাকছে। যেমন:
নায়ক: সত্যজিৎ রায়
মেঘে ঢাকা তারা: কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
আই অ্যাম কালাম: নীলা মাধব পণ্ডা
পদাতিক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়
পিকু: সুজিত সরকার
বরফি: অনুরাগ বসু
আন্তর্জাতিক সিনেমাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
ফলেন লিভস (Fallen Leaves): আকি কাউরিসমাকি (ফিনল্যান্ড)
টার্টলস ক্যান ফ্লাই (Turtles Can Fly): বাহমান ঘোবাদি (ইরান)
বাইসাইকেল থিভস (Bicycle Thieves): ভিত্তোরিও ডি সিকা (ইতালি)
ওয়াইল্ড স্ট্রবেরি (Wild Strawberries): ইংমার বার্গম্যান (সুইডেন)
দ্য সি ইনসাইড (The Sea Inside): আলেজান্দ্রো আমেনাবার (স্পেন)
পারফেক্ট ব্লু (Perfect Blue): সাতোশি কন (জাপান)

তবে এই উৎসবের সবথেকে বড় বিশেষত্ব হলো শুরুর দিন থেকে আজও কোনো টিকিটের বালাই নেই। উদ্যোক্তাদের কথায়, “সবার জন্য সিনেমা দেখার সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত থাকা উচিত”। বড় কোনো কর্পোরেট স্পনসরশিপের সাহায্য ছাড়াই টিকে আছে এই আয়োজন। মানুষের অনুদানের ওপর দাঁড়িয়েই পরিচালিত হয় এই উৎসব। তবে এ বছর নির্বাচনের সময় এবং ফেস্টের সময় ‘ক্ল্যাশ’ করায় তহবিল সংগ্রহে অনেকটাই প্রতিকূল পরিস্থিতি, জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবুও উদ্যমে কোথাও খামতি নেই কারো। আজ ষষ্ঠ বছরে দাঁড়িয়ে নাকতলার এই চলচ্চিত্র উৎসব প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, সিনেমা আসলে আমাদের সবার।