ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার। ছবি- Google
২৪শে মে, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
৩৮ বছর আগের কথা। সেই ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিক। যেবার ১০০, ২০০ এবং ৪০০ মিটার রিলে দৌড়ে ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার (Florence Griffith Joyner) সোনা জিতে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। সোনা তো অনেকেই জেতেন, কিন্তু মানুষের হৃদয় জিততে পারেন? সেটাই করে দেখিয়েছিলেন ওই স্টাইলিশ মার্কিন অ্যাথলিট। তিনি পুরো একটা জেনারেশনকে সঙ্গে করে দৌড়তেন। তিনি সেই অলিম্পিকে ১০০ এবং ২০০ মিটারে নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন। যে রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙতে পারেননি।
বলা হয়, যে কোনও স্তরের প্রতিভাবানরা স্বল্প আয়ুর হয়ে থাকেন। এও বলা হয়, যার এখানে দরকার, তাঁর উপরেও দরকার হয়! তাই কি ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নারকে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই চিরবিদায় নিতে হল? তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে মনে করা হয়, তাঁর ব্রেন টিউমার হয়েছিল। তিনি নিজের শরীর নিয়ে এতটুকু চিন্তা করার সময় পাননি। কেউ যখন তাঁর পেশাগত জীবনের উত্তুঙ্গ পর্যায়ে থাকেন, তিনি সবচেয়ে অবহেলা করেন তাঁর শরীরকে। জয়নার নাকি সেটাই করেছিলেন। বহুদিন এমনও হয়েছে তিনি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাননি।

ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরও বেশি কিছু। অ্যাথলিট জগতে নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে স্পনসর করার জন্য বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির লাইন লেগে যেত। তিনি যে স্পোর্টস শু ব্যবহার করতেন, তার আনুমানিক মূল্য ছিল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তিনি চুলে রং করতেন। তাঁর হাতের মোট দশটি আঙুলে দশটি ভিন্ন রঙের নেলপালিশ থাকত। তিনি বড় নখ রাখতেন হাতে এবং পায়ে। এত বড় হাতে রেখেও তিনি যখন দৌড়তেন, মনে হতো কোনও বিদ্যুৎ গতিতে কোনও হরিণ দৌড়চ্ছে। ১০০ মিটার দৌড়ে তাঁর ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় এখনও কেউ ভাঙতে পারেননি। একজন মহিলা অ্যাথলিট পুরুষদের গতিতে দৌড়তে পারেন, সেটি আগে কেউ চিন্তাই করেননি।
বিশ্বে বহু অ্যাথলিট আছেন ও থাকবেনও। কিন্তু ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নারের মতো কিংবদন্তি আর হয়ত আসবেন না। কারণ তাঁর জন্মগত একটা স্নায়ুর রোগ ছিল। সেই রোগ প্রতিরোধ করে তিনি টানা ১১ বছর সার্কিটে একমেবদ্বিতীয়ম ছিলেন। তাঁর ট্রেনিং সিডিউল নিয়ে নয়ের দশকে কথা হতো। তিনি মোট দুই ধাপে ১৩ ঘণ্টা ট্রেনিং করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনটি শব্দে, বিলিভ, অ্যাচিভ এবং সাকসিড। বিশ্বাস করলেই তুমি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে এবং সফলতা আসবে। তাঁর এই জীবন দর্শনের জন্যই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা।
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।