২৪শে মে, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
খেলার মাঠের মতোই জীবনও বড় অনিশ্চিত। কার কখন জীবনের দৌড় থেমে যাবে কেউ জানে না! না হলে যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লাল ট্যাকে রাজত্ব করে এসেছিলেন টানা এক যুগ, তিনি থেমে গেলেন সকলের অলক্ষ্যেই। ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার যখন ৩৮ বছর বয়সে কোনও এক অজ্ঞাত রোগে চিরবিদায় নিলেন, সেসময়ে তাঁর একমাত্র সন্তানের বয়স মাত্র ৮। ১৯৮৪ সালে আমেরিকাতেই অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আল জয়নারকে বিবাহ করেছিলেন তিনি। আল জয়নারের বোন জ্যাকি জয়নার কার্সিও অলিম্পিক সোনাজয়ী তারকা। বহু ইভেন্টে ননদের সঙ্গে নেমে সেই দৌড়ে শেষ হাসি হেসেছেন ফ্লোরেন্স। আর দুইজনের কোচ ছিলেন ওই আল জয়নার।
১৯৯৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ফ্লোরেন্স যেদিন মারা গেলেন, পুরো বিশ্ব অবাক হয়ে গিয়েছিল। এত ফিট একজন মহিলা অ্যাথলিট কী করে এমনভাবে অকালে বিদায় নিলেন, সেই নিয়ে সকলের মধ্যে রহস্য দানা বেঁধেছে। পরে ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ তদন্ত করে জানায়, ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার মারা যান একটা বদ্ধ ঘরে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায়। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকতেন তিনি। সেখানে বাতাস চলাফেরার জায়গা নেই, এটাই কেউ ভাবতে পারিনি। কিন্তু এও শোনা যায়, তাঁর ছোটবেলা থেকেই স্নায়ুর রোগ ছিল। ওই কারণে তাঁকে প্রচুর ওষুধ সেবন করতে হতো। কিন্তু নিজের এত ক্যারিশমার মধ্যে শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করে এসেছেন। সেটাই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়। আবার অনেকে এর মধ্যে অন্য কারণও খুঁজে বেড়ান। বলা হয়, ফ্লোরেন্স এতদিন ধরে নিজের দাপট বজায় রেখেছিলেন। সেই দাপট অনেকের সহ্য হয়নি। তাই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়।
১০০ মিটার দৌড়ে ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নারের নজির এখনও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। তাঁর ১০.৫১ সেকেন্ড সময় বাকিদের কাছেও কঠিন চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করে এসেছেন, যদি তুমি চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থাকো, তবে আবার চেষ্টা করো। এভাবেই তুমি ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।
কার্ল লুইস কিংবা বেন জনসন অথবা মাইকেল জনসনের মতো ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নারও কি অ্যাথলেটিক্স ইতিহাসে সর্বকালের সেরা? এই নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। বলা হয়, গ্রিফিথ জয়নারের আমলে সেই অর্থে কোনও তাঁর ভাল প্রতিপক্ষ ছিল না। সেই হিসেবে টানা দাপট দেখানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এও ঠিক, নিজের সেরা বের করার জন্য গ্রিফিথ জয়নারের ট্রেনিং সিডিউল বাকিদের কাছে আজও অনুপ্রেরণার।
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।