

মিশরের এই লড়াই ছিল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই। ছবি - Google.
২৪শে জুলাই, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
ইউরোপ ও উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে থেকে কেবল দুটি দেশ নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পেরেছিল—মরক্কো এবং মিশর। ফলে এই ফারাওরা কেবল নিজেদের ১০০ মিলিয়ন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিল না, তারা হয়ে উঠেছিল পুরো আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকান মহাদেশের আশার আলো।
লিবিয়া: ত্রিপোলির ঐতিহাসিক মার্টায়ার্স স্কোয়ারে হাজার হাজার লিবিয়ান নাগরিক মিশরের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে উল্লাস করেছে, গান গেয়েছে।
লেবানন: বৈরুতসহ একাধিক শহরে লেবানন ও মিশরের পতাকা একসাথে উড়িয়ে মানুষ রাস্তায় নাচ গান করেছে।
প্যালেস্তাইন (গাজা): সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মার্মান্তিক দৃশ্য দেখা গেছে গাজা ভূখণ্ডে। যুদ্ধবিধ্বস্ত, বাস্তুচ্যুত প্যালেস্তিনীয় পরিবারগুলোর জন্য ‘ইজিপশিয়ান কমিটি ফর রিঅ্যানস্ট্রাকশন অফ গাজা’ বড় বড় স্ক্রিন, প্রজেক্টর ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে ড্রোন আর বোমার আওয়াজ ভুলে প্যালেস্তিনীয় শিশুরা মিশরের পতাকা জড়িয়ে মোহাম্মদ সালাহদের জন্য চিৎকার করছিল। তাদের চোখে, মিশরের এই লড়াই ছিল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই।
তবে বাস্তবতার আঘাতও এসেছিল নির্মমভাবে। মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন প্যালেস্তিনীদের সেই স্ক্রিনিং আয়োজনের প্রধান পরিচালক মহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ের পর মিশরের প্রধান কোচ হুসাম হাসান ডালাস স্টেডিয়ামে প্যালেস্তাইনের পতাকা উঁচিয়ে ধরে বলেছিলেন: "আমি এই বিজয় উৎসর্গ করছি মিশরের সাধারণ মানুষ আর প্যালেস্তাইনের সেই বীর ও সম্মানিত মানুষের উদ্দেশ্যে।"
ফুটবল মিশরের মানুষের কাছে কোনোদিনও কেবল ৯০ মিনিটের খেলা ছিল না। এটি ছিল মোবারকের স্বৈরাচারী আমলে বেঁচে থাকার অক্সিজেন, আবার এটিই ছিল তহরীর স্কয়ারে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস। পোর্ট সাইদের মাঠ যখন রক্তে লাল হয়েছিল, তখন ফুটবল হয়ে উঠেছিল শাসকগোষ্ঠীর হিংস্রতার নগ্ন দলিল। আর আজ, সব হারানোর পর এই ফুটবলই আবার এক ছিন্নভিন্ন জাতিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। আজ থেকে বহু বছর পর, যখন সব রাজনৈতিক স্বৈরাচার আর অর্থনৈতিক সংকট ইতিহাসের পাতায় স্থান নেবে, তখনো কোনো এক মিশরীয় হয়তো রাতে চোখ বুজলে শুনতে পাবেন সেই বহুল পরিচিত সুর:
সেই সুর কেবল স্টেডিয়ামের চিৎকারের আওয়াজ নয়; ওটা আসলে লড়াই করে টিকে থাকা একটি মহাকাব্যিক জাতির হৃদস্পন্দনের আওয়াজ।
(শেষ)
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।