

সোবার্সের গাড়ি দুর্ঘটনায় চলে যায় কলি স্মিথের প্রাণ।
১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
কেন স্যার গ্যারি সোবার্স বলেছিলেন,"Playing for Two- Myself and my great friend Collie Smith !" ?
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চির শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটারের জীবনের এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা এবং এক অতি প্রতিভাবান ক্রিকেটারের অকালে ঝরে যাওয়ার মর্মান্তিক কাহিনী। ও'নীল গর্ডন স্মিথ - যিনি কোলি স্মিথ নামেই পরিচিতি ছিলেন। সোবার্সের পরই যাঁর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল।। আর ঠিক তখনই ঘটেছিল সেই ভয়াবহ ঘটনা।
১৯৫৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের। একটি চ্যারিটি ম্যাচ খেলতে ম্যাঞ্চেস্টার থেকে লন্ডন যাচ্ছিলেন কলি স্মিথ, সোবার্স এবং ফাস্ট বোলার টম ডিউডনি। রয় গিলক্রিস্টেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর দেরি হওয়ায় তাঁর জন্য অপেক্ষা করে ওই তিন জন রওনা হয়ে যান। সোবার্সের ফোর্ড পারফেক্ট গাড়িটি প্রথমে চালাচ্ছিলেন কোলি স্মিথ। তারপর টম ডিউডনি। তারপর ভোর রাতের দিকে সোবার্স। তখন পাশে ডিউডনি। আর কোলি স্মিথ পিছনের সিটে ঘুমোতে গেলেন।
ভোর ৫.৪৫। তখন তাঁরা স্ট্যাফোর্ডশায়ারের ডার্লাস্টন বেন্ডের কাছে। জায়গাটা দুর্ঘটনা প্রবণ। হঠাৎ উল্টোদিক থেকে আসা তীব্র দুটি হেডলাইটের আলোয় সোবার্সের চোখ যেন ঝলসে গেল! তিনি দৃষ্টি হারিয়ে ফেললেন! কিছুই করে উঠতে পারার আগেই মুখোমুখি সংঘর্ষ! কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারালেন সোবার্স। একটু চেতনা ফিরলে জানতে পারলেন যে একটা ১০ টনের cattle truck-এর সঙ্গে তাঁর গাড়ির সংঘর্ষ হয়েছে! ডিউডনি কেমন যেন শব্দ করছেন, স্মিথ শুয়ে আছেন। সোবার্স তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,"তুমি কেমন আছো?" স্মিথ বলেছিলেন,"আমি ভাল আছি। তুমি দ্যাখো বিগ বয় (টম ডিউডনি) কেমন আছে !"
অ্যাম্বুলেন্স এসে তিনজনকেই নার্সিংহোমে নিয়ে গেল। আহত ডিইডনি বেশ কিছুটা সময় অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। সোবার্সের কব্জির হাড় ভেঙ্গেছিল, একটা আঙ্গুলের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সব থেকে সাঙ্ঘাতিক অবস্থা হয়েছিল কোলি স্মিথের। তাঁর স্পাইনাল কর্ড দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তিন দিন পরে নার্সিংহোমের যে ঘরে ছিলেন সোবার্স এবং ডিউডনি, সেখানে একজন যাজক এলেন এবং জীবনের ঝুকি, অনিশ্চয়তা এবং দুঃখ শোক সম্পর্কে নানা কথা বলতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই দিলেন সেই মর্মান্তিক সংবাদ- কোলি স্মিথ আর নেই।
মাত্র ২৬ বছরেই থেমে গেছেন এক অসম্ভব প্রতিভাবান অলরাউন্ডার। তখনই তাঁর নামের পাশে লেখা- ২৬ টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি, ৬টি হাফসেঞ্চুরি এবং ৪৮ উইকেট! কিংস্টনে তাঁর শেষ যাত্রায় হাজির হয়েছিলেন অন্তত ৬০,০০০ মানুষ।
সেই গাড়ি দুর্ঘটনার জন্য সোবার্সের আর্থিক জরিমানা হয় এবং এক মাসের জন্য তাঁর ড্রাইভার লাইসেন্স বাজেয়াপ্তও হয়েছিল। মানসিক দিক থেকে একদম বিধ্বস্ত হয়ে যান সোবার্স। সামনেই ছিল ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। এর আগে ১৯৫৮ সালের সফরে ট্রুম্যান-স্ট্যাথাম-জিম লেকার-টনি লকের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত ১৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কোলি স্মিথ। অবশ্য জীবনের প্রথম টেস্টেই মিলার-লিন্ডওয়াল-রিচি বেনোর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ছিল তাঁর ১০৪ রানের ইনিংস।
১৯৫৯-৬০ মরশুমে ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৪৮২ রানের জবাবে একটা সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৩ উইকেটে ১০২ রান। চতুর্থ উইকেটের পতন হয় ৫০১ রানে যখন সোবার্স ২২৬ রানে ট্রুম্যানের বলে বোল্ড হয়ে যান।
ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরে সোবার্সের মন দমে গেলেও ব্যাট গর্জে উঠেছিল। তিনি স্মিথের খেলাও খেলে দিতেন দলের হয়ে, প্রায় প্রতি ম্যাচেই। আর কত ইনিংসের পরে স্মিথকে সেই ইনিংস উৎসর্গ করেছেন, ইয়ত্তা নেই। তাই সোবার্স চলে গেলেও তাঁর সেই বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।
(চলবে)
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।