১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
বিরল প্রতিভাই এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা -পর্ব ১

ব্যাটে -বলে দক্ষ গ্যারি সোবার্স। পুরনো অ্যালবাম। ছবি - Google.

বিরল প্রতিভাই এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা -পর্ব ১

calender icon 2 ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

মাইক বিয়ারলির ‘আর্ট অব ক্যাপ্টেন্সি’ নামক একটি বই রয়েছে। ওই বইতে একজন আদর্শ ক্রিকেট অধিনায়ক কেমন হতে পারেন, সেটি নিয়ে লেখা রয়েছে। একবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সেই বইটি কলকাতার এক ক্রীড়া সাংবাদিক উপহার দিতে গেলে তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে এই বইটি ভাল, তবে দেখবেন সোবার্সের কোনো বই পেলে দেবেন।

ক্রিকেটার হবেন, অথচ সোবার্স নিয়ে কোনও বই পড়বেন না, এমনটি হতে পারে না। সুপারহিরো গ্যারি বইটি এখনও বই বাজারে সবচেয়ে খেলা নিয়ে বিক্রিত গ্রন্থ। স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স এত জনপ্রিয় হওয়ার একটাই কারণ, তিনি ছিলেন বিরল প্রতিভার ক্রিকেটার। তিনি এমন এক ক্যারিশ্মায় বিচরণ করতেন, যা তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। সেটি এক ওভারে ছয়টি ছয় মারা হোক, কিংবা তাঁর বোলিং ও ফিল্ডিংও দৃষ্টান্তের ছিল।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ - দুই দশকের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে সোবার্স খেলেছেন ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ। ব্যাট হাতে করেছেন ৮,০৩২ রান, গড় ৫৭.৭৮। একই সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫টি উইকেট। তিনি ছিলেন এমন এক বিরল প্রতিভা, যিনি বাঁহাতি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস, অর্থোডক্স স্পিন ও চায়নাম্যান - তিন ধরনের বোলিংয়েই সমান দক্ষ ছিলেন।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিংস্টনে তাঁর অপরাজিত ৩৬৫ রানের ইনিংস টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ৩৬ বছর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস হিসেবে অটুট ছিল। সেই ইনিংস আজও ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাটিং কীর্তি হিসেবে স্মরণীয়।

১৯৬৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন। প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েন।

তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে 'স্যার' উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীকালে তিনি নির্বাচিত হন উইজডেনের বিংশ শতাব্দীর পাঁচ সেরা ক্রিকেটারের একজন হিসেবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ সম্মান 'স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি' তাঁর নামেই উৎসর্গ করা হয়েছে।

স্যার সোবার্স শুধু পরিসংখ্যানের নাম নন, তিনি ছিলেন ক্রিকেটের শিল্প, সৌন্দর্য এবং পরিপূর্ণতার প্রতীক। তাঁর ব্যাটে ছিল কবিতার ছন্দ, তাঁর বোলিংয়ে ছিল বৈচিত্র্যের বিস্ময় এবং তাঁর ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ ক্ষিপ্রতার প্রতিচ্ছবি। তাই আজও বহু ক্রিকেট বিশ্লেষকের কাছে তিনি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার।

তাঁর বিদায়ে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, শোকস্তব্ধ হয়ে যায় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখবে এক অনন্য ক্রিকেটশিল্পী, এক অসাধারণ মানবিক ব্যক্তিত্ব এবং এমন এক কিংবদন্তি হিসেবে, যিনি ক্রিকেটকে মহিমান্বিত করে গিয়েছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন সকলের শ্রদ্ধার পাত্র, তাই ৯০ বছর হতে যখন আর দশদিন বাকি ছিল, সেইসময় তাঁর জীবন স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় বিহ্বল হয়ে যায় ক্রিকেট দুনিয়া।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

শুভ্র মুখোপাধ্যায়
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

অন্যান্য