১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
সোবার্সের ও অঞ্জুর ট্র্যাজিক প্রেমকাহিনী – শেষ পর্ব

অঞ্জু মহেন্দ্র ও গ্যারি সোবার্স- মিলন হয় নি যে প্রেমের। - ছবি - Google.

সোবার্সের ও অঞ্জুর ট্র্যাজিক প্রেমকাহিনী – শেষ পর্ব

calender icon 2 ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

যে কোনও খেলাতেই তারকা হয়ে গেলে নানা প্রলোভন আসে। ক্রিকেটও তার বাইরে নয়। সাত বা আটের দশকে এমনই একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল সকলকেই। সেবার গ্যারি সোবার্সের সঙ্গে প্রেম প্রণয় নিয়ে চারিদিকে কথা শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেইসময়ের পত্রপত্রিকায় তাঁর প্রেমকাহিনি নিয়ে মুখরোচক স্টোরি হতো।

১৯৫৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। ১৯৫৮ সালে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতেই এল অপরাজিত ৩৬৫। এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দ্রুতই ক্রিকেট আইকনে পরিণত হয়েছিলেন গ্যারি। মুম্বইয়ের নবাগতা অভিনেত্রী অঞ্জু মহেন্দ্রর সঙ্গে আলাপের সময়ে তিনি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের রাজপুত্র। অঞ্জু তাঁর চেয়ে ৯ বছরের ছোট। তবুও আচমকাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁদের।

মডেলিং দিয়ে কেরিয়ার শুরুর পরেই অভিনয় জগতে পা রাখেন অঞ্জু। 'জুয়েল থিফ'-এর মতো ছবিতে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সিনেমাপ্রেমীরা। এরই মধ্যে এক পার্টিতে আলাপ হয় গ্যারির সঙ্গে। সেই থেকে প্রেম শুরু হয় গ্যারির সঙ্গে। তখনই স্যার সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে ভারতে এসেছেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষ। বয়সেরও ব্যবধান ছিল, কিন্তু দুটি মন মিলতে বেশি সময় নেয়নি।

সফর শেষে ফিরে যাওয়ার আগে অঞ্জুকে সোবার্স জানিয়েছিলেন, তিনি ফিরে আসবেন দ্রুত এবং বিয়ে করবেন তাঁকে। এমনকী আংটি বদলও হয়ে গিয়েছিল। সেইসময় তাঁদের প্রেমকাহিনি সকলের মুখে মুখে ঘুরত। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে তাঁদের ভালবাসা বিয়েতে রূপ পায়নি। কারণ প্রথম কারণ অবশ্যই ভৌগলিক দুরত্ব। সেইসময় তো এখনকার মতো সোশ্যাল মিডিয়া এত সক্রিয় ছিল না, তারপর ছিল না হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। একমাত্র ভরসা ছিল আইএসডি করে টেলিফোন কল। সোবার্সও নিজের দেশে ফিরে গিয়ে ক্রিকেটের প্রতি আরও অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের ভালবাসার রং ক্রমে ফিকে হয়ে যায়।

১৯৬৯ সালে বিয়ে হয়ে যায় সোবার্সের। তবে তিনি বিয়ের আগে চিঠি লিখে অঞ্জুর সম্মতিও নেন। প্রাক্তন প্রেমিকা কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাননি। শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে রাজেশ খান্নার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল অঞ্জুর, কিন্তু ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল, এই ছ’বছরের সম্পর্কও ভেঙে যায় গ্যারি সোবার্সের আগমনের কারণে। রাজেশ খান্না ক্রমে সন্দেহ করতে থাকে অঞ্জুকে, তাঁদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, তারপর সেই সম্পর্কও আর জোড়া লাগেনি।

সবথেকে বড় কথা, সেইসময় ডাকসাইটে নামী বলিউড অভিনেত্রী অঞ্জু মহেন্দ্র বাকি জীবনে সোবার্স নিয়ে আর কোনও কথা বলেননি। নীনা গুপ্তা যেমন ভিভ রিচার্ডস নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কথা বলেন। তাঁদের মেয়ে মাসাবার দেখভালও করেন ভিভ, কিন্তু সোবার্স ও অঞ্জু প্রেমকাহিনি বিষাদেই শেষ হয়, যা আর পূর্ণতা পায়নি।

(শেষ)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

শুভ্র মুখোপাধ্যায়
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

অন্যান্য