২০শে জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad
নান্দনিকতা বনাম অশ্লীলতা (শেষ পর্ব)

পার্বতী। ইলোরা গুহা-২৯-এর অপূর্ব ভাস্কর্য। ছবি - Google.

নান্দনিকতা বনাম অশ্লীলতা (শেষ পর্ব)

calender icon 2 ২০শে জুন, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

যদি আমরা শিক্ষার্থীদের সামনে আসল সত্যটা আড়াল করে একটি ‘ফেক আর্টিফ্যাক্ট’ বা নকল নিদর্শন তুলে ধরি, তবে আমরা আসলে তাদের এক ধরণের মিথ্যা চশমা পরিয়ে দিচ্ছি। ইতিহাসকে তার নিজের শর্তে বুঝতে দেওয়া উচিত। প্রাচীন মানুষ কীভাবে ভাবত, তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, তাদের পোশাকের ধারণা কেমন ছিল—সেটা হুবহু জানাই হলো শিক্ষার আসল আনন্দ। তাকে আধুনিক রুচির ফ্রেমে বন্দি করলে আমরা এক সংকীর্ণ মনস্ক প্রজন্ম তৈরি করব, যারা সৌন্দর্য আর অশ্লীলতার তফাতটুকুই বুঝতে শিখবে না।

চিরন্তন সত্যের জয়গান

নদী যেমন নিজের গতিতে চলে, ইতিহাসও ঠিক তেমনি। তাকে বাঁধ দিয়ে বা আবরণ দিয়ে সাময়িকভাবে আটকে রাখা গেলেও, তার ভেতরের সত্যকে কখনো মুছে ফেলা যায় না। এনসিইআরটি-র এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা কিন্তু একটা ইতিবাচক দিকও দেখায়। এটা প্রমাণ করে যে, আমাদের সমাজের একটা বড় অংশ এখনও ইতিহাসের এই রূপান্তরকে মেনে নিতে রাজি নয়। এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তাদের টেক্সটবুক টিমের কাছে পাঠিয়েছে।

মোহেঞ্জোদারোর সেই ছোট্ট ব্রোঞ্জের মেয়েটি আজও ন্যাশনাল মিউজিয়ামের কাঁচের বাক্সে ঠিক তেমনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে, যেমনটা সে আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে সিন্ধু উপত্যকার কোনো এক গলিতে দাঁড়িয়ে ছিল। তার সেই চিরন্তন ভঙ্গি যেন আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে উপহাস করছে। মানুষের তৈরি সাময়িক নৈতিকতা বা পাঠ্যবইয়ের পাতার কাল্পনিক রঙ হয়তো তার গায়ে একটু ছায়া ফেলতে পারে, কিন্তু তার আসল রূপকে, তার ঐতিহাসিক সত্যকে কোনোদিনই ঢেকে দিতে পারবে না। ইতিহাসকে তার নিজের মহিমাতেই বেঁচে থাকতে দেওয়া উচিত, কারণ সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা আসলে আমাদের নিজেদেরই ক্ষুদ্রতাকে প্রকাশ করে।

(শেষ)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য