১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
‘বিন্দুতে সিন্ধু’ আর শুধু প্রবাদ নয়!

মরুভূমিকে টেক্কা ছত্তিশগড়ের এই জেলার! ছবি - NDTV

‘বিন্দুতে সিন্ধু’ আর শুধু প্রবাদ নয়!

জলসংকটের মুখে ঘুরে দাঁড়াল ভারতের এই গ্রাম। ১৫ দিনে জমল ৩১ কোটি লিটার বৃষ্টির জল।

'কুয়ো শুকিয়ে যাওয়ার আগে জলের মর্ম বোঝা যায় না'— এই পুরনো প্রবাদটি গ্রামীণ ভারতের জন্য এক রূঢ় বাস্তব। বিশেষ করে যে সমস্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে জলসংকট শুধু চাষের ক্ষতি করে না, বরং কেড়ে নেয় বেঁচে থাকার রসদও। এই পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণ কোনও  বিলাসী পরিবেশ ভাবনা নয়, বরং কোটি কোটি কৃষক পরিবারের টিকে থাকার লড়াই। এই লড়াইয়েই এক অনন্য নজির গড়ে দেখাল ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলা।

সঙ্কট থেকে শুরু ‘আমার গ্রাম, আমার জল ২.০’

মহাসমুন্দ জেলায় বছরের পর বছর ধরে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নামছিল। রবি ও খরিফ— দুই মরসুমেই ব্যাপক ধান চাষের কারণে মাটির তলার জলের ওপর চাপ বাড়ছিল প্রতিনিয়ত। ফলে প্রতি গ্রীষ্মেই তীব্র জলকষ্টে ভুগতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতি বদলাতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষ একজোট হয়ে শুরু করেন ‘আমার গ্রাম, আমার জল ২.০’ (My Village, My Water 2.0) অভিযান। জল সংরক্ষণকে একটি বিচ্ছিন্ন সরকারি কাজ হিসেবে না রেখে, একে গণ-আন্দোলনে রূপ দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। জেলার ৫৫১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১,১৪০টিরও বেশি গ্রামে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

১৫ দিনের জনজোয়ার ও ৩.৪১ লক্ষ জল-কাঠামো

এই অভিযানের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দিকটি ছিল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ গ্রামবাসী কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই নিজেদের শ্রম দান করেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তৈরি করা হয় ৩ লক্ষ ৪১ হাজারেরও বেশি জল সংরক্ষণ কাঠামো। এর মধ্যে ছিল বৃষ্টির জল ধরে রাখার গর্ত (রেনওয়াটার হার্ভেস্টিং পিট), সোক পিট, নালা, ছোট বাঁধ (চেক ড্যাম), পুকুর এবং কুয়ো। গ্রামের জল গ্রামেই ধরে রেখে মাটির তলার জলের পুনরুজ্জীবন ঘটানোই ছিল এর উদ্দেশ্য।

প্রথম বর্ষাতেই অভাবনীয় সাফল্য

গত ১৪ মে থেকে ৩০ মে-র মধ্যে হওয়া মরসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই এই বিপুল পরিশ্রমের সুফল হাতেনাতে মেলে। যে জল আগে ড্রেন ও নদী দিয়ে বয়ে নষ্ট হয়ে যেত, নতুন পরিকাঠামোর কারণে তার মধ্যে প্রায় ৩১ কোটি (৩১০ মিলিয়ন) লিটার জল ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আরন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শঙ্কর লাল যাদব জানান, গ্রামসভার বৈঠকে আলোচনার পর তাঁদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সোক পিট তৈরি করা হয়েছে, যা ঘরের ব্যবহৃত ও বৃষ্টির জলকে সরাসরি মাটির নিচে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

জনভাগীদারির এক উজ্জ্বল মডেল

মহাসমুন্দের জেলা শাসক বিনয় কুমার ল্যাঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘জল সংরক্ষণ-জন ভাগীদারি’ ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়েই এই সাফল্য এসেছে। কৃষি, বন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। মহাসমুন্দের এই মডেল আজ প্রমাণ করে দিল, প্রশাসন ও জনগণ যদি একসঙ্গে হাত মেলায়, তবে প্রকৃতির রুক্ষতাকেও জয় করা সম্ভব।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য