১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জনের ‘সেই আক্ষেপ’ আজও আছে

লাল-হলুদের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। ছবি - Google

ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জনের ‘সেই আক্ষেপ’ আজও আছে

calender icon 2 ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মূল বিষয়

নিজের ৭৩তম জন্মদিবসেও ‘সেই আক্ষেপ’ রয়ে গিয়েছে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের, যাঁকে ময়দান চেনে ‘মনা’ নামে। তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল দলের ডিফেন্সের কাণ্ডারী। রক্ষণের অন্যতম ভরসা ছিলেন এই ডাকাবুকো ডিফেন্ডার। 

টানা ১৬ বছর খেলেছেন লাল হলুদের জার্সি পরে। তবে ১৯৯১-৯২ মরশুমে কর্তাদের সঙ্গে মতান্তরে একবছরের জন্য মোহনবাগানে চলে গিয়েছিলেন। সেটাই তাঁর জীবনের বড় ভুল মানেন মনা। বলছিলেন, ‘‘আমি নিজের বুদ্ধিতে যাইনি মোহনবাগানে, অন্যদের কথায় প্রভাবিত হয়েছিলাম, সেই কারণেই ভুলটা হয়ে গিয়েছিল। এখনও ভাবলে কষ্ট লাগে, আমার একবছরের জন্য যাওয়া উচিত হয়নি মোহনবাগানে। আবার ১৯৯৩ সালে ইস্টবেঙ্গলে এসেই আমি অবসর নিয়ে সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্য করেছিলাম।’’ মন বিষন্নতায় ভরে ওঠে প্রাক্তন নামী তারকার।

কে সেরা?

ময়দানে এখনও কান পাতলে শোনা যায় সেই বিতর্ক, কে সেরা সুব্রত ভট্টাচার্য না মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। দু’জনেই টাফ ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘‘সুব্রত সেরা ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ে, তিনি তেমনভাবে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভাল খেলতে পারেননি। মনোরঞ্জন আবার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুটি পর্যায়তেই সেরা ফুটবল খেলতেন।’’ সেই নিয়ে অবশ্য মনোরঞ্জন এখনও মুখ খুলতে নারাজ। ‘‘এটা আমি কী করে বলব? যাঁরা আমাদের খেলা দেখেছেন, তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন কে এগিয়ে। তবে আমাদের খেলার স্টাইল একেবারেই আলাদা ছিল। আমি বেশি বল ধরে খেলতে ভালবাসতাম, বাবলুদা বিপরীতধর্মী ফুটবলার ছিলেন।’’

১৯৮০ সালে ইস্টবেঙ্গল দল প্রায় ভেঙে গেল৷ তারকারা অনেকেই মোহনবাগানে চলে গেলেন। সেদিনও কিন্তু মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য অনেক বড় অঙ্কের টাকার অফারেও ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে যাননি। একেবারে ভাঙা দল, প্রায় নবাগত তরুণদের নিয়ে তৈরি ইস্টবেঙ্গল, মরশুমে মাত্র একটা ম্যাচ হেরেছিল৷ সেদিন সিংহের মতো ডিপ ডিফেন্সেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মনোরঞ্জন৷ ভারতের কোনও ক্লাবই সেইবছর ইস্টবেঙ্গলকে হারাতেই পারেনি৷

আরও পড়ুন
ইতিহাস গড়েও কুৎসিত আক্রমণের মুখে বাংলার কেয়া!
ময়দান ভোলেনি আশির বাদশাকে, ইরানে ফুটবলের সঙ্গেই জুড়ে মজিদ
জন্ম মাসে অমলিন শৈলেন মান্নার স্মৃতি, হাজারো কীর্তি

মনার যাত্রা শুরু

১৯৭৪ সালে কলকাতা পুলিশের হয়ে ময়দানে প্রথম ম্যাচ খেলা৷ ময়দানের প্রথম ক্লাব জর্জ টেলিগ্ৰাফ দিয়ে শুরু তাঁর ময়দানের ফুটবল জীবন। এরপর ইস্টবেঙ্গল, সালটা ১৯৭৭৷ তারপর মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের ফুটবল জীবনে শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প৷ ফুটবলার হিসেবে সোনার সফর কাটিয়েছেন লাল হলুদে। আলাপচারিতায় বারবার জানিয়েছেন, রক্ষণে তরুণ দে পাশে থাকলে তিনি আরও নিশ্চিন্ত বোধ করতেন। 

আটের দশকে ভারতের সম্ভবত সেরা ডিপ ডিফেন্ডার মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য! অসাধারণ তাঁর অনুমান ক্ষমতা, খুব বেশি উচ্চতার না হয়েও যেমন ছিল কোয়ালিটি হেডিং, তেমনই সঠিক সময়ে বলের কাছে পৌঁছে যাওয়া ও সঙ্গে দুরন্ত ফাইনাল ট্যাকল৷ অনবদ্য পজিশন জ্ঞানের জন্য স্ট্রাইকারের উদ্দেশে বাতাসে ভেসে আসা বলকে দিব্যি হেড করে  ফিরিয়ে দিতেন বিপক্ষ শিবিরে। তিনি বহু ম্যাচের ত্রাতাও। রক্ষণ থেকে গিয়ে বুলডোজার শটে গোলও করে এসেছেন।

ইস্টবেঙ্গল অন্তপ্রাণ

ইস্টবেঙ্গলে থাকার সময়ে তাঁর সঙ্গেই কর্তারা প্রথম চুক্তি সারতেন। তাঁকে সবাই খুব ভালবাসতেনও। তাই এখনও মনা লাল হলুদ অন্তপ্রাণ। বলছিলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল আমার মায়ের মতো। আমাকে ক্লাব বহু ভালবাসা দিয়েছে, সেইজন্যই আমি ঋণী হয়ে থাকব।’’ সপ্তাহে এখনও একদিন ক্লাবে যাবেনই। আক্ষরিক অর্থে ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে৷ মুখে কম কথা বলতেন, প্রেসের সামনে সবসময় আসতেন না৷ সমালোচনার জবাব দিতে ভালবাসতেন মাঠেই। এখনও মনার সেই জেদ রয়ে গিয়েছে, যা বলেন মুখের ওপর। 

লাল হলুদের হয়ে অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন ফুটবলার হিসেবে। কোচ হিসাবে মশাল বাহিনীকে গর্বিত করেছেন জাতীয় লিগ জিতিয়ে। নিশ্চিতভাবে ইস্টবেঙ্গলে খেলে যেমন তিনি মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য হয়েছেন, তেমনই ক্লাবের জন্য বছরের পর বছর আত্মত্যাগ করেছেন স্রেফ ক্লাবকে ভালবেসে, ক্লাবের সমর্থকদের আবেগকে শ্রদ্ধা করে৷ হয়ত সেই কারণে আজও মনোরঞ্জনকে নিজেদের ছেলে বলেই ভাবেন ইস্টবেঙ্গল জনতা। ট্রফি, সাফল্যের পরেও সেই আবেগ রয়ে গিয়েছে এখনও।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
শুভ্র মুখোপাধ্যায়
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য