

স্বপ্ন সফল হলেও শেষরক্ষা হল না। ছবি - Google.
৫ই আগস্ট, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
২০২৬ সালের মে মাসে এভারেস্ট ও লোটসে পর্বত দুটি কোনো কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মাত্র ১৩ ঘণ্টায় পার হয়ে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন নিম্স। এর পর তিনি পা বাড়ান তাঁর পরবর্তী মাইলফলকের দিকে—কোনো অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়া সব কটি আটহাজারী পর্বত দুবার করে জয় করা। সেই লক্ষ্যেই ২০২৬ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে (৮,০৫১ মিটার) পৌঁছান তিনি।
মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, ২৯ জুলাই রাত ৮টা ০৭ মিনিটে এনডিটিভির এক সাংবাদিকের কাছে ক্যাম্প-২ থেকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন নিম্স। অত্যন্ত উৎফুল্ল গলায় তিনি বলেছিলেন যে তিনি তাঁর ৫৮তম ৮,০০০ মিটারের বেশি উঁচু শৃঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। আবহাওয়া পরীক্ষার ফাঁকে পাওয়া বার্তার জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন অভিযানের পর আবার কথা হবে।
৩০ জুলাই সকাল ৯টা নাগাদ (স্থানীয় সময়), ব্রড পিকের ওয়েস্ট রিজ রুটে ৬,৬০০ মিটার উঁচুতে ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩ এর মাঝামাঝি স্থানে এক ভয়ানক তুষারধস আঘাত হানে। নিম্সসহ তাঁর ১০ জনের পর্বতারোহী দল—যার মধ্যে আমেরিকান, চীনা, ওমানি ও নেপালি আরোহীরা ছিলেন—নিমেষের মধ্যে বরফের নিচে চাপা পড়েন। স্যাটেলাইট ট্র্যাকার অনুযায়ী, ৯টা ৩৮ মিনিটে তাঁর অবস্থান ছিল ২১,৮৪৭ ফুটে, কিন্তু ১০টা ১৮ মিনিটের মধ্যে সেটি ৮০০ মিটার নিচে নেমে যায়। ২ আগস্ট যৌথ রেসকিউ টিম ৫,৭০০ মিটার উচ্চতা থেকে নিম্সের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
নিম্সদাইয়ের আকস্মিক প্রয়াণে বিশ্ব পর্বতারোহণ মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হিসেবে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানান। বিশিষ্ট অভিযাত্রী বিয়ার গ্রিলস তাঁর অদম্য সাহসের প্রশংসা করেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সাহস ও নিষ্ঠার ইতিহাস যুগ যুগ ধরে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
২০০৯ সালে স্পেশাল বোট সার্ভিস-এ যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের প্রজেক্ট পসিবল, ২০২১ সালে কে২-এর শীতকালীন জয় এবং ২০২৬ সালে ৫৮টি আটহাজারী শৃঙ্গ জয়ের অবিশ্বাস্য মাইলফলক—সব মিলিয়ে নির্মল পুরজা কেবল পর্বত জয় করেননি, তিনি মানুষের ধারণার সীমানাকে জয় করেছিলেন। দরিদ্র এক গ্রাম থেকে শুরু করে হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে—ইচ্ছা আর সাহস থাকলে কোনো লক্ষ্যই অসম্ভব নয়। ব্রড পিকের বরফে হয়তো নিম্সদাইয়ের দেহ চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু পর্বতারোহণের ইতিহাসে তাঁর রেখে যাওয়া পায়ের ছাপ কোনোদিন মুছে যাবে না।
(চলবে)
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।
