১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
নির্মল ‘নিমস’ পুরজা (পর্ব ২)

শেরপা নির্মল পুরজা। ছবি - Google.

নির্মল ‘নিমস’ পুরজা (পর্ব ২)

calender icon 2 ৫ই আগস্ট, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

শেরপাদের সম্মান ও মৃত্যুঞ্জয়ী মানসিকতা

পশ্চিমী পর্বতারোহীরা বহু বছর ধরে নেপালের 'শেরপা'দের কেবল সাধারণ গাইড বা মালবাহক হিসেবে দেখে এসেছে। নিম্সদাই এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বকে বোঝাতে চেয়েছিলেন, দুর্গম শৃঙ্গগুলোতে শেরপাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

নিম্সের মানসিকতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অন্নপূর্ণা জয়ের পর চরম ক্লান্ত অবস্থায় যখন তিনি নিচে নামছেন, তখন জানতে পারেন এক পর্বতারোহী উপরে আটকে পড়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা ও অন্ধকারে টিম নিয়ে হেলিকপ্টারে করে আবার উপরে উঠে সেই বিপন্ন পর্বতারোহীকে উদ্ধার করেন তিনি। মিলিটারির 'কাউকে পেছনে ফেলে যাওয়া যাবে না'—এই নীতি তিনি পর্বতারোহণেও বজায় রেখেছিলেন।

২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি নিম্সদাই আরেক ইতিহাস রচনা করেন। পর্বতারোহণের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ‘কে২’ (K2) পর্বতে শীতকালে প্রথম সফল আরোহণ করেন তিনি এবং তাঁর ৯ জন নেপালি পর্বতারোহীর দল। মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কোনো কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার ছাড়াই এই চূড়ায় পৌঁছে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।

রেকর্ড ও বিতর্কের সমান্তরাল পথ

পরবর্তী বছরগুলোতে নিম্স একের পর এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০২৪ সালে তিনি কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ১৪টি শৃঙ্গ জয়ের রেকর্ড নিজের নামে করেন। ২০২৫ সালে তিনি ঘোষণা করেন তাঁর 'হ্যাটট্রিক চ্যালেঞ্জ'—বিশ্বের ১৪টি আটহাজারী শৃঙ্গ এবং সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া তিনবার করে অতিক্রম করার লক্ষ্য।

তবে সাফল্যের আলোকের পাশেই ছিল বিতর্কের ছায়া। ২০২৪ সালে 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এ দুই মহিলা পর্বতারোহী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। নিম্স আইনি উপায়ে এবং নিজের পডকাস্ট ‘সামিট জাস্টিস’-এর মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নেপাল প্রেস কাউন্সিল একটি স্থানীয় সংবাদপত্রকে নিম্সের বিরুদ্ধে একপেশে খবর পরিবেশনের দায়ে ব্ল্যাকলিস্টও করে। বিতর্ক সত্ত্বেও পাহাড়ে নিম্সের জনপ্রিয়তা ও নৈপুণ্য নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী
সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য