৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

মাইক নীরব, কানেও ছুটি! ভোটের আগে বাংলায় নেমেছে ‘শব্দ-শান্তি’, এখন জল্পনার ঝড়

কলকাতা: অবশেষে একটু স্বস্তি! বহুদিনের ‘শব্দ-সন্ত্রাস’ পেরিয়ে যেন বাংলার আকাশে নেমেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। শহর থেকে গ্রাম—যেখানে এতদিন মাইকের চোটে কথাই শোনা যেত না, সেখানে এখন পাখির ডাকও স্পষ্ট। রসিক বাঙালির মন্তব্য, “এই ক’দিনে কানটা যা সহ্য করেছে, এখন অন্তত ছুটি পেল!”

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ১৬ মার্চ। কিন্তু বাস্তবে প্রচারের দামামা বেজে গিয়েছিল তারও বহু আগে। এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত বছরের নভেম্বর থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল বাংলার রাজনৈতিক আবহ। সময় যত গড়িয়েছে, ততই চড়েছে প্রচারের ভলিউম—আক্ষরিক অর্থেই!

একদিকে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট ব্রিগেড—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার সঙ্গে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল—সব মিলিয়ে যেন ‘স্টার ওয়ার্স’-এর ময়দান হয়ে উঠেছিল বাংলা। হেলিকপ্টার নামছে, সভা হচ্ছে, আর মাইকের আওয়াজে কাঁপছে জনপদ।

সকাল থেকে রাত—মাইক, স্লোগান, গানের তালে প্রচার—এমন অবস্থা হয়েছিল যে, অনেকেই মজা করে বলছিলেন, “ভোট শেষ না হলে কানে হিয়ারিং এইড লাগাতে হবে!” বিশেষত শহরাঞ্চলে তো বটেই, গ্রামবাংলার নিরিবিলি পরিবেশও রীতিমতো শব্দে জর্জরিত হয়ে উঠেছিল।

তবে সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে প্রচার পর্ব শেষ হতেই হঠাৎ করেই যেন ‘সাউন্ড অফ’। না মাইক, না স্লোগান—শুধুই এক অচেনা শান্তি। এই নীরবতাই এখন বাংলার নতুন ‘ব্রেকিং নিউজ’!

তবে মাইক থামলেও মুখ থামেনি। চায়ের দোকান থেকে ট্রেনের কামরা, বাসস্ট্যান্ড থেকে পাড়ার আড্ডা—সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, “ফল কী হবে?” কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এই হিসেব কষতেই ব্যস্ত আমজনতা।

এবারের ভোটে প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে প্রায় অশান্তিহীন ভোট হয়েছে বলেই দাবি কমিশনের। সেই সঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ার নজির নতুন করে কৌতূহল বাড়িয়েছে। এত উচ্চ হারে ভোটদান—তা কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি স্থিতাবস্থার পক্ষে সিলমোহর?

আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট। কমিশনের আশ্বাস, সেখানেও থাকবে কড়া নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ। তবে রাজনৈতিক মহল বলছে, উচ্চ ভোটদানের হার যদি একই থাকে, তাহলে ফলাফল হতে পারে চমকপ্রদ।

সব মিলিয়ে এখন বাংলায় ‘নীরবতার রাজনীতি’। বাইরে শান্তি, ভিতরে উত্তেজনা। মাইক বন্ধ, কিন্তু মনের ভেতর প্রশ্নের আওয়াজ ক্রমশই চড়ছে। কলকাতা: অবশেষে একটু স্বস্তি! বহুদিনের ‘শব্দ-সন্ত্রাস’ পেরিয়ে যেন বাংলার আকাশে নেমেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। শহর থেকে গ্রাম—যেখানে এতদিন মাইকের চোটে কথাই শোনা যেত না, সেখানে এখন পাখির ডাকও স্পষ্ট। রসিক বাঙালির মন্তব্য, “এই ক’দিনে কানটা যা সহ্য করেছে, এখন অন্তত ছুটি পেল!”

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ১৬ মার্চ। কিন্তু বাস্তবে প্রচারের দামামা বেজে গিয়েছিল তারও বহু আগে। এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত বছরের নভেম্বর থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল বাংলার রাজনৈতিক আবহ। সময় যত গড়িয়েছে, ততই চড়েছে প্রচারের ভলিউম—আক্ষরিক অর্থেই!

একদিকে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট ব্রিগেড—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার সঙ্গে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, আপের অরবিন্দ কেজরিওয়াল—সব মিলিয়ে যেন ‘স্টার ওয়ার্স’-এর ময়দান হয়ে উঠেছিল বাংলা। হেলিকপ্টার নামছে, সভা হচ্ছে, আর মাইকের আওয়াজে কাঁপছে জনপদ।

সকাল থেকে রাত—মাইক, স্লোগান, গানের তালে প্রচার—এমন অবস্থা হয়েছিল যে, অনেকেই মজা করে বলছিলেন, “ভোট শেষ না হলে কানে হিয়ারিং এইড লাগাতে হবে!” বিশেষত শহরাঞ্চলে তো বটেই, গ্রামবাংলার নিরিবিলি পরিবেশও রীতিমতো শব্দে জর্জরিত হয়ে উঠেছিল।

তবে সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে প্রচার পর্ব শেষ হতেই হঠাৎ করেই যেন ‘সাউন্ড অফ’। না মাইক, না স্লোগান—শুধুই এক অচেনা শান্তি। এই নীরবতাই এখন বাংলার নতুন ‘ব্রেকিং নিউজ’!

তবে মাইক থামলেও মুখ থামেনি। চায়ের দোকান থেকে ট্রেনের কামরা, বাসস্ট্যান্ড থেকে পাড়ার আড্ডা—সব জায়গাতেই এখন একটাই আলোচনা, “ফল কী হবে?” কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এই হিসেব কষতেই ব্যস্ত আমজনতা।

এবারের ভোটে প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে প্রায় অশান্তিহীন ভোট হয়েছে বলেই দাবি কমিশনের। সেই সঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ার নজির নতুন করে কৌতূহল বাড়িয়েছে। এত উচ্চ হারে ভোটদান—তা কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি স্থিতাবস্থার পক্ষে সিলমোহর?

আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট। কমিশনের আশ্বাস, সেখানেও থাকবে কড়া নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ। তবে রাজনৈতিক মহল বলছে, উচ্চ ভোটদানের হার যদি একই থাকে, তাহলে ফলাফল হতে পারে চমকপ্রদ।

সব মিলিয়ে এখন বাংলায় ‘নীরবতার রাজনীতি’। বাইরে শান্তি, ভিতরে উত্তেজনা। মাইক বন্ধ, কিন্তু মনের ভেতর প্রশ্নের আওয়াজ ক্রমশই চড়ছে। এখন অপেক্ষা।

গরমে স্মার্ট এসি মেশিন বাজারে আনল স্যামসাং, প্রযুক্তি ভরা এসির দাম নাগালের মধ্যেই

দাবদাহে নাভিশ্বাস ছুটছে

গরমের এই প্রবল দাবদাহে মানুষের নাভিশ্বাস ছুটেছে। এক চিলতে ছায়ার জন্য মানুষের আকুতি বাড়ছে। যাঁরা সারাদিন রোদের মধ্যে কাজ করেন, তাঁদের কষ্টটা সবচেয়ে বেশি। সেই কারণেই সেই মানুষরা রাতে বাড়ি ফেরার পরে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে ফিরে যেতে চান। সেইসময় সারাদিনের ক্লান্তি মেটাতে দরকার বাতানাকূল ঘরের। তারজন্য স্মার্ট এসি হলে তো কথাই নেই। শহর কলকাতায় ঘুরলে চোখে পড়বে এসি মেশিনের দোকানগুলিতে লম্বা লাইন। এই গরম থেকে বাঁচতে এসির জুড়ি মেলা ভার।

এসি মেশিন লাক্সারি নয়

এই মুহূর্তে এসি মেশিন আর লাক্সারি নয়, এটা প্রয়োজনীয় দ্রব্যে পরিণত হয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন কোম্পানি যতটা সম্ভব কম খরচে এসি মেশিন বাজারে আনছে। স্যামসাং কোম্পানিও এবার সেই পথেই হাঁটল। তারা মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যেই স্মার্ট এসি মেশিন বাজারে এনেছে শেষ সপ্তাহেই। দাম শুরু ৩২৪৪০ টাকা থেকে।

স্যামসাং মেশিনে থাকছে উইন্ড ফ্রি সিস্টেম

এই এসি-তে স্যামসাং-এর নিজস্ব প্রযুক্তি ‘এআই ফাস্ট অ্যান্ড কমফোর্ট কুলিং’ ব্যবহার করা হয়েছে। বাস্তবে, এটি প্রথমে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করা শুরু করবে, তারপর সেট করা তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর কম তীব্রতার মোডে চলে যাবে আপনাআপনিই। সরাসরি ঠান্ডা বাতাস দেওয়ার পরিবর্তে  উইন্ড-ফ্রি সিস্টেমটি ইউনিট জুড়ে থাকা ছোট ছোট ভেন্টের মাধ্যমে বাতাস ছড়িয়ে দেবে পুরো ঘরেই। এর উদ্দেশ্য হল, ব্যবহারকারীর গায়ে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ না লাগিয়ে তাপমাত্রা বজায় রেখে চলা। এই সিস্টেমে ঘরের অবস্থা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে নিজেকে সেই মতো সামঞ্জস্য রাখতে পারে।

মেশিনে রয়েছে এণার্জি মো্ডও

এতে একটি এআই এনার্জি মোড (AI Energy Mode) রয়েছে, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী কম্প্রেসরের চলার ধরণ পরিবর্তন করে। এর মূল উদ্দেশ্য,  যখন সম্পূর্ণ ঠাণ্ডার প্রয়োজন হয় না, তখন অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো। স্যামসাং কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারদের মতে,  এটি বিদ্যুৎ খরচ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। যদিও প্রকৃত ফলাফল ব্যবহার ও পরিবেশের উপর নির্ভর করবে।

বিশেষত্ব স্মার্টথিংস ইন্টিগ্রেশন

এসিগুলোতে ‘স্মার্টথিংস ইন্টিগ্রেশন’ রয়েছে, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে রিমোট কন্ট্রোল করা যায়। ব্যবহারকারীরা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহারের হিসেব রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারেন। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ভয়েস কন্ট্রোল এবং বেসিক অটোমেশন মোডও।  যেমন বাড়ি থেকে বের হলে বা বাড়িতে ঢুকলে সেটিংস বদল করে নেবে মেশিন নিজে থেকেই।

স্যামসাং-এর নতুন এসি। ফাইল চিত্র।

ভোট মানেই বাস উধাও! নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগের সেই একই চেনা ছবি

কলকাতা: ভোট এলেই যেন শহরের চেনা ছন্দে ছেদ পড়ে। রাস্তাঘাট ফাঁকা নয়, ফাঁকা হয়ে যায় বাসস্ট্যান্ড। চেনা সেই দৃশ্য— দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের লম্বা লাইন, আর বাসের দেখা নেই। চলতি বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হল না। কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্রই নিত্যযাত্রীদের একই হাল।

পরিবহণ দফতরের তরফে নির্বাচনী কাজে বিপুল সংখ্যক সরকারি ও বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আর তার জেরেই রাস্তায় বাসের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কমে গিয়েছে। ফলত অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী— সকলেরই নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। অনেকেই বাড়ি থেকে অনেক আগেই বেরোচ্ছেন, তবুও গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে দেরিতে।

২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট মিটলেও স্বস্তি ফেরেনি। সামনে দ্বিতীয় দফার ভোট— আগামী বুধবার। তারপর গণনা ৪ মে। ফলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানাচ্ছে দফতর সূত্র।

নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগের যাতায়াত। ছবি: Google

বাসমালিক সংগঠনগুলির দাবি, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বহু বাস ভোটের কাজে দিতে হয়েছে। সেই বাসগুলিই এখন বিভিন্ন জেলায় ভোটকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর পরিবহণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শহর ও শহরতলির রুটে। বাস কমে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে অটো, ট্যাক্সি ও অ্যাপ-ভিত্তিক গাড়ির উপর। অভিযোগ উঠছে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ারও। অন্যদিকে ট্রেন ও মেট্রোতেও উপচে পড়া ভিড়।

পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, প্রায় আড়াই হাজার বেসরকারি বাস ভোটের কাজে নেওয়া হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবেই।
নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ নতুন নয়। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি নির্বাচনেই একই সমস্যা দেখা যায়, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অন্তত কিছু বাস চালু রাখার দাবিও উঠছে বারবার।

যদিও দফতরের যুক্তি, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া— তা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই প্রধান লক্ষ্য। তবে যাত্রীদের সমস্যাও নজরে রাখা হচ্ছে বলে দাবি।

সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহার কথায়, “আমরাও চাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাস ভোট না মিটলে ছাড়বে না। ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটের পর কিছু বাস ফেরত মিলতে পারে, কিন্তু তাতেও পুরো স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।”

সব মিলিয়ে, ভোটের এই মরসুমে ‘বাসের অপেক্ষা’ যেন নিত্যযাত্রীদের নিয়তি।

টাকার দামে ঐতিহাসিক ধস: তেলের বাজারে আগুন ও বিনিয়োগের খরায় দিশেহারা ভারতীয় মুদ্রা

সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় অর্থনীতির আকাশে কালো মেঘ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের লাগামহীন দামের চাপে কমছে ভারতীয় টাকার। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবার লেনদেন শুরু হতেই টাকার দাম প্রতি ডলারে ৯৪.২৬ থেকে ৯৪.৩০ টাকার স্তরে নেমে যেতে পারে। গত শুক্রবার যেখানে বিনিময় হার ছিল ৯৪.২৪৭৫, সেখানে এই ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।

সাড়ে তিন বছরের রেকর্ড পতন: কেন এই বিপর্যয়?

বিদায়ী সপ্তাহটি ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মাত্র সাত দিনে টাকার দাম পড়েছে ১.৪২ শতাংশ, যা গত ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতন। এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ:

  • হরমুজ প্রণালীর সংকট: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনার ফলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম আকাশচুম্বী।
  • রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পিছু হটা: এতদিন ভারতীয় টাকার মান ধরে রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) যে সুরক্ষা কবচ বা বিশেষ পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, তার কিছু অংশ হঠাৎ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মুদ্রা বাজার কিছুটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

তেলের দাপটে জ্বলছে অর্থনীতি

টাকার এই নাজেহাল অবস্থার প্রধান ‘খলনায়ক’ হল অপরিশোধিত তেল। সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার স্পর্শ করেছে। মাত্র এক সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং তেলের জাহাজে চলাচলে বিঘ্ন ঘটা—এই দুইয়ের প্রভাবে ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

ডলারের আকাল ও আমদানিকারকদের আতঙ্ক

বাজারের অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তেলের দাম বাড়লে আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার এক প্রবল হিড়িক পড়ে যায়। ভবিষ্যতের বড় লোকসান থেকে বাঁচতে তারা আগাম ডলার মজুত করতে শুরু করেন (যাকে অর্থনীতির ভাষায় ‘হেজিং’ বলা হয়)। ফলে বাজারে ডলারের জোগান কমে যায় এবং চাহিদা তুঙ্গে ওঠায় টাকার দাম হু হু করে নামতে থাকে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকরা ডলারের দাম আরও বাড়ার আশায় তা বাজারে ছাড়ছেন না, ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FPI) অর্থ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যদিও মার্চ মাসের তুলনায় (১২.৫ বিলিয়ন ডলার) এপ্রিল মাসে অর্থ বেরোনোর গতি (৫ বিলিয়ন ডলার) কিছুটা কমেছে, কিন্তু নিট বিনিয়োগ এখনও নেতিবাচক। অর্থাৎ, ভারতীয় বাজারে টাকা আসার চেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি, যা সরাসরি টাকার এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ভবিষ্যৎ সংকেত

তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের খরা, এই দুই সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। টাকা দুর্বল হওয়ার অর্থ হল বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বেশি খরচ, যার ফলে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়তে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগামী দিনে বাজার নিয়ন্ত্রণে কী সাহসী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

‘শতাব্দীর লাডলি’ জোহরা সেহগল: বয়স যেখানে শুধু একটি সংখ্যা

আজ জন্মদিন

একটা দৃশ্য কল্পনা করা যাক – একটি জানালার পাশে বসে আছেন এক প্রবীণা। সাদা চুলে নরম আলোর ছোঁয়া, চোখে দুষ্টু ঝিলিক, ঠোঁটে অমলিন হাসি নিয়ে নীরবে পর্যবেক্ষণ করছেন জীবন। মনে হয়, যেন সময়কে নিজের সঙ্গী করে হার না মানা এক প্রজ্ঞা। এই দৃশ্য এবং তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা অনুভূতি নিখুঁতভাবে তুলে ধরে যে ব্যক্তিত্বকে তিনি জোহরা সেহগল – একজন শিল্পী, যিনি বয়সকে অতিক্রম করে বেঁচে থাকার এক নতুন সংজ্ঞা রচনা করেছেন।

এক অদম্য প্রাণ

১৯১২ সালের ২৭ এপ্রিল ব্রিটিশ শাসিত ইউনাইটেড প্রভিন্সের সাহারানপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম রোহিলা পাঠান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সাহেবজাদী জোহরা মমতাজুল্লাহ খান বেগম । কিন্তু তাঁর ভিতরে ছিল এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা – নিজেকে খুঁজে পাওয়ার ও নিজের মতো করে বাঁচার। আর রক্ষণশীলতার শেকলের মাঝখানে এই অবাধ্য আর কৌতূহলী মন আগামীতে পৌঁছে যাবে বিশ্বের মঞ্চে।

নৃত্যে খুঁজে পাওয়া মুক্তি

মায়ের অকাল মৃত্যুর পর ব্যতিক্রমী জীবনের এই আকাঙ্ক্ষা লাহোরের কুইন মেরি কলেজে, পর্দাপ্রথা, জার্মানির মেরী উইগম্যানের ব্যালে ইন্সটিউট, পাশ্চাত্য আধুনিক নৃত্যশৈলীর প্রশিক্ষণ পেরিয়ে তাঁকে জগৎ খ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের দলে পৌঁছে দেয়। নৃত্যের ছন্দে জোহরা খুঁজে পান মুক্তির স্বাদ। ইউরোপের থিয়েটার, জাপানের মঞ্চ আর আমেরিকার দর্শক – সবখানেই তাঁর নাচ হয়ে উঠলো এক গল্প, যেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি নতুন রূপে ধরা দিত। তাঁর শরীরের ভঙ্গিমায় ছিল যেন এক আস্ত কবিতা, আর প্রতিটি মুদ্রায় ছিল জীবনের স্পন্দন। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো গোটা বিশ্বে।

জীবনের মঞ্চে ব্যক্তিগত বিপ্লব

জোহরা’র জীবনের সাথে বিপ্লব এক সমার্থক শব্দ। তা সে ছোটবেলার স্বাধীন চলাফেরা কিংবা চিন্তাভাবনা হোক অথবা প্রেম ও বিবাহ-ই হোক না কেন। ১৯৪০ সালে ভারতে ফিরে আসার পর সেহগাল আলমোরায় উদয় শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচারাল সেন্টারে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং সেখানেই তাঁর সাথে আলাপ হয় তরুণ বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী এবং নৃত্যশিল্পী কামেশ্বর সেহগালের সাথে। তৎকালীন রাজনৈতিক দ্বিজাতি তত্ত্ব, পরিবারের অসম্মতি, সমাজের বাধা অতিক্রম করে তিনি তাঁর থেকে বছর সাতেকের ছোট, হিন্দু জনজাতির রাধা সোয়ামী সম্প্রদায়ের এই মানুষটিকে ভালোবেসে বিবাহ করেন। সেই সময়ে তাঁদের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ আগামীর জন্য খুলে দেয় ভালোবাসার উন্মুক্ত পথ এবং তৈরি করে নিজের শর্তে বেঁচে থাকার এক মানবিক দৃষ্টান্ত।

মঞ্চে জীবনের প্রতিচ্ছবি

গুরুদত্তের ‘বাজি’ ও রাজ কাপুরের ‘আওয়ারা’ -সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে নৃত্য পরিচালনার মধ্যে দিয়ে জোহরা হয়ে ওঠেন একজন প্রথিতযশা কোরিওগ্রাফার। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ১৯৪৫ সালে ‘পৃথ্বী থিয়েটার’-এর মাধ্যমে তাঁর মঞ্চে অনুপ্রবেশ ঘটে। মঞ্চের আলো-আঁধারিতে তিনি হয়ে ওঠেন চরিত্রের প্রাণ। তাঁর অভিনয়ে কোনো অতিরঞ্জন ছিলো না, ছিলো – সহজ, স্বাভাবিক, অথচ গভীর এক মানবিক অনুভব। পরবর্তী সময়ে আই.পি.টি.এ -এর  সাথে যুক্ত হয়ে একের পর এক কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, শিল্প শুধু বিনোদন নয় – সমাজের প্রতিচ্ছবি, প্রতিবাদের ভাষা। 

ছোট ভূমিকায় বড় জাদু

ক্যামেরার সামনে জোহরা ছিলেন যেন এক ঝলক হাওয়া – ক্ষণিক, কিন্তু স্মরণীয়। তাঁর অভিনীত ‘নীচা নগর’ প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে পদার্পণ করে এবং কান্‌স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘পাম ডি’অর’ সম্মানে ভূষিত হয়। আসলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে জোহরার উপস্থিতি ছিল একেবারে অনন্য। ‘দিল সে’, ‘হম দিল দে চুকে সনম’, ‘বীর-জারা’, ‘চিনি কম, ‘সাওয়ারিয়া’ এর মত হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। ছোটপর্দায় ‘মুল্লা নাসিরুদ্দিন’, ‘এক থা রাস্টি’, ‘আম্মা অ্যান্ড ফ্যামিলি’, ‘জিন্দগি কিতনি খুবসুরত হ্যায়’- এর মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন গৃহস্থ পরিবারের বরিষ্ঠ সদস্য এবং ছোটদের প্রিয় ‘দাদি’! লন্ডনে থাকাকালীন বিবিসি-এর সাথে ‘ডক্টর হু’, ‘নেইবারস’ -এর মতো টেলিভিশন সিরিজ এবং জেমস আইভরি প্রোডাকশনের ‘দ্য কোর্টেসানস অফ বোম্বে’, ‘দ্য রাজ কোয়ার্টেট’, ‘তন্দুরি নাইটস’ -এর মতো একাধিক ইংরেজি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে তার বহুমাত্রিক প্রতিভা আন্তর্জাতিকতার সীমা অতিক্রম করে। ‘বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম’ ছবির মাধ্যমে। তাঁর মুখের হাসি, চোখের দুষ্টুমি আর সংলাপের স্বাভাবিকতা—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন পৃথিবীর একজন গুরুত্বপূর্ণ বরিষ্ঠ অভিনেত্রী।

শেষ পর্যন্ত ‘জীবন্ত’ থাকা

২০১৪ সালের ১০ই জুলাই তাঁর জীবন নিঃশব্দে এই পৃথিবীর মঞ্চ ত্যাগ করে। শতবর্ষের অধিক আয়ুর এই জীবনকালে প্রতিভা ও কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ভারতবর্ষের সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে। অর্জন করেছেন সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার। কিন্তু সব কিছুর উর্ধে জোহরা সেহগলের জীবনের স্বীকৃতি বোধহয় শেষ দিন পর্যন্ত ‘জীবন্ত’ থাকা।

জোহরা সেহগল আমাদের উপহার দিয়ে যান –  অনাবিল আনন্দ মুখর আস্ত জলজ্যান্ত জীবন। তাইতো তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয় – “ এখনো বেঁচে আছি – এই আনন্দটাই সবচেয়ে বড় !”

নল আছে, জল নেই ! মহানগর থেকে গ্রাম— পানীয় জলের সঙ্কটে নাজেহাল বাংলা

কলকাতা: বহুতল, মেট্রো, ফ্লাইওভার— আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া শহর কলকাতা। কিন্তু সেই শহরেই এখনও ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় জল তোলার লড়াই। এক বালতি পানীয় জল জোগাড় করতে লাইনে দাঁড়াতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শুধু মহানগরই নয়, গ্রেটার কলকাতা অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম— সর্বত্রই পানীয় জলের সঙ্কট আজও এক কঠিন বাস্তব।

ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতির ডালি নিয়ে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে এ ব্যাপারে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হচ্ছেন ৷ বিশেষ করে যে যেখানে ক্ষমতায় !

শহরের একাধিক ওয়ার্ডে নিয়মিত জল সরবরাহ থাকলেও, অনেক এলাকাতেই তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল এলেই এই সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। কোথাও জল আসে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কোথাও আবার দিন কয়েক অন্তর। ফলে বাধ্য হয়ে জল মজুত করে রাখতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

উত্তর কলকাতার পুরনো পাড়াগুলোতে এখনও পাইপলাইনের জীর্ণ দশা বড় সমস্যা। বহু জায়গায় পাইপ ফুটো হয়ে নোংরা জল মিশে যাচ্ছে পানীয় জলে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদিকে যেমন জল কম, অন্যদিকে যে জল আসছে তার গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার কিছু নতুন আবাসনেও একই সমস্যা— পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপরের তলায় জল পৌঁছয় না।

শুধু শহরেই নয়, গ্রেটার কলকাতার বহু এলাকা যেমন বরাহনগর, মধ্যমগ্রাম, সোনারপুর কিংবা মহেশতলা— এখানেও একই ছবি। দ্রুত নগরায়নের ফলে জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় জল সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরও ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। রাজ্যের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও নির্ভর করতে হয় নলকূপ বা পুকুরের জলের উপর। অনেক জায়গায় আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড দূষণের অভিযোগও রয়েছে। ফলে পানীয় জলের সঙ্কট শুধু পরিমাণগত নয়, তা গুণগত দিক থেকেও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

সরকারি স্তরে একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে, ‘জল জীবন মিশন’ এর মাধ্যমে প্রত্যেক ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ধাপে ধাপে সেই কাজ এগোচ্ছে। তবে বাস্তবে এখনও বহু এলাকায় তার সুফল মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কটের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো পরিকাঠামো, ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। জল সংরক্ষণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন বলেই মত তাঁদের।

ভোটের মুখে এই ইস্যুও এখন রাজনৈতিক তর্কের কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা থাকলেও তার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শাসক শিবির অবশ্য দাবি করছে, ইতিমধ্যেই বহু প্রকল্পের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হবে।

কিন্তু রাজনীতির তর্কের বাইরে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই— কবে মিলবে নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ পানীয় জল? শহর হোক বা গ্রাম, প্রতিদিনের এই লড়াই থেকে কবে মুক্তি পাবে বাংলা— সেই উত্তর এখনও অজানা।

বুথের গণ্ডি ছাড়িয়ে ১০০ মিটারেও ‘নজরবন্দি’ ভোট! অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ

কাকদ্বীপ/কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নজরদারির জাল আরও বিস্তৃত করল নির্বাচন কমিশন। শুধু বুথের ভিতর বা বাইরে নয়, এ বার বুথমুখী ১০০ মিটার এলাকাও থাকবে কড়া সিসিটিভি নজরে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, এই ‘সুরক্ষা বলয়’-এর মধ্যে অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। প্রয়োজনে এটিকে ‘সিএপিএফ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

রবিবার কাকদ্বীপে গিয়ে এই কড়া ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার অগ্রবাল। তিনি জানান, বুথের আশপাশে এতদিন একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও, এবার বুথমুখী রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানো হবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে ঢোকার আগেই নজরদারির আওতায় চলে আসবেন ভোটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মনোজের কথায়, “বুথের ১০০ মিটার এলাকায় অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ভোটকর্মীদের জন্য খাবার বা জল নিয়ে ঢুকতেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে।” তাঁর আশ্বাস, “ভোট হবে সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। ভুয়ো ভোট বা হুমকির কোনও জায়গা নেই।” পাশাপাশি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন, “নির্ভয়ে ভোট দিন, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের লক্ষ্যে এগোতে হবে।”

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের প্রতিটি ঘটনার উপর নজর রাখার জন্য ‘লাইভ ফিড’-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনও অভিযোগ উঠলে নির্দিষ্ট সময়ের আগের ও পরের ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। বুথ সংলগ্ন সরু গলিতে টহল দেওয়ার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাইক ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন আরও কড়া বার্তা দেয়। স্পষ্ট জানানো হয়, এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার বা ভোটের আগে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও আইসিকেই দায় নিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

কমিশনের এই একের পর এক কড়া পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে চাপ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের জায়গায় নতুন নিয়োগও হয়েছে।

এই সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। তিনি এ নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে চিঠিও দিয়েছেন। তবে কমিশন তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের বক্তব্য, লক্ষ্য একটাই— অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত নির্বাচন।

ভোটের আগে এই নজিরবিহীন কড়াকড়িতে একদিকে যেমন বাড়ছে নিরাপত্তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে চাপা উত্তেজনা। এখন দেখার, এই ‘১০০ মিটার নজরবন্দি’ ব্যবস্থার মধ্যে ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে।

ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের যুব ক্রিকেট ও ফুটবল শিবিরে আশার আলো

ময়দানের ইতিহাসে হাওড়া ইউনিয়ন

কলকাতা ময়দানে যে কয়েকটি শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাব রয়েছে তার মধ্যে হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাব অন্যতম। এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বহু ফুটবলার ও ক্রিকেটারের উঠে আসার মঞ্চ তো বটেই, পাশাপাশি হকি এবং ভলিবল খেলাতেও এই ক্লাব থেকে বহু মনিমাণিক্য বাংলা ও দেশের খেলাধুলা সমৃদ্ধ করেছে।

ক্রীড়া প্রশাসক তৈরির কারখানা

শুধু কী তাই, এই নামী ক্লাব কত যে ক্রীড়া প্রশাসক তৈরি করেছে ইয়ত্তা নেই। প্রয়াত কর্তা ইন্দ্রনাথ দে, আদিনাথ দের মতো কিংবদন্তি প্রশাসকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন বর্তমান দুই যুগ্মসচিব অনির্বাণ দে ও দেবরাজ দেরা। তাঁরাও ক্লাবের পূর্বসুরীদের দেখানো পথেই ফুল ফোটানোর চেষ্টা করে চলেছেন। আরও অবাক করার বিষয় হল, যে কোনও সিদ্ধান্তের আগে ক্লাবের টেবিলে প্রবীণ কর্তাদের মত নিয়েই তাঁদের উত্তরসূরিরা যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন।

ক্লাবের খুদে ফুটবলার শিক্ষার্থীরা। ফাইল চিত্র।

ময়দানে ক্রিকেট শিবিরে বসন্ত

কোনোদিন সকালে কিংবা বিকেলে হাওড়া ইউনিয়ন টেন্টে গেলে মনটা ভাল হয়ে যায়। প্রায় ২০০ খুদে শিক্ষার্থী বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে ক্রিকেট কোচিং নিচ্ছে। এমন দৃশ্য এর আগে ময়দানে উধাও হয়ে গিয়েছিল। ব্যাঙের ছাতার মতো মোটা টাকা ডোনেশন নিয়ে ক্রিকেট ক্লিনিক শুরু হয়েছিল। এখনও সেগুলো রয়েছে। সেখানে ব্যবসাই মুখ্য। কিন্তু হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের কর্তারা নামমাত্র পারিশ্রমিকে খুদে ক্রিকেটারদের আগামী দিনের জন্য তৈরি করছেন। নামী কোচরা এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁরা হলেন, কোচ সুজিত শা ও মহম্মদ শফিকরা। মোট চার রকমের পিচ রয়েছে টেন্টে। এমনকী আধুনিক বোলিং মেশিন দিয়ে বোলারদের শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অনূর্ধ্ব ১৩, ১৫ এবং ১৮ এই গ্রুপের যুবদের নিয়ে সিএবি লিগ তো খেলা হয়। পাশাপাশি কলকাতায় যত মেজর যুব লিগ হয়, সেখানে অংশ নেয় ক্লাবের জুনিয়র ও যুব ক্রিকেট দল। এর আগে ক্লাবের উদ্যোগে নয়ের দশকে উইকেট কিপিং কোচিং ক্লিনিক হয়েছিল বিশ্বকাপজয়ী উইকেট রক্ষক সাঈদ কিরমানির অধীনে। উল্লেখ্য, হাওড়া ইউনিয়ন এবারের সিএবি দ্বিতীয় ডিভিশন লিগের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।

ক্রিকেট ক্লিনিকের মনোগ্রাহী ছাত্ররা। ফাইল চিত্র।

ফুটবলের সেরা পাঠশালা

কিংবদন্তি শৈলেন মান্নার ফুটবল শিক্ষার আতুরঘর হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের যুব ফুটবল শিবিরও দেখার মতো। অনূর্ধ্ব ১২, ১৫, ১৬ তিনটি গ্রুপে বিভাজন করে এই মাদার ক্লাবের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছে কিশোরবাহিনী, মিলন চক্র, হাওড়া টাউন ক্লাব নিয়মিত তাদের কাজ করে চলেছে। এই যুব ও জুনিয়র দলগুলো নার্সারি লিগ ছাড়াও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট খেলছে। প্রতি দলের কোচরাও সফল ও পরীক্ষিত। হাওড়া ইউনিয়ন ক্লাবের বর্তমান শীর্ষ কর্তা অনির্বাণ দে জানিয়েছেন, “এই ক্লাব থেকে বহু বরেণ্য ফুটবলার উঠে এসেছেন। আমরা অতীতের ওই গরিমা বজায় রেখে ফুটবল এবং ক্রিকেট শিবিরকে ঢেলে সাজিয়েছি। আগামী ৫-৭ বছর পরে আমাদের ক্লাব থেকে আবারও বহু প্রতিভাবান ফুটবলার ও ক্রিকেটার উঠে আসবে।”

৯-৫টার বদলে এখন ‘ফ্লেক্সিবল’ ডিউটি ! Gen Z-র ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কলকাতার ‘কর্মসংস্কৃতি’?

কলকাতা: একসময় ‘বাবু কালচার’-এর শহর বলে পরিচিত ছিল কলকাতা। অফিস মানেই নির্দিষ্ট সময়ে ঢোকা, ফাইল ঘাঁটা, আর বিকেল গড়ালেই চা-আড্ডা—এই ছিল কর্মসংস্কৃতির চেনা ছবি! কিন্তু সময় বদলেছে, বদলাচ্ছে শহরের কাজের ধরণও। নতুন প্রজন্ম, বিশেষত Genz-র প্রভাব এখন স্পষ্ট কলকাতার অফিসপাড়ায়।
বর্তমানে শহরের কর্পোরেট অফিস থেকে স্টার্টআপ, সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে কাজের নতুন সংজ্ঞা । ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’, ‘রিমোট ওয়ার্ক’, ‘ফ্লেক্সিবল আওয়ার’—এই শব্দগুলো এখন আর কেবল বড় শহরের বিলাসিতা নয়, কলকাতার বাস্তবতা। তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন—এই সব ক্ষেত্রের প্রসারে কাজের ধরন হয়ে উঠছে অনেক বেশি গতিশীল ও ফলাফলমুখী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন

Genz-র বৈশিষ্ট্য হল, তাঁদের সহজ-সোজাসাপ্টা মনোভাব। তাঁরা অকারণ হায়ারার্কি মানতে নারাজ, কাজের পরিবেশে স্বচ্ছতা ও সম্মান চান। ফলে, অনেক সংস্থা এখন বাধ্য হচ্ছে নিজেদের কর্মসংস্কৃতি নতুন করে গড়ে তুলতে। বস-সাবঅর্ডিনেট সম্পর্কের জায়গায় আসছে ‘টিম কালচার’।
কলকাতার সেক্টর ফাইভ বা নিউটাউনের মতো আইটি হাবগুলিতে এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে । যেখানে কাজের চাপ মানেই দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, এখন সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে কাজের গুণমান (Productivity)। অনেক সংস্থা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের (Mental Health) দিকেও নজর দিচ্ছে—অফিসে ‘ওয়েলনেস প্রোগ্রাম’, ‘কাউন্সেলিং’, এমনকি ‘ডে-অফ’ সংস্কৃতিও জনপ্রিয় হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জগুলো কী

এই পরিবর্তনের সঙ্গে চ্যালেঞ্জও কম নয়। শহরের বহু ঐতিহ্যবাহী সংস্থা এখনও পুরনো ধ্যানধারণায় আটকে। সেখানে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে মতবিরোধ। একদিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ, অন্যদিকে স্থায়িত্বের অভাব—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পড়ছেন অনেক কর্মী। যোগ্যতা, দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আগে যে আলোচনা থাকত শুধু ওপরমহলে সীমাবদ্ধ, জেনজি কর্মীরা সেখানে অংশ নিতে চাইছেন সামগ্রিক গুণমানের স্বার্থে। সেটা সবসময় সম্ভব হয়ে উঠছে না নানা বাস্তব কারণে। তার ফলে তৈরি যুক্তিযুদ্ধ ও অসন্তোষ।

আশার আলো

তবু সামগ্রিক চিত্রে আশার আলোই বেশি। কলকাতায় স্টার্টআপ সংস্কৃতির উত্থান, ফ্রিল্যান্সিং-এর সুযোগ বৃদ্ধি, এবং গ্লোবাল কোম্পানির আগমন—সব মিলিয়ে কর্মসংস্কৃতি আরও বহুমুখী হচ্ছে। এখন কলকাতার যুবক-যুবতীরা শুধু চাকরি খোঁজেন না, বরং নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ বেছে নিতে চাইছেন কোভিড পেরিয়ে আসা, বাড়ি থেকে কাজ করায় (Work from home) ক্রমে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা নতুন কর্মীরা।

পরিবর্তন ইতিবাচক

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বাড়লে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। পাশাপাশি, কলকাতা আবারও পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে কলকাতার কর্মসংস্কৃতি এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পুরনো ধ্যানধারণার সঙ্গে নতুন ভাবনার সংঘর্ষে তৈরি হচ্ছে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ—যেখানে কাজ মানেই শুধু দায়িত্ব নয়, বরং নিজের মতো করে বাঁচারও এক নতুন পথ।

আবহাওয়া আপডেট: আজ বিকেলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

আগামী চব্বিশ ঘন্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস:

আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে: ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ০.৩ ডিগ্রি কম।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হতে পারে: ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১.২ ডিগ্রি বেশি।

বাতাসে সর্বাধিক আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৯১%

বাতাসে সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৬২%

গত চব্বিশ ঘন্টায় শহরে কোনও বৃষ্টিপাত হয়নি।