৯ই জুন, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

বাংলার মসনদে কার রাজত্ব? আজ ভাগ্য নির্ধারণের অন্তিম লড়াই

আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যের রাজনৈতিক হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলোর ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। আজকের এই লড়াই শুধু বিধায়ক নির্বাচনের নয়, বরং এটি বড় একটি রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করবে—তৃণমূল কি তাদের দক্ষিণবঙ্গের দুর্ভেদ্য দুর্গ ধরে রাখতে পারবে, নাকি বিজেপি অবশেষে নবান্নে পৌঁছানোর একটি সুনিশ্চিত পথ খুঁজে পাবে?

ভোটার তালিকায় নতুন সংযোজন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ১,৪৬৮ জন নতুন ভোটার আজ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, যাদের নাম সম্পূরক তালিকায় রয়েছে, তারা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের এপিক (EPIC) নম্বর দিয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নিতে পারবেন। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যে সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই এই অন্তিম দফায় ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রচার শেষে এখন জনমতের অপেক্ষা

গত সোমবার শেষ হয়েছে এই দফার হাই-ভোল্টেজ প্রচার অভিযান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ভোটারদের মন জয়ে শেষ মুহূর্তের জানপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের আগে প্রচারের ময়দানে কোনো পক্ষই এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা ও আত্মবিশ্বাস

প্রচারের শেষ দিনে বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলার প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি সুযোগে রূপান্তর করতে চান। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একজন প্রতিনিধি।

প্রথম দফার রেকর্ড ও ফলাফলের গণনা

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সেই দফায় ৯৩% রেকর্ড ভাঙা ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। মোট ২৯৪টি আসনের এই মহারণের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে, ভোট গণনার দিন।

এখন দেখার বিষয়, বাংলার মানুষ উন্নয়ন না পরিবর্তন—কোন পথে তাদের রায় প্রদান করেন। সবাই এখন ৪ মে-র সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষায়।

টাকার দাপট, অভিযোগের ভার—কোটিপতি ৩২১, নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত ৯৪ প্রার্থী দ্বিতীয় দফায়

কলকাতা: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থীদের আর্থিক ও ফৌজদারি তথ্য সামনে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটের ময়দানে একদিকে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক প্রার্থীদের দাপট, অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ—এই দ্বৈত বাস্তবই এবার রাজনীতির কেন্দ্রে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ADR-এর বিশ্লেষণ বলছে, দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১৪৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৩৩৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২৩ শতাংশ প্রার্থী কোনও না কোনও অপরাধে অভিযুক্ত। এর মধ্যে ২৯৫ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য, ৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ। এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এই তথ্য সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—নারী সুরক্ষা যেখানে নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু, সেখানে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন কেন? রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, আর্থিক দিক থেকেও বৈষম্য প্রকট। দ্বিতীয় দফার ভোটে ৩২১ জন প্রার্থী কোটিপতি। অর্থাৎ বড় অংশের প্রার্থীর সম্পত্তি কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে রয়েছে বিপরীত চিত্রও—১৬ জন প্রার্থী নিজেদের নিরক্ষর বলে ঘোষণা করেছেন। এই বৈপরীত্যই তুলে ধরছে রাজনীতির বাস্তব সামাজিক ছবি।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই সবচেয়ে বেশি অপরাধমূলক মামলার অভিযুক্ত প্রার্থী রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ১৪২টি কেন্দ্র জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ বুথকে ‘সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু প্রার্থীদের চরিত্র নয়, দলগুলির প্রার্থী নির্বাচনের ধরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে।

ভোটের ময়দানে নারী ভোটারের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। অথচ সেই নির্বাচনে নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীদের উপস্থিতি রাজনৈতিক বার্তা কী দিচ্ছে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট শুধুই রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতার পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।

ভবানীপুরে মহারণ! মমতা বনাম শুভেন্দু—১৪২ আসনের ভোটে ‘সুপার ফোকাস’ এক কেন্দ্রেই

কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বুধবার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। বিস্তীর্ণ এই ভোটপর্ব জুড়ে রয়েছে বহু হেভিওয়েট প্রার্থী, তারকা মুখ, অভিজ্ঞ মন্ত্রী এবং নবাগত রাজনীতিক। তবুও গোটা দফার রাজনৈতিক উত্তাপ যেন এক জায়গাতেই এসে ঠেকেছে—ভবানীপুর। কারণ, এই কেন্দ্রে মুখোমুখি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে যে দ্বৈরথ রাজ্যের রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল, এ বার তারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে কলকাতার বুকে। তবে প্রেক্ষাপট বদলেছে। ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রী মমতার নিজস্ব কেন্দ্র—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি। সেই জায়গাতেই তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। ফলে এই লড়াই শুধু একটি আসনের সীমায় আবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির প্রতীকী সংঘর্ষ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবানীপুরের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে জনমতের স্রোত কোন দিকে বইছে। এক দিকে রয়েছে মমতার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের মজবুত ভিত এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা। অন্য দিকে শুভেন্দুর আগ্রাসী প্রচার, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরাসরি ‘চ্যালেঞ্জ পলিটিক্স’।

তবে দ্বিতীয় দফার ভোট কেবল ভবানীপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতার আরও ১০টি আসনে রয়েছে জমজমাট লড়াই। কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম-এর মতো ‘অপরাজিত’ নেতার বিরুদ্ধে বিজেপির চ্যালেঞ্জ, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সব জায়গাতেই রয়েছে বহুস্তরীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। শহরের পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়াতেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন, যেখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন নতুন প্রজন্মের প্রার্থীরা।

এই দফায় প্রায় ৬৬ জন প্রার্থী রয়েছেন বিশেষ নজরে। তাঁদের মধ্যে কেউ বহুবারের জয়ী, কেউ বা বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেও ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ। আবার অনেকে প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ভোটের লড়াই শুধু দলগত নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ইমেজ এবং গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, গতবার এই ১৪২টি আসনের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল শাসকদল। বিরোধীদের সাফল্য সীমিত ছিল। তাই এ বার দ্বিতীয় দফার ফলাফল শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দফা থেকেই স্পষ্ট হতে পারে, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আগের মতোই থাকবে, না কি বদলের ইঙ্গিত মিলবে।

সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট শুধু সংখ্যা গণনার লড়াই নয়—এ এক মর্যাদা, প্রভাব এবং নেতৃত্বের পরীক্ষার মঞ্চ। আর সেই মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের রায়ই হয়তো বলে দেবে, বাংলার রাজনীতির আগামী অধ্যায় কোন পথে এগোবে।

হটস্পট ভবানীপুর: ভোটের আগের রাতে মমতার বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ শুভেন্দুর

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে রাজ্যের সবচেয়ে হটস্পট কেন্দ্র ভবানীপুর ৷ ভোটের ঠিক আগের রাতে সেই ভবানীপুরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধঘিকারী বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন, তৃণমূলের এক কাউন্সিলর নাকি ভোটে কারচুপির জন্য ‘নকল আঙুল’ কিনেছেন! আর সেই সংখ্যা নাকি এক-দু’টি নয়, প্রায় সাড়ে ৭০০!

শুভেন্দুর দাবি, এই কৃত্রিম আঙুল ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কালি লাগানোর পর সেটি খুলে ফেলে আবার ভোট দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। একটি ‘নমুনা’ দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত ভাবে ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা চলছে।

এতেই থেমে থাকেননি বিজেপি প্রার্থী। তাঁর আরও দাবি, ভবানীপুরে বহু ভোটারের কাছে বুথ স্লিপ পৌঁছোয়নি। প্রায় ৩,৮১০টি বুথ স্লিপ ফেরত এসেছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই ভোটারদের তালিকাও তাঁদের কাছে রয়েছে।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে শাসকদল। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস পাল্টা বলেন, “গণতন্ত্রে এভাবে নকল আঙুল কিনে ভোট দেওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। পুরো অভিযোগই ভিত্তিহীন।” তবে বিরোধী দলনেতার আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি৷ এখন দেখার, এ ব্যাপারে কমিশন কী পদক্ষেপ করে ৷

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভবানীপুর কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা এমনিতেই চরমে। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি লড়াইয়ে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । ফলে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। ভোটের মুহূর্ত যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট, ভবানীপুর শুধু একটি কেন্দ্র নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির অন্যতম হাই-ভোল্টেজ যুদ্ধক্ষেত্র ।

৯৩%-এর রেকর্ড কি ছাপাবে শহর ? দ্বিতীয় দফার আগে কড়া নজরদারি, গ্রেফতার ২,৪৭৩

কলকাতা: প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদানের নজির—এবার কি সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে দ্বিতীয় দফা? এই প্রশ্ন ঘিরেই বুধবারের ভোটকে সামনে রেখে তুঙ্গে কৌতূহল। খুচরো অশান্তি ছাড়া প্রথম দফা মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও, দ্বিতীয় দফার আগে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি প্রশাসনের কড়া প্রস্তুতি স্পষ্ট।

দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ, যার বড় অংশই শহরাঞ্চল। প্রথম দফায় গ্রামবাংলায় ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু শহরে সেই সাড়া কতটা মিলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে নজর থাকছে—প্রথম দফার মতোই কি অশান্তিমুক্ত থাকবে দ্বিতীয় দফাও?
নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই জোর। সেই লক্ষ্যে জেলায় জেলায় কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ, পুলিশের টহল ও তল্লাশি—সব মিলিয়ে নজরদারির বলয় কার্যত অটুট।

কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬০ ঘণ্টায় ভোটমুখী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২,৪৭৩ জনকে। অর্থাৎ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪১ জন। শুধু সোমবার রাতেই ধরা পড়েছেন ৮০৯ জন। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। যদিও কোথায় কী অভিযোগে এই গ্রেফতারি—তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য গোলমালকারীদের আগাম চিহ্নিত করেই এই ধরপাকড়। এর আগেও, প্রথম দফার আগে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ১,০৯৫ জনকে। ফলে দ্বিতীয় দফার আগে কড়াকড়ি যে আরও বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

এরই মাঝে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জমায়েত, বিক্ষোভ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত কোনও রিপোর্ট চাওয়া হচ্ছে না। তবে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা রিপোর্ট দিলে তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হবে।

সিইওর কড়া বার্তা—ভোটারদের ভয় দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ হুমকি দিলে অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। কমিশনের কন্ট্রোল রুমে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে ‘ওয়াচ লিস্ট’ তৈরি করে পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল। ছবি: Google

ফলতায় পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত না করার সতর্কবার্তা দেন উত্তরপ্রদেশের ওই পুলিশ আধিকারিক। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। পরের দিন তাঁর কনভয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভও দেখান তৃণমূল কর্মীরা।

ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ভোটের দিন পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তাদের অভিযোগ, একাংশ পর্যবেক্ষক এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। যদিও সিইওর সাফ বক্তব্য—অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রথম দফায় ভয় দেখানোর শতাধিক অভিযোগ পেয়েছিল কমিশন। কুমারগঞ্জে প্রার্থীকে মারধরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দ্বিতীয় দফায় আরও সতর্ক প্রশাসন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ জমায়েত বা ভয় দেখানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের জন্য চালু হয়েছে টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০৩৪৫০০৮। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকেও হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের দিন সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার আগে বার্তা স্পষ্ট—কড়া নজরদারি, দ্রুত পদক্ষেপ এবং ‘জিরো টলারেন্স’। এখন দেখার, এই আবহে শহর কি ছাপিয়ে যেতে পারে প্রথম দফার ৯৩ শতাংশের রেকর্ড, নাকি ভোটের সমীকরণ বদলে দেবে শহুরে বাস্তবতা।

পিকিং মানবের জীবাশ্ম: ইতিহাসের গর্ভে চিরতরে হারিয়ে গেল প্রমাণ

আমরা ছোটবেলায় ইতিহাস বইতে পড়েছি পিকিং গুহামানবের কথা।  পিকিং মানব বৈজ্ঞানিকভাবে ‘হোমো-ইরেক্টাস’ (Homo erectus)-এর একটি উপপ্রজাতি যা মানবজাতির বিবর্তনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। কিন্তু ইতিহাসের এই অনন্য আবিষ্কারের প্রামাণিক জীবাশ্ম হারিয়ে যায়, যা আজও পাওয়া যায়নি।

পিকিং মানবের সময়কাল

প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার বছর আগের বসবাসকারী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এই জীবাশ্ম। এই হোমিনিনের অস্থি ১৯২৩ সালে বেইজিংয়ের নিকটবর্তী জোকুডিয়ান গুহায় পাওয়া যায়।

কেমন ছিল পিকিং মানব?

কানাডীয় অ্যানাটমিস্ট ডেভিডসন ব্ল্যাক  (Davidson Black) প্রথম এগুলোর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরবর্তীতে আরও গবেষণায় দেখা যায়, পিকিং মানব আগুন ব্যবহার করতে পারত—যা মানব বিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি ল্যান্ডমার্ক। গুহায় পাওয়া পোড়া অস্থি, কয়লার স্তর এবং আগুনের চিহ্ন দেখে এই তথ্য জানা যায়।

পিকিং মানবের মাথার খুলি এবং অন্যান্য অস্থির গঠন বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় তাদের মস্তিষ্কের আয়তন আধুনিক মানুষের তুলনায় ছোট হলেও, তা পূর্ববর্তী হোমিনিনদের তুলনায় উন্নত ছিল। তাদের দাঁত ও চোয়ালের গঠন বলে দেয় যে তারা কঠিন খাদ্য (solid food) গ্রহণে অভ্যস্ত ছিল। এছাড়া, পাথরের তৈরি সরঞ্জাম আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে তারা শিকার করত।

কোথায় গেল অকাট্য প্রমাণ?

দুঃখজনকভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই মূল্যবান জীবাশ্মগুলোর মূল নমুনা হারিয়ে যায়।  ১৯৩৭ সালে জাপান আক্রমণ হানল চিন দেশের ওপর। ১৯৪১ সালে,পার্ল হারবার আক্রমণের আগে জাপান পিকিং মানবের এই জীবাশ্মগুলি আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারপর থেকে এই জীবাশ্মগুলি আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। গবেষণার ক্ষেত্রে এ সত্যিই এক বড় ক্ষতি।

তত্ত্ব

একটি মত বলে, জীবাশ্মগুলি জাহাজে যাওয়ার সময়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। কেউ বিশ্বাস করেন, সেগুলি আসলে চিন দেশেই কোথাও অজ্ঞাতে রাখা আছে। কিন্তু প্রমাণ মেলেনি এই তত্ত্বের।

বর্তমান

পরবর্তীকালে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম ও সরঞ্জাম এই শূন্যতা অনেকাংশে পূরণ করলেও প্রকৃত প্রামাণিক জীবাশ্ম ইতিহাসের অতলে হারিয়ে রইল। কোনওদিন কি তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, নতুন কোনও অজানা তথ্য দিয়ে আমাদের চমকে দিতে?

নাইট শিবিরের পরিত্রাতা হয়ে উঠেছেন রিঙ্কু, আলিগড় নবাব যেন শাহরুখের মসিহা

নাইট শিবিরের মধ্যমণি

রিঙ্কু সিং সিংহহৃদয়ের ক্রিকেটার। তিনি এই মুহূর্তে কেকেআর শিবিরের মধ্যমণি। চলতি আইপিএলে নাইট রাইডার্স টানা তিন ম্যাচে হেরেছিল। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে দলের মালিক শাহরুখ খান মাঠে হাজির থাকলেও তারপর তিনিও মাঠে আসা ছেড়ে দেন।

রেকর্ড ভাঙলেন ধোনির

গত ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে রিঙ্কু ৫১ বলে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। দলের হয়ে ছয় নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে এই রান করে তিনি এম এস ধোনির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে ২০১১ সালে ধোনি ছয় নম্বরে নেমে ৪০ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এতদিন সেই ১৫ বছরের নজির অক্ষত ছিল। ভেঙে দিলেন রিঙ্কু সিং।

মন ভরিয়ে দিয়েছেন আলিগড় কা নবাব

এইভাবে যে ম্যাচ জেতা যায় সেটি আইপিএল মঞ্চেই মনে হয় সম্ভব। কারণ একটা সময় কেকেআরের ৯৩ রানে সাত উইকেট পড়ে যায়। সেই অবস্থা থেকে রিঙ্কুর ওই স্বপ্নের ইনিংস দলকে টেনে তোলে। যে কারণে খেলা শেষে ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে রিঙ্কুকে সেভিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। যিনি কিনা দলের পরিত্রাতা।

রিঙ্কু এখন কোটিপতি

রিঙ্কু এই মুহূর্তে অনেক পরিনত। তাঁকে একটা সময় নাইট রাইডার্স মাত্র ৩০ লাখ টাকার সই করিয়েছিল। বহুদিন সেই টাকায় খেলেছেন। বাকি ক্রিকেটারদের বেতন বাড়লেও রিঙ্কুর বাড়েনি। সেই বঞ্চিত ব্যাটার এখন আইপিএল খেলে মোট ৬৫ কোটি টাকার মালিক। যার বাবা একসময় আলিগড় অঞ্চলে গ্যাস সিলিন্ডার বয়ে বাড়ি বাড়ি দিয়ে আসার কাজ করতেন। বাবা মারা গেলেও রিঙ্কু তাঁর পুরো পরিবারকে নিয়ে আলিগড় অঞ্চলেই অট্টালিকার মতো বাড়ি বানিয়েছেন। যার জন্য খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

শাহরুখের প্রিয় পাত্র

নাইট দলের মালিক শাহরুখ খান বরাবর রিঙ্কু সিংয়ের ফ্যান। তাঁর খেলার টেকনিক খুব ভাল লাগে কিং খানের। তিনি প্রতি ম্যাচ শেষে রিঙ্কুকে মেসেজ পাঠান। গত ম্যাচ শেষেও শাহরুখ লিখেছেন, মন ভরিয়ে দিয়েছ আমার প্রিয় ছেলে। এমনভাবেই খেলে যাও, সবাইকে আনন্দ দাও।

বেনারস সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী: ৬,৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের ডালি নিয়ে উত্তরপ্রদেশে ‘বিকাশ উৎসব’

২০২৬ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল—এই দু’দিন উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে  এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। দুই দিনের রাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারাণসী এবং হরদই জেলায় একাধিক মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। শুধুমাত্র বারাণসীর জন্যই থাকছে ৬,৩৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উপহার।

উন্নয়নের জোয়ার বারাণসীতে

সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বারাণসীর বিএলডব্লিউ গ্রাউন্ডে একটি বিশাল ‘মহিলা সম্মেলনে’ অংশ নেবেন। সেখানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে তিনি ৪৮টি সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে বারাণসী-আজমগড় সড়ক প্রশস্তকরণ এবং কাজাকপুরা ও কাদীপুর রেল ওভারব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রয়েছে। 

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বারাণসী ও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশনের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইনের শিলান্যাস করবেন। গঙ্গার ওপর একটি নতুন রেল-কাম-রোড ব্রিজও তৈরি হবে, যা পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তিনি ‘বেনারস-পুনে’ এবং ‘অযোধ্যা-মুম্বাই’—এই দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও যাত্রারম্ভ করবেন।

গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন ও রোড-শো

সফরের দ্বিতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী লাহুরাবীর থেকে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের গেট পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য রোড-শো করবেন। মন্দির দর্শনের পর তিনি সোজা চলে যাবেন হরদই জেলায়। সেখানে তিনি বহু প্রতীক্ষিত ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে’ দেশবাসীকে উৎসর্গ করবেন। ৩৬,২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েটি মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ পর্যন্ত ১২টি জেলাকে যুক্ত করবে, যা রাজ্যের অর্থনীতি ও যাতায়াতের গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বারাণসীবাসীর জন্য বড় খবর হলো শিব প্রসাদ গুপ্ত হাসপাতালে একটি ৫০০ শয্যার সুপার-স্পেশালিটি ব্লকের শিলান্যাস। পাশাপাশি তিব্বতি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোয়া রিগপা ভবন ও হাসপাতালের উদ্বোধন করে তিনি আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার মেলবন্ধন ঘটাবেন।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উত্তরপ্রদেশের পরিকাঠামো ও আধুনিকীকরণের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। মেগা প্রজেক্ট থেকে শুরু করে পরিশ্রুত পানীয় জল— মোদীর এই সফরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর প্রতিফলনই স্পষ্ট ধরা পড়ল।

১ লিটার ডিজেলে ট্রেন কত দূর? এক্সপ্রেস বনাম প্যাসেঞ্জার, সামনে এল ‘রেলের মাইলেজ’ রহস্য

গাড়ির মাইলেজ শুনতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু হাজার টন ওজন টেনে ছুটে চলা ট্রেন—তার ‘মাইলেজ’ কত? ১ লিটার ডিজেলে ঠিক কত দূর যেতে পারে একটি ট্রেন? সাম্প্রতিক হিসেব বলছে, এই উত্তর শুনলে অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে যাবে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনের মাইলেজ কোনও স্থির সংখ্যা নয়। কোচের সংখ্যা, গতি, রুটের ঢাল, থামার সংখ্যা—সব কিছুর উপর নির্ভর করে বদলে যায় ডিজেল খরচের হিসেব।

ভারতীয় রেলওয়েজ। ছবি: Google

কোন ট্রেনে কত ডিজেল খরচ?

গড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে প্যাসেঞ্জার ট্রেন: প্রতি কিমিতে প্রায় ৫–৬ লিটার ডিজেল, এক্সপ্রেস ট্রেন (১২ কোচ): প্রতি কিমিতে প্রায় ৪–৫ লিটার এবং
সুপারফাস্ট বা দীর্ঘ ট্রেন (২৪ কোচ): প্রায় ৬ লিটার প্রতি কিমি ৷ অর্থাৎ সহজ করে বললে, ১ লিটার ডিজেলে একটি ট্রেন মাত্র ১৫০–২৫০ মিটার পর্যন্তই যেতে পারে!

এত কম কেন মাইলেজ?

শুনতে অবাক লাগলেও এর পিছনে রয়েছে বড় কারণ। একটি ট্রেন একসঙ্গে হাজার হাজার যাত্রী বা কয়েকশো টন মাল বহন করে। ফলে ইঞ্জিনকে টানতে হয় বিরাট ওজন। তাই প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

ট্যাঙ্ক ভরলে কত দূর?

একটি ডিজেল লোকোমোটিভে সাধারণত ৫,০০০–৬,০০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি থাকে। প্যাসেঞ্জার ট্রেন যেতে পারে প্রায় ৮০০–১০০০ কিমি
এক্সপ্রেস ট্রেন ছুটতে পারে ১২০০–১৫০০ কিমি পর্যন্ত৷

কেন বদলে যায় হিসেব?

ট্রেনের মাইলেজ নির্ভর করে—কোচের সংখ্যা (ওজন যত বেশি, খরচ তত বেশি), বারবার থামা (প্যাসেঞ্জার ট্রেনে খরচ বেশি), গতি ও ট্র্যাকের ঢাল
সিগন্যাল ও ট্রাফিক পরিস্থিতি৷

আসল ছবিটা কী?

সংখ্যার হিসেবে ট্রেনের মাইলেজ কম মনে হলেও, বাস্তবে চিত্রটা একেবারে উল্টো। একটি গাড়ি যেখানে ৪–৫ জন যাত্রী বহন করে, সেখানে একটি ট্রেন বহন করে হাজার হাজার মানুষ। তাই প্রতি যাত্রী হিসেবে হিসেব করলে ট্রেনই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ মাধ্যম।

রেল বিশেষজ্ঞদের কথায়, “ট্রেনের মাইলেজ গাড়ির সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে। বিশাল পরিসরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেলই সবচেয়ে কার্যকর।”

স্বাধীনতার পর এই প্রথম! ‘অলিগলিতেও নজর’, কলকাতায় এবার ভোটে নজিরবিহীন কড়াকড়ি

কলকাতা: ভোট মানেই কড়া নিরাপত্তা—এ নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের কলকাতা যেন সেই চেনা ছবিকেও ছাপিয়ে গেল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এতটা সক্রিয়, এতটা সূক্ষ্ম নজরদারির ছবি দেখছে শহর। শুধু বড় রাস্তা নয়, এবার নির্বাচন কমিশনের কড়া নজর পৌঁছে গিয়েছে কলকাতার অলিগলিতেও।

ইতিমধ্যেই শহরের রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া গাড়ি ‘মার্কসম্যান’। মোড়ে মোড়ে স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম, শহরজুড়ে ঘুরছে ফ্লাইং স্কোয়াড। তবুও আশ্বস্ত নয় কমিশন। কেন্দ্রের নথিতে কলকাতা ‘নিরাপদতম’ শহর হলেও ভোটের প্রেক্ষিতে ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা।

তাই এবার নতুন পদক্ষেপ—শহরের ৭০০টি গলিকে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বসানো হচ্ছে হাজারের বেশি অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

রাজ্যে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছবি: Google

উত্তর কলকাতায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২৫০টি গলি চিহ্নিত হয়েছে। এন্টালি, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া—এই এলাকাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি ‘সংবেদনশীল’ গলি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে ৩০০-রও বেশি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, উত্তর কলকাতার প্রায় ৭৩ শতাংশ বুথকেই ইতিমধ্যে ‘অতি-স্পর্শকাতর’ ঘোষণা করেছে কমিশন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ছবিটা আরও চমকপ্রদ। ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ ও কলকাতা বন্দর—এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের ১০০ শতাংশ বুথকেই ‘অতি-স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪৫০টি গলিকে ধরা হয়েছে ‘উত্তেজনাপ্রবণ’ তালিকায়। সেখানে বসানো হবে ৬৫০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিটি বুথের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা গলিগুলিতে থাকবে নজরদারি। কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকেই চলবে সরাসরি পর্যবেক্ষণ। কোথাও অবৈধ জমায়েত, রাজনৈতিক পতাকা বা সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে সতর্ক করা হবে।

সব মিলিয়ে এবারের ভোটে কলকাতা যেন এক বিশাল ‘নজরবন্দি’ শহর। নিরাপত্তার এই বহুমাত্রিক বলয় কি নিশ্চিত করবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভোট? নাকি এত কড়াকড়ির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে অশান্তির আশঙ্কা—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে।