আজ, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যের রাজনৈতিক হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলোর ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। আজকের এই লড়াই শুধু বিধায়ক নির্বাচনের নয়, বরং এটি বড় একটি রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করবে—তৃণমূল কি তাদের দক্ষিণবঙ্গের দুর্ভেদ্য দুর্গ ধরে রাখতে পারবে, নাকি বিজেপি অবশেষে নবান্নে পৌঁছানোর একটি সুনিশ্চিত পথ খুঁজে পাবে?
ভোটার তালিকায় নতুন সংযোজন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ১,৪৬৮ জন নতুন ভোটার আজ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, যাদের নাম সম্পূরক তালিকায় রয়েছে, তারা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের এপিক (EPIC) নম্বর দিয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নিতে পারবেন। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যে সমস্ত আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই এই অন্তিম দফায় ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
প্রচার শেষে এখন জনমতের অপেক্ষা
গত সোমবার শেষ হয়েছে এই দফার হাই-ভোল্টেজ প্রচার অভিযান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ভোটারদের মন জয়ে শেষ মুহূর্তের জানপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের আগে প্রচারের ময়দানে কোনো পক্ষই এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা ও আত্মবিশ্বাস
প্রচারের শেষ দিনে বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলার প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে তিনি সুযোগে রূপান্তর করতে চান। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একজন প্রতিনিধি।
প্রথম দফার রেকর্ড ও ফলাফলের গণনা
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সেই দফায় ৯৩% রেকর্ড ভাঙা ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। মোট ২৯৪টি আসনের এই মহারণের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে, ভোট গণনার দিন।
এখন দেখার বিষয়, বাংলার মানুষ উন্নয়ন না পরিবর্তন—কোন পথে তাদের রায় প্রদান করেন। সবাই এখন ৪ মে-র সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষায়।


