

মেসি ভাঙলেন ক্লোসে-র রেকর্ড। ছবি -Google.
২৩শে জুন, ২০২৬
নিজের গড়া রেকর্ড অন্য কেউ ভেঙে ফেললে কেমন লাগে? মুখে যে যতই বলুক, রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য—একটু খারাপ তো লাগারই কথা। কিন্তু রেকর্ড ভাঙা সেই মানুষটির নাম যদি হয় লিওনেল মেসি, তাহলে? তখন কেউ কেউ বলে দেন, আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। বক্তার নাম মিরোস্লাভ ক্লোসে।
এই জার্মানের দখলে ছিল এতদিন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিকানা। মেসি তাঁকে ওভারটেকই করলেন না, বরং এককভাবে তিনি গোলের শীর্ষে চলে গেলেন। ক্লোসের ছিল ১৬ গোল, মেসির ১৮। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে পেছনে ফেলেন জার্মান কিংবদন্তিকে।
চারটি বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচে ১৬ গোল করে গত ১২ বছর ধরে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ক্লোসে। মেসি এবার তাঁর ক্যারিয়ারের ছয় নম্বর বিশ্বকাপে এসে ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন। অস্ট্রিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে রেকর্ডটির যৌথ ভাগীদার ছিলেন তাঁরা দুজন।
২০১৬ সালের ১ নভেম্বর পেশাদার ফুটবল ছেড়ে দেওয়া ৪৮ বছর বয়সী ক্লোসে এখন জার্মান ফুটবলে দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব নুরেমবার্গের কোচ। মেসি তাঁর রেকর্ডটি ভেঙে ফেলার পর জার্মানির সংবাদমাধ্যম ‘ডয়েচে জেইতাং’কে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা। অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন!’
জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ১৪টি গোলের রেকর্ড ২০০৬ বিশ্বকাপে ভেঙে ফেলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিও। এর আট বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেই নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে ফেলেন ক্লোসে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ন্যূনতম ১০ গোল করেছেন মাত্র ১৬ জন খেলোয়াড়। তাঁদের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপে খেলছেন মাত্র তিনজন—আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (১৮ গোল), ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৬ গোল) এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন (১০ গোল)। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের মেসির এই রেকর্ড ভেঙে ফেলার সুযোগটা অনেক বেশি।
ক্লোসের ক্যারিয়ারে প্রথম বিশ্বকাপ ২০০২ সালে। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর; আর ২০০৬ সালে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে মেসি উদ্যাপন করেন তাঁর ১৯তম জন্মদিন।
বিশ্বকাপে মোট ১৭৯৩ মিনিট মাঠে থেকে ৬৬টি শটে ১৬টি গোল পেয়েছেন ক্লোসে।
মেসি বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ম্যাচ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মোট ২৪৮৪ মিনিট। ১১৮টি শট নিয়ে পেয়েছেন ১৮ গোল। ক্লোসের চেয়ে ৫২টি শট বেশি নিয়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপে ক্লোসে তাঁর নেওয়া মোট শটের ২৪ শতাংশই গোলে রূপান্তর করেছেন, যেখানে মেসির হার ১৫ শতাংশ। প্রতি গোলে কত মিনিট সময় লেগেছে, সেই গড়েও মেসিকে (১৩৮ মিনিট) পেছনে ফেলেছেন ক্লোসে (১১২ মিনিট)। এটাও ঠিক, মেসি দলের প্লেমেকার কাম স্ট্রাইকার। আর জার্মানির ক্লোসে খেলেছেন পজিটিভ স্ট্রাইকার হিসেবেই। তাই মেসির কৃতিত্ব অনেক বেশি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
