

উৎপল চট্টোপাধ্যায়। ছবি - AI
২৭শে আগস্ট, ২০২৬
বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের অবদান শুধু পরিসংখ্যানে বিচার করা যায় না। তাঁদের উপস্থিতি, লড়াই, নিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের অবদান মিলিয়ে তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি যুগের প্রতীক। উৎপল চট্টোপাধ্যায় ঠিক তেমনই এক নাম। বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্নেহের ‘ডেভিড’, অসংখ্য ব্যাটসম্যানের কাছে কঠিন এক পরীক্ষা এবং দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলার বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিলেন তিনি।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সিএবি তাদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে Lifetime Achievement Award দিয়ে সম্মানিত করতে চলেছে। বাংলার ক্রিকেটে তাঁর অসাধারণ অবদান, দীর্ঘদিনের নিরলস লড়াই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই সম্মান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রাপ্য।
১৯৬৪ সালের ১৩ জুলাই জন্মগ্রহণ করা উৎপল ক্রিকেটজীবনের শুরুটা কিন্তু একজন বাঁহাতি পেস বোলার হিসেবে। পরবর্তীকালে পিঠের চোট তাঁর কেরিয়ারের পথ বদলে দেয়। অনেকের ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতি হয়তো স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটাত, কিন্তু উৎপলের ক্ষেত্রে সেটিই হয়ে ওঠে এক নতুন শুরুর গল্প। তিনি নিজেকে বদলে নেন এবং হয়ে ওঠেন বাঁহাতি orthodox spin bowler। সেই বদলের পর থেকেই শুরু হয় বাংলার ক্রিকেটে এক অসাধারণ অধ্যায়।
১৯৮৪ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত প্রায় দুই দশক ধরে বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দাপট ছিল অবিশ্বাস্য। নিখুঁত লাইন, দুর্দান্ত লেংথ এবং দীর্ঘ স্পেলে একইরকম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০-র বেশি উইকেট নেওয়া তাঁর দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ১২৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর উইকেট সংখ্যা ৫০০-রও বেশি, যা বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিএবি ডেভিডকে সেরার সম্মান জানাতে কুন্ঠাবোধ করেনি। আর সৌরভেরও খুব কাছের মানুষ এই অজাতশত্রু মানুষটি।
১৯৯৯-২০০০ মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে স্মরণীয়। সেই রঞ্জি ট্রফি মরশুমে ৫২টি উইকেট নিয়ে তিনি বাংলার সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর হয়ে ওঠেন। তাঁর অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বাংলার Cricketer of the Year হিসেবেও স্বীকৃতি পান। উৎপল চট্টোপাধ্যায় শুধু উইকেট নিতেন না, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতাও ছিল তাঁর।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সুযোগ অবশ্য আসে অনেক দেরিতে। ১৯৯৫ সালে ৩০ বছর বয়সে শারজায় এশিয়া কাপের সময় ভারতের হয়ে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক হয়। বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক যাত্রা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপ জয়ী ভারতীয় দলেরও তিনি সদস্য ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথচলা থেমে যায়।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ সীমিত হলেও উৎপল চট্টোপাধ্যায়ের প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয়েছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের মাঠে। যেখানে দিনের পর দিন, মরশুমের পর মরশুম তিনি বাংলার জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ৫০০-র বেশি উইকেট আজও বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসের এক বিশাল মাইলফলক। পরবর্তীকালে তিনি বাংলা দলের কোচ হিসেবেও সফল হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলা ক্রিকেটের স্পিন পরামর্শদাতার ভূমিকায় রয়েছেন।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
