

ট্যাকটিক্সের স্পেকট্রাম। ফাইল চিত্র -দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস।
২৫শে জুন, ২০২৬
অন্যান্য চ্যাপ্টার
পুরো বিষয়টিকে যদি স্পেকট্রামে ফেলি, তবে ফার্নান্দো দিনিজ এবং ফ্লুমিনেন্স থাকবে একেবারে বাম প্রান্তে। পেপ গার্দিওলা হয়তো একেবারে ডান প্রান্তে থাকবেন না, তবে মাউরিজিও সারির মতো কিছু ম্যানেজার আছেন যারা পজিশনাল প্লের কাঠামোর ওপর কঠোরভাবে নির্ভর করেন। অবশ্যই কোনো ম্যানেজারই চরম বাম বা চরম ডান প্রান্তে থাকেন না, কারণ সেটা কখনোই আদর্শ হতে পারে না। সবসময়ই দর্শনের একটা মিশ্রণ থাকে। তবে ফুটবলে যে চিন্তাধারার দুটি ভিন্ন স্কুল আছে, তা বলাই যায়। পজিশনাল প্লে অনেক আগে থেকেই বিকশিত হতে শুরু করেছিল, কিন্তু এখন ফুটবলে নতুন এক দর্শনের ঢেউ উঠে আসছে, যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে।
আর এখান থেকেই 'ডানপন্থী এবং বামপন্থী' পরিচয়ের সাথে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ার বা 'আইডেন্টিটি ফিট' বিষয়টি সামনে আসে। স্পেকট্রামের দুই প্রান্তের দিকে ঝুঁকে থাকা ম্যানেজারদের অধীনে নির্দিষ্ট স্কিল-সেটের খেলোয়াড়রা বেশি ভালো মানিয়ে নিতে পারেন।
পাবলো এনরিকে গানসোর কথাই ধরা যাক, যাকে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান মিডফিল্ডার মনে করা হতো। বড় অঙ্কের চুক্তিতে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায় যোগ দিয়েও তিনি শুরুর একাদশে নিজের জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হন। কিন্তু ফ্লুমিনেন্সে ফিরে ফার্নান্দো দিনিজের অধীনে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের সেরা তারকা।
আবার ব্রাজিলের কোচ তিতের মেয়াদের কথা বলা যায়, যেখানে তার বিরুদ্ধে ব্রাজিল দলকে "ইউরোপীয়করণ" করার এবং নেইমার জুনিয়র ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের মতো খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এই খেলোয়াড়রা মূলত স্বাধীনতা এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যেই নিজেদের সেরাটা দেন, কিন্তু তাদের পজিশনাল প্লের স্টাইলে খেলানো হয়েছিল। কার্লো আনচেলত্তি কি ব্রাজিলের সেই হারানো জাদু আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন?
ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে এলিট পজিশনাল প্লের মোকাবিলা করার জন্য ক্লাবগুলো কীভাবে রিলেশনিজমের দিকে ঝুঁকে থাকা ম্যানেজারদের নিয়ে আসে, তা দেখতে সত্যিই দারুণ লাগবে। মূলধারার ফুটবলে রিলেশনিজম কীভাবে বিকশিত হয় এবং জায়গা করে নেয়, সেদিকে অবশ্যই আমাদের নজর রাখতে হবে।
ফুটবল চিরকালই পরিবর্তনশীল!
(শেষ)
The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.
কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।