২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

নাসার চোখে ধরা পড়ল ‘সিগার গ্যালাক্সি’

নাসার চোখে ধরা পড়ল ‘সিগার গ্যালাক্সি’

ধুলোর আস্তরণ ভেদ করে জেমস ওয়েবের চোখে ধরা পড়া সিগার গ্যালাক্সি। ছবি - NASA.

নাসার চোখে ধরা পড়ল ‘সিগার গ্যালাক্সি’

নাসা-র জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এবার মহাবিশ্বের এক অনন্য মহাজাগতিক বিস্ময় ফাঁস করেছে। আমাদের থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত মেসিয়ার ৮২ (M82) গ্যালাক্সি, যা তার দীর্ঘ ও সরু আকৃতির জন্য মহাকাশপ্রেমীদের কাছে ‘সিগার গ্যালাক্সি’ নামে পরিচিত। জেমস ওয়েবের শক্তিশালী ইনফ্রারেডের  সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই গ্যালাক্সির ঘন ধূলিকণার আস্তরণ ভেদ করতে পেরেছেন, যার পেছনে এতদিন লুকিয়ে ছিল প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ নক্ষত্র।

ধুলোর পর্দা ভেদ করে নতুন আলো

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের নেয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা (NIRCam) ব্যবহার করে টানা ৬৫ ঘণ্টা ধরে এই গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সাধারণ দৃশ্যমান আলোয় মহাজাগতিক ধূলিকণার কারণে এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রভাগ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকত, যা হাবল টেলিস্কোপের ছবিতেও কেবল অন্ধকার মেঘের মতো দেখাত। কিন্তু ইনফ্রারেড আলো ধুলো ভেদ করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা এবার গ্যালাক্সিটির একদম ভেতরের স্পষ্ট রূপ দেখতে পেয়েছেন। নতুন ছবিতে সদ্য জন্মানো নক্ষত্রগুলো উজ্জ্বল নীল-সাদা বিন্দুর মতো ফুটে উঠেছে, আর মহাজাগতিক ধুলো ছড়িয়ে আছে লাল-কমলা আভায়।

এক ‘সুন্দর বিশৃঙ্খলা’ ও নক্ষত্র তৈরির কারখানা

আরও পড়ুন

মহাকাশে হঠাৎই ‘মেজাজ’ বিগড়ে গেল সূর্যের! শক্তিশালী সোলার ফ্লেয়ারের ঝাপটায় স্তব্ধ পৃথিবীর রেডিও যোগাযোগ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সিগার গ্যালাক্সিটি বর্তমানে একটি তীব্র 'স্টারবার্স্ট' (Starburst) পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মানে হল, এখানে আমাদের ছায়াপথের তুলনায় বহুগুণ দ্রুত গতিতে নতুন নতুন নক্ষত্র তৈরি হচ্ছে। নাসার বিজ্ঞানী অ্যাডাম স্মারসিনা এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, "M82 একটি বিশৃঙ্খলা, তবে এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি বিশৃঙ্খলা।"

বিজ্ঞানীদের ধারণা, অতীতে পার্শ্ববর্তী গ্যালাক্সি M81-এর সাথে একটি তীব্র মহাকর্ষীয় টান বা সংঘর্ষের কারণেই সিগার গ্যালাক্সির ভেতরে এই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সুপ্ত গ্যাসকে জাগিয়ে তুলে নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহাজাগতিক পরিহাস ও স্বল্পায়ু ভবিষ্যৎ

তবে এই তীব্র নক্ষত্র বিস্ফোরণের একটি উল্টো পিঠও রয়েছে, যাকে বিজ্ঞানীরা এক ধরণের 'মহাজাগতিক পরিহাস' বলছেন। গ্যালাক্সির ভেতরে নতুন তারা তৈরির তীব্র তেজস্ক্রিয়তা এবং একের পর এক সুপারনোভা (নক্ষত্রের মহাবিস্ফোরণ) থেকে নির্গত শক্তি গ্যালাক্সিটির ওপর ও নিচের দিকে বিশাল গ্যাসের ফোয়ারা তৈরি করছে।

এই শক্তিশালী মহাজাগতিক বাতাস গ্যালাক্সির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও ধূলিকণা বাইরে মহাশূন্যে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে। এর ফলে আগামী কয়েক কোটি বছরের মধ্যে নতুন তারা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি বা কাঁচামাল শেষ হয়ে যাবে। মহাজাগতিক সময়ের স্কেলে এই সময়টা খুবই সামান্য, যার অর্থ সিগার গ্যালাক্সির নক্ষত্র তৈরির এই স্বর্ণযুগ খুব দ্রুতই চিরতরে থমকে যাবে।

মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে পারস্পরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে বদলে যায়, তা ঘরের কাছে বসে খুঁটিয়ে দেখার জন্য সিগার গ্যালাক্সিটি এখন বিজ্ঞানীদের জন্য একটি চমৎকার প্রাকৃতিক গবেষণাগার।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য