

ফুড ডেলিভারি রোবট। ছবি - Google
চালক নেই, ডেলিভারি বয়-ও নেই! নিউ জার্সির ‘ইন্ডিয়া স্কোয়ারে’ চার চাকার একটি ছোট্ট রোবটকে নিজে থেকেই খাবার পৌঁছে দিতে দেখে অবাক এক বয়স্ক ভারতীয় দম্পতি। মেয়ের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া বাবা-মায়ের এই নিষ্পাপ বিস্ময়ের মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ ভাইরাল।
রাস্তা দিয়ে দিব্যি হেঁটে যাচ্ছে। না আছে চালক, না আছে ডেলিভারি-বয়। কাউকে ডাকতে হচ্ছে না, কারও অপেক্ষাও নেই। অথচ গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে ছোট্ট একটি বাক্স। তার ভিতরে রয়েছে খাবার। সামনে মানুষ দেখলে থামছে, রাস্তা ফাঁকা পেলে এগিয়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হবে, কোনও সিনেমার দৃশ্য! কিন্তু না, এটাই এখন আমেরিকার রাস্তার বাস্তব পরিস্থিতি।
আর সেই দৃশ্য দেখেই চোখ কপালে এক ভারতীয় দম্পতির। মেয়ের সঙ্গে আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে প্রথম বার চোখের সামনে দেখলেন মানুষ ছাড়াই খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবট। বিস্ময়ে কখনও যন্ত্রটির দিকে তাকাচ্ছেন, কখনও মেয়ের দিকে। যেন ভবিষ্যতের কোনও দুনিয়া আচমকাই এসে হাজির হয়েছে তাঁদের সামনে।
ঘটনা নিউ জার্সির জার্সি সিটির ‘ইন্ডিয়া স্কোয়ার’-এর। নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী প্রিয়ঙ্কা বাবা-মাকে নিয়ে সেখানে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ নজরে আসে চার চাকার ছোট্ট একটি যন্ত্র। মানুষের মতোই রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে সেটি। কিন্তু আশপাশে নেই কোনও চালক, নেই কোনও ডেলিভারি কর্মী। কিছু ক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়, সেটি আসলে খাবার পৌঁছে দিতে চলেছে।
প্রথমে কী হচ্ছে, বুঝতেই পারেননি প্রিয়ঙ্কার বাবা-মা। ছোট্ট ‘চাকা লাগানো বাক্স’টা কীভাবে নিজে নিজেই চলছে, কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে তাঁদের কৌতূহলের শেষ নেই। মেয়ের কাছে বার বার জানতে চাইছেন। আর সেই বিস্মিত মুখই ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন প্রিয়ঙ্কা।
মুহূর্তটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রিয়ঙ্কা জানান, বাবা-মায়ের জীবনে এই প্রথম এমন ডেলিভারি রোবট দেখা। তাঁর কাছে দৃশ্যটি নিছক প্রযুক্তির প্রদর্শন নয়, বরং বাবা-মায়ের চোখ দিয়ে পরিচিত পৃথিবীকেও নতুন করে দেখার অভিজ্ঞতা। যে প্রযুক্তি তাঁর কাছে হয়তো প্রতিদিনের, বাবা-মায়ের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে বিস্ময়ের।
তবে প্রযুক্তির এই চমকেই শেষ নয়। নিউ ইয়র্ক সফরে বাবা-মায়ের আরও একটি ‘প্রথম’ মুহূর্ত ধরে রেখেছেন প্রিয়ঙ্কা। টাইমস স্কোয়ারে গিয়ে মায়ের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়েছিলেন তিনি। পিছনের ক্যামেরা দিয়ে বাবা-মায়ের ভিডিয়ো করতে বলেছিলেন। ফোনটা কী ভাবে ধরতে হবে, কোন দিকে তাকাতে হবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল মিষ্টি বিভ্রান্তি। সেই সরল মুহূর্তও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।
প্রিয়ঙ্কার বক্তব্য, বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার আনন্দ শুধু টাইমস স্কোয়ার, ঝলমলে আলো বা বিখ্যাত জায়গা দেখানোর মধ্যে নেই। আসল আনন্দ তাঁদের চোখে নতুন পৃথিবীর বিস্ময় দেখা। যে জিনিস তাঁর কাছে স্বাভাবিক, সেটিই বাবা-মায়ের কাছে নতুন আবিষ্কার।
আর সেই আবিষ্কারের তালিকায় এ বার জায়গা করে নিল খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবটও।
প্রযুক্তির দুনিয়া যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা উঠতেই পারে—আজ খাবার পৌঁছে দিতে রোবট রাস্তায় নামল, কাল কি তবে ডেলিভারি-বয়ের দরজায় তালা? কাজ হারানোর ভয় এখনই না হয় দূরের কথা। কিন্তু আমেরিকার রাস্তায় মানুষের বদলে খাবার নিয়ে রোবটের এই ছুটে চলা যে ভবিষ্যতের একটা ঝলক দেখিয়ে গেল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটাগরিকদের একাংশের মন্তব্য, বাবা-মায়ের মুখের সেই নিষ্পাপ বিস্ময়ই আসল আকর্ষণ। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, নতুন কিছু প্রথম বার দেখার আনন্দের কাছে তার জৌলুসও যেন ম্লান।
একটি ছোট্ট রোবট, একটি স্মার্টফোন আর মেয়ের ক্যামেরায় ধরা পড়া বাবা-মায়ের বিস্মিত মুখ—নিউ ইয়র্ক সফরের স্মৃতিতে এর চেয়ে সুন্দর ‘প্রথম’ আর কী-ই বা হতে পারে!
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
2016 সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক। 2020 থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে The Fourth Axis বাংলায় কর্মরত। শখ বলতে সময় পেলে সমুদ্রের কাছে যাওয়া।
