২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

ফুটবল ও ফ্যাসিবাদ, মাঠ এবং মঞ্চ (পর্ব ১)

ফুটবল ও ফ্যাসিবাদ, মাঠ এবং মঞ্চ (পর্ব ১)

ফুটবল, ফ্যাসিবাদ, মাঠ ও মঞ্চ। ফাইল চিত্র -Google.

ফুটবল ও ফ্যাসিবাদ, মাঠ এবং মঞ্চ (পর্ব ১)

calender icon 2 ৪ঠা জুলাই, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

ফ্যাসিবাদের থিয়েটার

১৯৩৪ সালের গ্রীষ্মকাল। ইতালির আকাশ তখন এক অদ্ভুত তপ্ত আভায় লাল হয়ে উঠেছে। কিন্তু সে উত্তাপ কেবল ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়ার ছিল না, তা ছিল এক সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক উন্মাদনার। রোম, মিলান কিংবা তুরিনের রাজপথগুলোতে পা রাখলে মনে হতো কোনো এক প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের যুদ্ধশিবিরে এসে পড়েছেন কেউ। চারদিকে উড়ছে কালো পতাকা, দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বীর হারকিউলিসের দানবীয় পোস্টার—যার এক হাত ফ্যাসিবাদের চিরচেনা ভঙ্গিতে প্রসারিত, আর অন্য পা-টি চেপে ধরেছে একটা ফুটবলকে।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ট্রামের ভিড়, সব জায়গায় তখন একটাই গুঞ্জন। কিন্তু সেই গুঞ্জনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক। সাধারণ মানুষের কাছে যা ছিল প্রাণের খেলা ফুটবল, ইতালির সর্বময় কর্তা বেনিতো মুসোলিনির কাছে তা ছিল স্রেফ  এক দাবার ঘুঁটি। বিশ্বমঞ্চে নিজের এবং নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার এক পরম হাতিয়ার। 'দ্য বিউটিফুল গেম' বা সুন্দরের খেলা ফুটবল কীভাবে একনায়কতন্ত্রের শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে এক কুৎসিত প্রচারযন্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল, ১৯৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ তারই এক জীবন্ত, রক্তমাংসের ইতিহাস।

বিশ্বকাপের স্বত্ব লাভ

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ বসেছিল উরুগুয়ের মাটিতে। সেবার ইউরোপের বহু দেশ দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার অজুহাতে লাতিন আমেরিকায় দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ফুটবলবিশ্বের সেই অহংকার আর অবহেলা ভোলেনি উরুগুয়ে। তাই ১৯৩৪ সালে যখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর আয়োজনের কথা উঠল, তখন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে সাফ জানিয়ে দিল—তারা এই টুর্নামেন্ট বয়কট করছে।

ফিফা তখন মরিয়া হয়ে ইউরোপের কোনো দেশকে আয়োজক হিসেবে খুঁজছিল। আর ঠিক এই সুযোগটিই লুফে নিলেন 'ইল দুচে' (The Leader) বেনিতো মুসোলিনি। ফ্যাসিবাদের এক দশক পার করে দেওয়া মুসোলিনির তখন আন্তর্জাতিক মহলে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের খুব প্রয়োজন ছিল। ইতালিকে বিশ্বমঞ্চে এক আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং অপরাজেয় পরাশক্তি হিসেবে তুলে ধরার জন্য বিশ্বকাপের চেয়ে বড় মঞ্চ আর কী-ই বা হতে পারত?

ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি জিওভান্নি  মাউরোকে মুসোলিনি সরাসরি নির্দেশ দিলেন—যেভাবেই হোক, এই বিশ্বকাপের স্বত্ব ইতালিতে আনতেই হবে। ১৯৩২ সালে ফিফার সদর দপ্তরে যখন ভোটাভুটি হল, তখন সুইডেন, অস্ট্রিয়া বা স্পেনের মতো দেশগুলো ইতালির আগ্রাসী প্রচার ও কাঠামোগত শক্তির সামনে টিকতে পারল না। বিশ্বজুড়ে তখন চলছে চরম অর্থনৈতিক মন্দা। মুসোলিনি ফিফাকে আশ্বাস  দিলেন, "খেলার সমস্ত লোকসান ইতালি সরকার নিজে বহন করবে।" মন্দা-কবলিত ফিফার কাছে এই প্রস্তাব ছিল এক দেবদূতের আশীর্বাদের মতো। তবে পর্দার আড়ালে যে কত শত হুমকি, কালো টাকা আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল, তা আজ আর কারও অজানা নয়।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য