২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

‘মিশরের মেসি’র লড়াই মনে রাখবে ফুটবল দুনিয়া

‘মিশরের মেসি’র লড়াই মনে রাখবে ফুটবল দুনিয়া

মম্মদ সালাহ। ছবি-Google.

‘মিশরের মেসি’র লড়াই মনে রাখবে ফুটবল দুনিয়া

calender icon 2 ৯ই জুলাই, ২০২৬

মিশরের নাইল ডেল্টার প্রত্যন্ত গ্রাম নাগরিগ। ওই অজ পাড়া গাঁ থেকে কেউ ফুটবলার হতে পারে সেটাই ছিল কল্পনাতীত। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও সেই স্বপ্ন দেখতেন মহম্মদ সালাহ। মাত্র ১২ বছর বয়সে আল মোকাওলুন আল আরবের যুবদলে সুযোগ পান।

সুযোগ পেলে কী হবে, এই অনুশীলনে যেতে গিয়ে তাঁকে যা কষ্ট করতে হয়েছে, সেটিও নজিরবিহীন। প্রতিদিন অনুশীলনের জন্য গ্রাম থেকে শহরে যেতে বাস ও টেম্পো ধরে প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা যাতায়াত করতে হতো। এর মধ্যে আবার স্কুলও ছিল। সকালে স্কুলে যেতেন, ক্লাসের টিচারদের বলা ছিল তাঁকে খেলার জন্য তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দিতে হবে। সেটি পেতেনও। তারপর বাড়ি ফিরে নাকে-মুখে গুঁজে দিয়ে দে ছুট। তখন সালাহর একটাই লক্ষ্য, দ্রুত তাঁকে প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে পৌঁছাতে হবে।

প্রতিটি লড়াইয়ের পরে পুরস্কারেরও মঞ্চ মেলে। সালাহর ক্ষেত্রে দরজা খোলে পেশাদার সার্কিটে খেলার। প্রথমে কায়রোতে একটি ক্লাবে যোগ দেন, কিন্তু লিগে মাঠে নামার আগে পুরো টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ প্রাকৃতিক দূর্যোগে মূল স্টেডিয়াম নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।

আবার নতুন লড়াই শুরু। সেই কঠিন সময়েই সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলে সুযোগ পান সালাহ। সেখান থেকে চেলসিতে। কিন্তু চেলসি তাঁকে সুযোগ দেয়নি। দিনের পর দিন বেঞ্চে কাটিয়েছেন, একসময় হতাশায় কোচের বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিতর্কও বাঁধান। তাঁকে দল সরিয়ে দেন, তিনিও বেঁচে গিয়েছিলেন ওই পরিবেশের মধ্যে থেকে বেরিয়ে গিয়ে। কিন্তু যার জীবন লড়াইয়ে ভরা, তিনি কী আর লড়াই শেষ করে দেন?

চেলসি থেকে গেলেন ইতালি এ সিরির ক্লাব ফিওরেন্তিনায়, সেখান থেকে রোমায়। তাঁর পারফরম্যান্স নজর কাড়ে লিভারপুল স্কাউটদের। কোচ  জুরগেন ক্লপকে বুঝিয়ে দলের স্কাউটরা সালাহকে লিভারপুলে সই করান।

ওটাই তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গিয়েছে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সালাহকে। একের পর এক রেকর্ড, একের পর এক গোল। তবে আফসোসও ছিল। প্রিমিয়ার লিগ খেতাব এনে দিয়েছেন দলকে। লিভারপুলের ইতিহাসের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছেন সালাহ।

একটা আক্ষেপও ছিল, মিশরের জার্সিতে তিনি ভালো খেলতে পারেন না। এমন অপবাদও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তিনি অবিচলিত ছিলেন। গতবারের মতো এবারও তিনি মেগা আসরে মিশরকে টেনেছেন, তাই তাঁকে মিশরের মেসি বলেন সেই দেশের জনতা। গত আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচে সালাহ হয়তো গোল পাননি, কিন্তু তাঁর মাঠ জুড়ে দাপটে ফুটবল ও অ্যাসিস্ট সতীর্থদের গোল পেতে সহায়তা করেছে। জাতীয় দলের জন্য রেফারির সঙ্গে বারবার তর্ক জুড়েছেন। ভেবেছিলেন মেসিদের হারিয়ে শেষ আটে যাবেন, নিশ্চিতও ছিলেন, কিন্তু সকলের জন্য শেষটা ভালো হয় না। সালাহের মতো কিংবদন্তির ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। নেইমার, রোনাল্ডোর মতো তাঁর হাত অপূর্ণই থাকলো। কিন্তু একটা সীমাবদ্ধ থাকা দলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখানো সহজ কথা নয়, সেটিতে সফল সালাহ।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

কলকাতার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক। দুটি ফুটবল বিশ্বকাপ এবং দুটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ কভার করা এই সাংবাদিকের একাধিক আরও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। শুভ্র দুটি বইও লিখেছেন, একটা বিশ্বকাপের গল্প যুদ্ধ এবং শেষটি স্বপ্নের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য