২৯শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

নীল শঙ্খচিলদের বিশ্বজয় (শেষ পর্ব)

নীল শঙ্খচিলদের বিশ্বজয় (শেষ পর্ব)

কাবো ভার্দের মানুষের এক দ্বিমুখী আত্মপরিচয়। ছবি - Google.

নীল শঙ্খচিলদের বিশ্বজয় (শেষ পর্ব)

calender icon 2 ১৪ই জুলাই, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

সংস্কৃতির এই যে বিবর্তন, তার আধুনিকতম বিজ্ঞাপন হল ফুটবল। ক্যাবো ভার্দের জাতীয় ফুটবল দলকে বলা হয় 'টিবুরোয়েস আজুইস' (Tubarões Azuis) বা নীল শঙ্খচিল (Blue Sharks)। এই দ্বীপের মানুষের কাছে ফুটবল কোনও বিনোদন নয়, ফুটবল হল তাদের অস্তিত্ব প্রমাণের একমাত্র মঞ্চ। গলি থেকে রাজপথ, সমুদ্রের সৈকত থেকে স্কুলের মাঠ— সর্বত্রই সেখানে বল ঘোরে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ক্যাবো ভার্দের এই রূপকথা কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয়নি। এর পেছনে ছিল এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। দেশের সীমিত জনসংখ্যা আর পরিকাঠামোর অভাবকে ঢাকতে তারা কাজে লাগিয়েছে তাদের বিশাল ডায়াসপোরাকে। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ক্যাবো ভার্ডিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের তারা এক পতাকার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে যখন তারা স্পেন আর উরুগুয়ের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আটকে দিল, তখন ফুটবল পণ্ডিতরা নড়েচড়ে বসেছিলেন। আর নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৩–২ গোলের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি তো ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। আর্জেন্টিনার মতো মহাশক্তিধর দলের ডিফেন্সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যখন দ্বীপের ছেলেরা গোল করছিল, তখন খোদ বুয়েনস আইরেসেও কাঁপুনি ধরে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তের এক এক্সট্রা টাইমের গোলে হারতে হলেও, তারা বিশ্ব ফুটবলের মন জয় করে নিয়েছিল।

পরিশেষে: এক দ্বৈত আত্মপরিচয়

ফুটবল মাঠের এই সাফল্য ক্যাবো ভার্দেকে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি এনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের ভেতরের সেই চিরন্তন প্রশ্নটা এখনো রয়ে গেছে— তারা ঠিক কতটা আফ্রিকান আর কতটা ইউরোপীয়?

বিশ্বকাপের মাঠে কোচ বুবিস্তা যখন বলেন, "আমরা আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছি", তখন তা আফ্রিকার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে। কিন্তু আবার যখন ডায়াসপোরা বা দেশের ভেতরের সমাজতাত্ত্বিক কাঠামোর দিকে তাকানো যায়, তখন দেখা যায় ইউরোপের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন টান। ক্যাবো ভার্দে আসলে এই দুই টানাপোড়েনের মাঝখানে গড়ে ওঠা এক অনন্য সেতু। পাঁচশো বছর আগে যে দ্বীপকে ব্যবহার করা হয়েছিল আফ্রিকানদের পরিচয় কেড়ে নেওয়ার ল্যাবরেটরি হিসেবে, আজ সেই দ্বীপেরই এক দল তরুণ ফুটবলার বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে নিজেদের আফ্রিকান বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ইতিহাস হয়তো এভাবেই তার প্রতিশোধ নেয়, আর আটলান্টিকের নীল শঙ্খচিলেরা ডানা মেলে উড়ে চলে এক নতুন ভোরের সন্ধানে।

(শেষ)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য