

ভারতীয় বুলেট ট্রেন। ছবি - Google.
১৮ই জুলাই, ২০২৬
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাকিহারা বলেন, মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে ভারতীয় প্রশাসনের একাংশের আচরণ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর দাবি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন মেলেনি। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জাপানের পক্ষেও কাজের গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
মাকিহারা আরও দাবি করেন, প্রযুক্তিগত বা আর্থিক সমস্যা নয়, প্রকল্পের সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের আমলাতন্ত্রের ধীরগতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের জন্যই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে এগোতে পারেনি।’’
তবে এই অভিযোগকে কার্যত ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রাক্তন জাপানি মন্ত্রীর মন্তব্যে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নেই। ভারত ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় এবং দুই দেশের সহযোগিতায় বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের অধিকাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। গুজরাটে একাধিক স্টেশন, ভায়াডাক্ট এবং সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। মহারাষ্ট্রেও কাজ এগোচ্ছে। দেশের প্রথম সমুদ্রতল রেল টানেল নির্মাণ-সহ একাধিক জটিল প্রকৌশল প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যৌথভাবে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তির আদলে তৈরি হওয়া এই করিডরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলবে। মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পৌঁছতে যেখানে বর্তমানে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগে, সেখানে বুলেট ট্রেন চালু হলে সেই সময় কমে প্রায় দুই ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা বাধার মুখে পড়ে। মহারাষ্ট্রে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, কোভিড অতিমারির ধাক্কা, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে প্রকল্পের সময়সীমা বারবার পিছিয়েছে। ব্যয়ও প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
এই আবহেই প্রাক্তন জাপানি মন্ত্রীর মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, প্রকল্পের বিলম্বের নেপথ্যে আসল কারণ কী? যদিও কেন্দ্রের দাবি, অতীতের সমস্যাগুলি কাটিয়ে এখন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং ভারত-জাপান সহযোগিতায় দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু করার লক্ষ্য থেকে সরকার একচুলও সরে আসেনি।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অনলাইন বাংলা ম্যাগাজিন।
