৩০শে জুলাই, ২০২৬

info@thefourthaxis.in

The Fourth Axis

header-ad

অন্ধকার যুগের পর এক ঝলক আলো (পর্ব ৪)

অন্ধকার যুগের পর এক ঝলক আলো (পর্ব ৪)

জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে বাঁচতে হচ্ছে সরকারের দেওয়া রেশনের ওপর। ছবি - Google.

অন্ধকার যুগের পর এক ঝলক আলো (পর্ব ৪)

calender icon 2 ২৪শে জুলাই, ২০২৬

অন্যান্য চ্যাপ্টার

বিপ্লব-উত্তর সময়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে মিশরের জনগণ কাটিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভ্যুত্থান এবং অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে। বিগত কয়েক বছরে মিশর আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হয়েছে। মোবারক ও বর্তমান সরকারের চোখধাঁধানো সব 'মেগা প্রজেক্ট'-এর খরচের কারণে দেশের ঘাড়ে চেপেছে বিশাল ঋণের বোঝা। এর ফলে দেখা দিয়েছে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকট এবং ডলারে বিপরীতে মিশরীয় পাউন্ডের মূল্যহীন হয়ে পড়া।

সাধারণ মানুষের জন্য জীবনের মূল্য চুকানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১১৮ মিলিয়ন (১১ কোটি ৮০ লাখ) জনসংখ্যার ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষকে বাঁচতে হচ্ছে সরকারের দেওয়া রেশনের ওপর। কোনো রাজনৈতিক আশা নেই, বাক স্বাধীনতা নেই, বেঁচে থাকার দৈনন্দিন সংগ্রাম—এমন এক পরিস্থিতিতে মিশরীয়রা আবারও তাদের সেই পুরোনো আশ্রয়স্থল ফুটবলের কাছেই ফিরে গেছে।

আর ঠিক এই সময়েই মিশরের জাতীয় দল—ফারাওরা—তাদের নতুন গল্প লিখতে শুরু করে। যদিও তারা ২০১৭ এবং ২০২১ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের ফাইনালে গিয়ে হেরেছিল (মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানের সেনেগালের কাছে পেনাল্টিতে হেরে যাওয়া), কিন্তু তাদের প্রকৃত রূপকথা লেখা হচ্ছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

১৯৩৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলার পর থেকে মিশর কখনো বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বকাপে সেই ইতিহাসের চাকা ঘোরে। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তারা প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় এবং গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে অপরাজিত থেকে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো নকআউট বা শেষ ১৬-তে পৌঁছায়।

রাউন্ড অফ ১৬-র সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। আটলান্টার স্টেডিয়ামে যা ঘটেছিল, তা চিরকাল মিশরীয়দের মনে খোদাই করা থাকবে। প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য মনে হচ্ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটতে চলেছে। আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে! মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেয়ার (যিনি আবার সেই এনডিপি নেতা আহমেদ শোবেয়ারের ছেলে!) খোদ লিওনেল মেসির পেনাল্টি শুটআউট আটকে দিয়েছিলেন।

যদিও শেষ অর্ধে আর্জেন্টিনা ১৩ মিনিটের ব্যবধানে ৩টি গোল করে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং ম্যাচ ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয়, আর মিশরের স্বপ্নের দৌড় সেখানেই থেমে যায়। ম্যাচ শেষে রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে মিশরীয়দের কান্না ক্ষোভে পরিণত হলেও, সেই হারের মধ্যেও ফুটে উঠেছিল এক পরম গর্বের হাসিমুখ।

দলটি যখন আটলান্টার হোটেলে ফিরে আসে, হাজার হাজার মিশরীয় সমর্থক তাদের স্বাগত জানায়। আবেগঘন সেই মুহূর্তে খেলোয়াড়রা দাঁড়িয়ে ভক্তদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের বিপ্লবের পর গত ১৫ বছরে এই ফুটবল দলটিই মিশরের মানুষকে প্রথম একসাথে রাস্তায় নেমে নিঃসংকোচে আনন্দ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। সালাহ হাতে সাউন্ডবক্স নিয়ে সমর্থকদের সাথে নাচছিলেন, গান গাইছিলেন—যা প্রমাণ করে এই জয় বা পরাজয় কেবল কোনো খেলার অংশ ছিল না, এটি ছিল এক বিদীর্ণ জাতির একত্র হওয়ার বাহানা।

(চলবে)

The Fourth Axis is now on WhatsApp. Follow our channel for sharp analysis and opinions on the latest developments.

সৌরভ গোস্বামী

সৌরভ গোস্বামী

কলকাতার বেহালায় জন্ম। দক্ষিণ কলকাতার এন্ড্রিউজ হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক স্কুলিং। এরপরে আশুতোষ কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে স্নাতকোত্তর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এমফিল করে আপাতত সাংবাদিকতার সাথে কিছু বছর যুক্ত। ভবিষ্যতে একাডেমিকসে/শিক্ষকতায় যাওয়ার ইচ্ছা। লেখালিখিতে হাতেখড়ি কলেজে পড়াকালীন সময়েই। অবসর সময়ে ভ্রমণ, ফুটবল, গিটার, পড়াশোনা, রান্না করতে ভালবাসেন।

অন্যান্য