

প্রতীকী ছবি - রয়টার্স
১১ই আগস্ট, ২০২৬
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। ১০ আগস্ট কেন্দ্র সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমশক্তির এই পিছিয়ে পড়া সার্বিক বৃদ্ধির গতিতে টান ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ত্রৈমাসিকে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার (FLFPR) কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩.২ শতাংশে। যেখানে গত ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এই হার ছিল ৩৪.৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩.৪ শতাংশ।
গ্রামীণ ভারত: সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে গ্রামাঞ্চলে। গ্রামে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার ৩৯.২ শতাংশ থেকে কমে ৩৭.২ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্রামে মহিলাদের বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ হওয়াকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহরাঞ্চল: শহরে মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার ২৫.৪ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২৫ শতাংশ হয়েছে। তবে আশার কথা, শহরের সার্বিক বেকারত্বের হার ৮.৯ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে কর্মসংস্থানের ধরনের মধ্যে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে এবং শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের উপস্থিতি বেড়েছে।
গ্রামে কৃষিক্ষেত্রে কাজের হার ৫৫.৮ শতাংশ থেকে কমে ৫২.৯ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা সেকেন্ডারি সেক্টরে কাজের হার ২২.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪.৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
এর প্রভাব পড়েছে চাকরির স্থায়িত্বেও। গ্রামে স্থায়ী মাইনের চাকরি করা মহিলার সংখ্যা ১১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের (Self-employed) হার ৭২.৭ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
শহরাঞ্চলেও মহিলা কর্মীদের মধ্যে স্থায়ী বেতনভোগী চাকরির হার ৫৪.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৪.৮ শতাংশ হয়েছে।
ভারত যখন নিজের বিশাল তরুণ জনসংখ্যা বা 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-এর সুবিধা নিয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখছে, তখন কর্মক্ষেত্র থেকে নারীদের এই সরে দাঁড়ানো বেশ চিন্তার কারণ। বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব যখন অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে, তখন ঘরোয়া বাজারে নারী শ্রমশক্তি কমে যাওয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এই ত্রৈমাসিকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেও, নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
