১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

info@thefourthaxis.in
header-ad
মদ খান? রামমন্দিরে CEO-র ধর্মপরীক্ষা

রামমন্দির, ছবি - Google

মদ খান? রামমন্দিরে CEO-র ধর্মপরীক্ষা

সামনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দায়িত্ব। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসার কথা ছিল—হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় কী ভাবে সামলাবেন? মন্দিরের বিপুল অনুদান ও সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কী ভাবে করবেন? নিরাপত্তা, পরিষেবা, কর্মী নিয়ন্ত্রণ কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? কিন্তু অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রথম পূর্ণ সময়ের CEO বাছাইয়ের সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নের পাশেই হাজির হল আরও ব্যক্তিগত কিছু প্রশ্ন। পৈতে পরেন? শিখা রাখেন? আমিষ খান? মদ্যপান করেন? নিজেকে কতটা নিষ্ঠাবান হিন্দু মনে করেন? রামের প্রতি আপনার ভক্তি কতটা?

৫২০০-র বেশি আবেদন থেকে বাছাই করা ১৮ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার ঘিরে এই প্রশ্নগুলিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। মঙ্গলবার অযোধ্যায় শুরু হয়েছে সেই বাছাই-পর্ব। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন IAS, IPS এবং সামরিক আধিকারিকেরা। অর্থাৎ, মন্দির পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ধর্মাচরণও যে গুরুত্ব পেয়েছে, সাক্ষাৎকারের ধরনেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।

৫২০০ থেকে ১৮, শেষ লড়াই অযোধ্যায়

রামমন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রথম বার পূর্ণ সময়ের CEO নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাইয়ে আবেদন চাওয়ার পর জমা পড়ে প্রায় ৫২০০ আবেদন। প্রাথমিক বাছাই শেষে ১৮ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। নির্বাচনী কমিটি তাঁদের মধ্য থেকে তিন জনের নাম সুপারিশ করবে। শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাস্ট।

এই ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। ফলে শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় নয়, বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও এই নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাক্ষাৎকারের কিছু প্রশ্ন সেই নিয়োগ-প্রক্রিয়াকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

‘শিখা আছে? পৈতে পরেন?’

প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ধর্মাচরণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিখা রাখেন কি না, পৈতে পরেন কি না, নিরামিষ না আমিষ খান, মদ্যপান করেন কি না—জানতে চাওয়া হয়েছে এমনই নানা তথ্য। নিজেকে ‘নিষ্ঠাবান হিন্দু’ বলে মনে করেন কি না, রামের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস কতটা—সেই প্রশ্নও এসেছে।

ইন্টারভিউয়ের আগে প্রার্থীদের একটি ৩৪ দফার ফর্ম পূরণ করতে হয়েছিল বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সেখানে পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।

ফলে CEO বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়ায় একই সঙ্গে দু’টি মাপকাঠি সামনে এসেছে—এক, প্রশাসক হিসেবে তিনি কতটা দক্ষ; দুই, রামমন্দিরের ধর্মীয় আবহ ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাপন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই CEO-র কাজ কী?

এখানে আসল প্রশ্ন, রামমন্দিরের CEO পদটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

অযোধ্যার রামমন্দির এখন আর শুধুমাত্র একটি নির্মীয়মাণ বা সদ্য প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের প্রশাসনিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম, নিরাপত্তা, দর্শনের ব্যবস্থা, কর্মী পরিচালনা, পরিষেবা, অনুদান, সম্পত্তি, হিসাবরক্ষণ—সব মিলিয়ে এর প্রশাসনিক পরিসর বিশাল।

ভবিষ্যতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। অযোধ্যাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে বৃহত্তর ধর্মীয় পর্যটন পরিকাঠামো। ফলে মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন
দেশের কর্মক্ষেত্রে কমছে মহিলাদের অংশগ্রহণ!
আরাকুর সবুজ আর প্যারিসের মুনাফা
হানি ট্র্যাপ! মোবাইলের পর্দায় নতুন গুপ্তযুদ্ধ

এই জায়গাতেই CEO-র ভূমিকা। তাঁকে কার্যত একটি বিশাল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পেশাদার প্রশাসনিক মুখ হয়ে উঠতে হবে।

শুধু ‘রামভক্ত’ হলেই চলবে না

নিয়োগের শর্তগুলিও তাই নজরকাড়া। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হওয়া এবং প্রশাসন বা ম্যানেজমেন্টে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন ছিল। অযোধ্যায় থেকে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিও চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগের মেয়াদ তিন বছর।

তার পাশাপাশি প্রার্থীকে হিন্দু ধর্মের অনুশীলনকারী এবং রামভক্ত হওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুরু থেকেই এই পদটির ক্ষেত্রে ‘পেশাদার প্রশাসক’ এবং ‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই ব্যক্তি’—দুই পরিচয়কে পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

কেন এখন CEO?

সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। রামমন্দিরের অনুদান ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের আবহে ট্রাস্ট পূর্ণ সময়ের CEO নিয়োগের পথে হাঁটছে। মন্দিরে বিপুল পরিমাণ দান আসে। রয়েছে সম্পত্তি ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কার্যকলাপ। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, হিসাব, অনুদানের ব্যবহার এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও সুসংহত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ সামনে এসেছে।

অর্থাৎ, CEO নিয়োগের পিছনে শুধু ‘মন্দির চালানো’ নয়—একটি দ্রুত বেড়ে ওঠা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে পেশাদার কাঠামোয় নিয়ে আসার প্রয়োজনও রয়েছে।

আর সেখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন

পৈতে পরা, শিখা রাখা, আমিষ খাওয়া কিংবা মদ্যপান করা—এগুলি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মাচরণের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু একজন প্রশাসকের দক্ষতা কি তাঁর খাদ্যাভ্যাস বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় চিহ্ন দিয়ে বিচার করা যায়?

অন্য দিক থেকে দেখলে যুক্তিটাও রয়েছে। রামমন্দির নিছক কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়। এটি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে। সেই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের শীর্ষে থাকা ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ট্রাস্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে।

দুই যুক্তির মাঝখানেই দাঁড়িয়ে অযোধ্যার CEO নির্বাচন

এক দিকে ২০ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, অন্য দিকে পৈতে ও শিখা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এক দিকে অনুদান ও সম্পত্তির হিসাব, অন্য দিকে আমিষ-মদ নিয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপনের খোঁজ।

শেষ পর্যন্ত ১৮ জনের মধ্যে কে তিন জনের তালিকায় জায়গা পান, আর তাঁদের মধ্য থেকে কাকে বেছে নেয় ট্রাস্ট—সেটাই এখন দেখার। তবে যে প্রশ্নগুলি দিয়ে এই বাছাই-পর্ব শুরু হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই আরও বড় একটি বিতর্কের দরজা খুলে দিয়েছে।

রামমন্দিরের প্রশাসনের শীর্ষে কেমন মানুষকে চান ট্রাস্ট—দক্ষ প্রশাসক, নিষ্ঠাবান রামভক্ত, না কি দু’য়ের সমন্বয়? অযোধ্যার CEO নিয়োগের ফলাফলে সেই প্রশ্নেরই উত্তর মিলতে পারে।

Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.

google Source Icon
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক
দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক

অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।

আরও পড়ুন

sidebar-ad

অন্যান্য