

গাজায় 'দ্য লায়ন কিং'-এর স্ক্রিনিং। ছবি - Google
৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কংক্রিটের চাঙড়, ধসে পড়া বহুতল আর যুদ্ধের পোড়া গন্ধ। তার মাঝেই এক চিলতে খোলা জায়গায় পাতা হয়েছে সাদা পর্দা। অস্তগামী সূর্যের নরম আলোয় গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে একদল শিশু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সেই পর্দার দিকে—সেখানে চলছে ডিজনির কালজয়ী অ্যানিমেশন ছবি ‘দ্য লায়ন কিং’।
যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে শৈশবের এই নিষ্পাপ মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন আলোকচিত্রী ওমর আশতাউই। সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্যালেস্টাইন মিশনের এক্স হ্যান্ডলে ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই তা বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় যখন হাসতে ভুলে গেছে গাজার শিশুরা, তখন তাদের মুখে এক চিলতে আনন্দ ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে ‘মাশারাউই ফান্ড ফর ফিল্মস অ্যান্ড ফিল্মমেকার্স’। সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ সিনেমা উদ্যোগ ‘লিটল উইংস’-এর আওতায় খোলা আকাশের নিচে ১৯৯৪ সালের এই জনপ্রিয় ছবিটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।
ফোটোগ্রাফার ওমর আশতাউই জানিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শিশুদের ট্রমা আর ধ্বংসযজ্ঞের নির্মম পরিবেশ থেকে সামান্য স্বস্তি দিতেই এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "দুঃখ-কষ্টের অতল সাগরে এটি গাজার শিশুদের ক্ষণিক আনন্দ আর স্বস্তির এক বিরল মুহূর্ত।"
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজায় শিশুরা এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, অনাহার এবং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা তাদের শৈশবকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের ফলে গাজায় হাজার হাজার শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সহিংসতায় প্যালেস্তাইনের শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা এবং ঘোষণার পরেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। ইউনিসেফের (UNICEF) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেদার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে যুদ্ধবিরতি প্রতিদিন কোনো না কোনো শিশুর প্রাণহানি থামাতে পারে না, তা শিশুদের সুরক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ। শত শত শিশু এখনো হাসপাতালে ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে, আর গাজার শিশুরা আজও সেই প্রতিশ্রুত শান্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।
যুদ্ধ যেখানে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে, সেখানে এক টুকরো সাদা পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠা সিম্বা আর মুফাসার গল্প এই শিশুদের মনে করিয়ে দিচ্ছে বেঁচে থাকার আশা। ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে একসঙ্গে হেসে ওঠা এই নিষ্পাপ চোখগুলো পুরো বিশ্বকে যেন নীরবে এক প্রশ্নই ছুড়ে দিচ্ছে—শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার দায় কার?
Click here to add The Fourth Axis as a trusted and preferred source on Google.
অভিজ্ঞ, সংবেদনশীল, অনুসন্ধিৎসু এবং সমকালীন ও আগামী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কর্মঠ কিছু তরুণ-তরুণী নিয়ে দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক। ভারতীয় বাঙালি সংস্কৃতির পথ ধরে গ্লোবাল লেন্স দিয়ে দুনিয়াকে দেখে সকলের সামনে পরিবেশন করাই তাঁদের লক্ষ্য। মিলেনিয়াল-জেনX-এর অভিজ্ঞতা ও জেনZ-র উৎসাহর যথাযথ রসায়নে গঠিত 'দ্য ফোর্থ অ্যাক্সিস ডেস্ক'।
